বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মরণোত্তর গার্ড অব অনার- এ নারী কর্মকর্তা না রাখার বিষয়ে যে সুপারিশ এসেছে তা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পরিপন্থি বলে মন্তব্য করেছে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি।

জাতীয় সংসদের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির ১৯তম বৈঠকে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মরণোত্তর গার্ড অব অনার- এ নারী কর্মকর্তাদের উপস্থিতি নিয়ে আপত্তি তোলা হয়। পরে নারী কর্মকর্তাদের সরকারি এই আনুষ্ঠানিকতায় না রাখার সুপারিশ করেছে।

স্থায়ী কমিটির এই সুপারিশের প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ অর্থনীতিবিদ সমিতি বলেছে, এখানে ধর্মীয় ভাবাবেগকে টেনে আনা মৌলবাদী চিন্তা-চেতনা উৎসারিত এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও চেতনার পুরোপুরি বিরোধী। 

গার্ড অব অনারে নারী কর্মকর্তাদের বাদ দেওয়ার সুপারিশের নিন্দা জানিয়ে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি বলেছে, নারী প্রসঙ্গ তুলে অহেতুক ধর্মীয় বিতর্ক সৃষ্টি করে সরকারি কোনো কার্যক্রম থেকে নারীকে দূরে সরিয়ে রাখার যেকোনো পরিকল্পনা ও উদ্যোগ কখনও গ্রহণযোগ্য নয়। এতে করে মানুষে মানুষে সামাজিক অসাম্য বিলোপ করার সংবিধানের অঙ্গীকার ভূলুণ্ঠিত করা হবে। যারা এ ধরণের চিন্তা-চেতনা পোষণ করেন, তারা কোনোভাবেই মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হৃদয়ে ধারণ করেন না। তবে তাদের জেনে রাখা উচিৎ, তাদের আদর্শিক রাষ্ট্র পাকিস্তানে নারীরা নিয়মিতই মৃতের জানাজায় অংশ নিয়ে থাকেন। 

বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, জানাজার বাইরে সরকারের একটি আনুষ্ঠানিকতা নিয়ে অহেতুক ধর্মীয় বিতর্ক সৃষ্টি করাকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও শোভন বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রচেষ্টায় নিয়োজিত বাংলাদেশে অর্থনীতি সমিতি মনে করে গভীর উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ষড়যন্ত্রমূলক।

প্রতিবাদলিপিতে স্বাক্ষর করেছেন সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. আবুল বারকাত, সহ সভাপতি এ জেড এম সালেহ্, অধ্যাপক হান্নানা বেগম, সাধারণ সম্পাদক জামালউদ্দিন আহমেদসহ অন্য সদস্যরা।