বাংলাদেশের মাটিতে পাকিস্তানি সৈন্যদের নির্বিচার গণহত্যা শুরুর প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিক সাইমন ড্রিং মৃত্যুবরণ করলেন। সাইমন একাধারে ছিলেন বিশ্বখ্যাত সাংবাদিক, একই সঙ্গে খ্যাতিমান টিভি উপস্থাপক ও তথ্যচিত্র নির্মাতা। মুক্তিযুদ্ধের সময় সাইমনের সঙ্গে আমার পরিচয় ঘটেনি, যদিও গেরিলা যুদ্ধে যুক্ত থেকেও রণাঙ্গনের সাংবাদিকতা করার সুযোগ ঘটেছিল আমার। তার সঙ্গে পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা ঘটে অনেক পরে, যখন দেশের প্রথম বেসরকারি একুশে টেলিভিশন গড়ে তোলার দায়িত্বপ্রাপ্ত হন, নব্বই দশকের শেষ প্রান্তে। আমি তখন জাতীয় সংবাদ সংস্থা বাসস-এর প্রধান সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করি বলে ইটিভি ও বাসস অফিসে কথা হয় অনেকবারই। শিল্পী শাহাবুদ্দিনের আমন্ত্রণে তার কলাবাগানের বাড়িতেও আড্ডা বসে।
সাইমন ড্রিং নামটি বাংলাদেশের রক্তাক্ত জন্ম-ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আছে। কারণ ঢাকায় নিরস্ত্র বাঙালি জনতার ওপর পাকিস্তানি বাহিনীর নির্বিচার গণহত্যার সাক্ষী ছিলেন এবং সে খবর সবিস্তারে তিনিই বিশ্ববাসীর সামনে প্রথম তুলে ধরেছিলেন। কাজেই জাতি হিসেবে এই সাংবাদিক আমাদের কৃতজ্ঞতার পাশে আবদ্ধ করেছেন।
১৯৭১-এর মার্চ মাসের প্রবল উত্তেজক সময়ে লন্ডনের ডেইলি টেলিগ্রাফের তরুণ সাংবাদিক সাইমন ছিলেন কম্বোডিয়ায়। পূর্ব পাকিস্তানের পরিস্থিতি গুরুতর হওয়ায় তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। তারপর থেকে ৭ মার্চের বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণসহ প্রতিটি বড় ঘটনার ওপর তিনি রিপোর্ট ছাপতে থাকেন ডেইলি টেলিগ্রাফে। ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনীর পরিকল্পিত গণহত্যা শুরুর আগে সামরিক কর্তৃপক্ষ ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অবস্থানরত বিদেশি সাংবাদিককে দেশ থেকে বহিস্কার করে। এমনকি তাদের সবাইকে হোটেল থেকে ধরে-বেঁধে এয়ারপোর্টে নিয়ে জোর করে প্লেনে তুলে দেয়। সামরিক বাহিনী চায়নি কয়েক ঘণ্টা পর যে হত্যাযজ্ঞ শুরু হবে, তার কোনো খবর বিশ্ববাসী জানতে পারুক। হোটেলের ছাদের এক কোণে জীবন বাজি রেখে লুকিয়ে থাকেন সাইমন। একইভাবে থাকেন অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস-এপির ফটোগ্রাফার মাইকেল লোঁরা। ২৭ মার্চ কারফিউ উঠে গেলে সব বিপদ উপেক্ষা করে তারা দু'জন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য এলাকায়, যেখানে উন্মত্ত সৈন্যরা ২৫ ও ২৬ মার্চ নির্বিচার আগুন দিয়েছে, গণহত্যা চালিয়েছে তার ছবি ও তথ্য সংগ্রহ করেন। এই দু'জন এরপর সেনাবাহিনীর তল্লাশি ও জেরার মুখে ঢাকা থেকে ব্যাঙ্কক পৌঁছেন। সাইমন পরে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট লেখেন তার পত্রিকার জন্য, যা 'ডেইলি টেলিগ্রাফ'-এ প্রকাশিত হয় ৩০ মার্চ ১৯৭১।
পশ্চিমা দেশীয় সাংবাদিকদের মধ্যে যারা বাংলাদেশের শরণার্থী সংকটসহ মুক্তিযুদ্ধের কর্মকাণ্ড নিয়ে সরাসরি রিপোর্ট করেছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন সাইমন ড্রিং, সিডনি শনবার্গ, মার্ক টালি, ডেন কগিন, কলিন স্মিথ, পিটার হেজেলহার্স্ট, টনি ক্লিফটন, মাইকেল লোঁরা, আরনল্ড জেটলিন, সিরিল জন, মিশেল রবার্ট, লুই হেরেন, নিকোলাস টমালিন, ডিটার আর কান ও পিটার আর হেনরিস।
'টাইম' ম্যাগাজিনের ডেন কগিনকে ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানের সৈন্যরা জোর করে দেশ থেকে বের করে দেয়। এরপর তিনি পুনরায় বাংলাদেশে প্রবেশ করেন, মুক্তিবাহিনীর বিভিন্ন প্রতিরোধ সংগ্রামের ওপর প্রতিবেদন লেখেন। তার লেখা 'টাইম' ম্যাগাজিনের ১৯ এপ্রিল ১৯৭১-এর 'দ্য ব্যাটল অব কুষ্টিয়া' প্রতিবেদনটি ছিল সাড়া জাগানো। এ ছাড়াও অ্যান্থনি ম্যাসকারেনহাসের সাহসী ভূমিকার কথা সশ্রদ্ধ চিত্তে স্মরণ করতে হবে। এই পাকিস্তানি সাংবাদিক করাচির 'মর্নিং নিউজ' পত্রিকার সহকারী সম্পাদক ছিলেন। সামরিক সরকার পাকিস্তানের আটজন সাংবাদিককে তাদের পক্ষে লেখার জন্য এপ্রিল মাসে এক সফরে ঢাকায় নিয়ে আসে। সরেজমিন পর্যবেক্ষণের পর ম্যাসকারেনহাস বিবেকের দংশনে ভুগতে থাকেন এবং একসময় পালিয়ে লন্ডনে চলে যান। কাজটা তার ব্যক্তিজীবনের এক বড় বিপ্লব ছিল সন্দেহ নেই। কারণ তার গোটা পরিবার তখন করাচিতে। লন্ডনে পৌঁছে তিনি 'সানডে টাইমস' পত্রিকার সম্পাদক হেরাল্ড ইভান্সের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং 'জেনোসাইড' শিরোনামে 'সানডে টাইমস'-এর ১৩ জুন ১৯৭১ সংখ্যায় বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেন, যা বিশ্ব বিবেক নাড়িয়ে দেয়।
১৯৭১-এর ৯ মাসের নারকীয় হত্যাযজ্ঞ, মানবিক ও রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের খবর প্রচারের ক্ষেত্রে ব্যাপক ভূমিকা রাখে ভারতের সংবাদপত্র। দেশটির প্রতিটি সংবাদপত্র কার্যত বাংলাদেশের সংবাদপত্রে পরিণত হয়। ফলে বাংলাদেশ প্রশ্নে ভারতবাসী দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করে এবং বাংলাদেশের জাতীয় যুদ্ধকে নিজেদের নৈতিক যুদ্ধ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
'স্টেটসম্যান'-এর অমূল্য গাঙ্গুলি, অশেষ চক্রবর্তী, মনোজ মিত্র, মানস ঘোষ, সত্যব্রত চক্রবতী; 'আনন্দবাজার'-এর অসীম দেবরায়, তুষার পণ্ডিত, অরুণ চক্রবর্তী; 'যুগান্তর'-এর অনিল ভট্টাচার্য (সিনিয়র) এবং আগরতলার অনিল ভট্টাচার্য; 'টাইমস অব ইন্ডিয়া'র সুভাষ চক্রবর্তী, কীরিট ভৌমিক; 'পিটিআই'-এর মধুসূদন গুহরায় ও মানিক চৌধুরী, 'আকাশবাণী'র সনৎ মুখার্জি এবং 'ইউএনআই'-এর কে কে চাড্ডা- তাদের প্রায় সবাইকেই আমি ব্যক্তিগতভাবে জানি, যারা তাদের পেশাগত জীবনের একটি বড় অধ্যায় কাটিয়েছেন আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সাংবাদিকতায় নিজেদের যুক্ত করে।
'আকাশবাণী' কলকাতা কেন্দ্রের ভূমিকা ছিল অনন্যসাধারণ। দীপেশ ভৌমিক, প্রণবেশ সেন, উপেন তরফদার, দিলীপ সেনগুপ্ত, দেবদুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়সহ আরও কয়েকজনের নাম মনে পড়ে, যারা মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য ভূমিকা রাখেন। 'আকাশবাণী' কলকাতা কেন্দ্রের প্রাত্যহিক বাংলা সংবাদ ও 'সংবাদ পর্যালোচনা' মুক্তিবাহিনী ও বাংলাদেশের মানুষের মনোবল বাড়িয়েছে বহুগুণ। নিরবচ্ছিন্ন এই সমর্থনের কারণেই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রতি ভারত তথা বিশ্ব সমর্থনের ভিত শক্তশালী হয়েছে।
এ ছাড়াও ব্রিটেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, সোভিয়েত ইউনিয়ন, হাঙ্গেরি, যুগোস্লাভিয়া, জাপান, জার্মানি, কানাডা, সুইডেন, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশের পত্রপত্রিকার ভূমিকাও প্রশংসাযোগ্য। এসব দেশের প্রধান প্রধান সংবাদপত্র, বেতার ও টেলিভিশন পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে এবং ভারতের মাটিতে আশ্রয় নেওয়া এক কোটি শরণার্থীর দুঃখ-দুর্দশার প্রতিবেদন প্রচার করেছে।
সাইমন ড্রিং তার দীর্ঘ পেশাগত জীবনে অনেকবার ঝুঁকি নিয়েছেন। প্রত্যক্ষ করেছেন এশিয়া ও আফ্রিকায় একাধিক বড় যুদ্ধ, এমনকি ইরানের আয়াতুল্লাহ খোমেনির ইসলামী বিপ্লব পর্যন্ত। ১৬ জুলাই সাইমনের মৃত্যুর পর তার ২৬ বছরের জীবনসঙ্গী ফিওনা ম্যাকফারসন ফেসবুকে একটি নোট লেখেন। লেখাটি এতই আবেগপূর্ণ যে, পড়তে গিয়ে অশ্রু সংবরণ করা কঠিন। ফিওনা লেখেন- তারা খুব শিগগিরই রোমানিয়া থেকে ফ্রান্সে যাবার চিন্তা করছিলেন, যাতে সুন্দর একটা অবসর জীবন কাটাতে পারেন। সাইমন একই সঙ্গে সেখানে তার স্মৃতিকথা লেখার কাজটিও শেষ করতে চেয়েছিলেন। কারণ, জীবন ছিল প্রচুর ঘটনার সাক্ষী। বাংলাদেশ ছিল তার জীবনের ভালোবাসার নাম। চলতি বছরের শেষে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে একটি কাব্য করতে চেয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত সেটা হয়ে উঠল না।
বাংলাদেশের ৫০ বছর পূর্তিতে গণহত্যার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন সাইমন এভাবে- 'মানুষের জীবনে সত্যিকার অর্থে স্পষ্টভাবে মনে রাখার মতো গভীর অনুভূতির মুহূর্ত কমই আসে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ ঢাকার রাতটা ঠিক তেমন, একদিকে আমার জীবনের সবচেয়ে ভয়ানক সময়ের একটি, আরেক দিকে আমার সাংবাদিকতা পেশার কর্মবহুল এক অধ্যায়। ৫০ বছর পর, আজও সেই ভয়াবহ রাতের শব্দ আর দৃশ্যগুলো দেখি, আমি যার সাক্ষী, আমাকে এমন করে তাড়া করে ফেরে যেন তারা সেদিনের মতোই স্পষ্ট। ২৫ মার্চ বিকেলে আমি শ দুয়েক বিদেশি সাংবাদিকের সঙ্গে হোটেলে আটকা পড়েছিলাম। ঢাকায় সেদিন কারফিউ জারি হলো, সাংঘাতিক কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছিল। রাত ১১টা বাজার খানিক আগে দেখলাম পাকিস্তানি কিছু ট্যাঙ্ক আর ট্রাক ভরে সৈন্য শহরের ভেতরের দিকে যাচ্ছে। যেতে যেতে হোটেলের সামনের রাস্তার প্রতিবন্ধকগুলো গুঁড়িয়ে দিল। মধ্যরাতের সামান্য পরেই আমি সেনাবহর দেখতে পেলাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দিক থেকে বন্দুক আর মেশিনগানের গগনবিদারী আওয়াজ আসতে লাগল। ভোরের সামান্য আগে আকাশ আগুনের হলকায় জ্বলে উঠল, যে আগুন তখন পুরো শহরটাকে পুড়িয়ে ফেলছিল। তার পরের দিন আমি সেনাবাহিনীর তৈরি করা ঘেরাটোপ গলিয়ে বেরোতে পারলাম- বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসে, ছাত্রাবাসের বাইরে আর চত্বরে যত্রতত্র গুলি খাওয়া ছাত্রের লাশ পড়ে থাকতে দেখলাম। কিছু পরিবারকে দেখলাম নিজ বাড়িতে পুড়ে কয়লা হয়ে পড়ে আছে। বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামের সমাপ্তি আনতে ২৫ ও ২৬ মার্চ 'অপারেশন সার্চলাইট' নামে পাকিস্তান সেনাবাহিনী যে পরিকল্পিত হত্যাযজ্ঞ চালায়, প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায় তার যতটুকু কথায় প্রকাশ করা যায়, তার চেয়ে আমি অনেক বেশি প্রত্যক্ষ করেছি। আমার প্রতিবেদন ও মিশেলের তোলা ছবি, দুই মিলে সেই প্রথম মার্চের কালরাত্রিতে কী হয়েছিল, সে সত্য প্রকাশ করল। কিন্তু আমি বড় এক ভুল করে বসলাম। প্রতিবেদনে লিখে ফেললাম যে কেবল ঢাকাতেই অন্তত সাত হাজার মানুষের মৃত্যুর ভয়াবহতার কারণে বাংলাদেশে স্বাধীনতার সংগ্রাম হয়তো মাঝপথেই শেষ হয়ে যাবে। আমার ধারণা ভ্রান্ত প্রমাণিত হয়েছিল।'
ডেইলি টেলিগ্রাফের সাড়া জাগানো প্রতিবেদনটির কিছু অংশ এ রকম- "২৫ মার্চ মধ্যরাতের পর ঢাকা মহানগরী মুহুর্মুহু তোপধ্বনিতে প্রকম্পিত হতে থাকে, সর্বত্র বোমা-বারুদের তীব্র গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। টিক্কা খান বর্বর সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে নির্মমভাবে গণবিদ্রোহ দমনে সচেষ্ট হয়ে ওঠে। এসব অভিযানে নির্বিচারে ভারী আর. আর. গান ব্যবহার করা হয়। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে তৈরি আমেরিকান ট্যাঙ্ক ও এক কলাম সৈন্য ঢাকা ইউনিভার্সিটি ঘিরে ফেলে। তারা ব্রিটিশ কাউন্সিল লাইব্রেরিতে ঢুকে পড়ে এবং সেটাকে ছাত্রাবাসে গোলাগুলি চালানোর ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার করে। আকস্মিক গোলাবর্ষণে ইকবাল হলেই ২০০ ছাত্র নিহত হয়। একদিকে হলগুলোর দিকে উপর্যুপরি শেল নিক্ষেপ করা হতে থাকে, অন্যদিকে চলতে থাকে মেশিনগানের গুলি। দু'দিন পর্যন্ত পোড়া ঘরগুলোর জানালা-দরজায় মৃতদেহ ঝুলে থাকতে দেখা যায়। পথেঘাটে মৃতদেহ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকে। অন্য একটি হলের মৃতদেহগুলোকে সৈন্যরা ত্বরিত গর্ত খুঁড়ে গণকবর দেয় এবং পরে ট্যাঙ্ক চালিয়ে সমান করে। ইউনিভার্সিটি-সংলগ্ন বসবাসকারী সাধারণ মানুষও এই আগুনের শিকার হয়। রেললাইন-সংলগ্ন বস্তিগুলোকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়। এই ঘটনার দু'দিন পরও ইকবাল হলের যত্রতত্র মৃতদেহ পড়ে থাকে। মৃতদেহ পড়ে থাকে আশপাশের জঙ্গল ও পুকুরে। শিক্ষকদের মধ্যে সাতজন মৃত্যুবরণ করেন নিজেদের বাড়িতেই। সেনাবাহিনী এসব মৃতদেহ বেশিরভাগই সরিয়ে ফেলে। রেললাইনের দু'পাশ দিয়ে গড়ে ওঠা বস্তিগুলোকে নির্বিচারভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। দুই দিন পর যখন সত্যিকার ভয়াবহতা বোঝা গেছে, তখন অনেক মৃতদেহই দেখা গেছে কম্বল এবং কাঁথা মুড়ি দেওয়া, ঠিক যেন তারা ঘুমিয়ে আছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজও সেনাবাহিনীর নির্বিচার গোলাগুলি থেকে রক্ষা পায়নি। রক্ষা পায়নি পাশের একটি মসজিদও। আর্মি কমান্ডোদের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার আগে শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর 'অপারেশন সার্চলাইট' সংযুক্ত পাকিস্তানের কফিনে শেষ পেরেক।"
আমাদের দুর্ভাগ্য যে, সাইমন ড্রিং বাংলাদেশের পরম বন্ধু, তাকেই বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতাসীন হয়ে মাত্র কয়েক ঘণ্টার নোটিশে দেশ ছাড়তে বাধ্য করে! বাসস থেকে আমিও চাকরিচ্যুত হলাম প্রায় একই সময়। মনে পড়ে, অসংখ্য মানুষ আমরা সেদিন সেগুনবাগিচার মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে সমবেত হয়েছিলাম অকৃত্রিম এই বন্ধুকে বিদায় জানাতে। অভিবাদন তোমাকে সাইমন ড্রিং।


মুক্তিযোদ্ধা, লেখক ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষক