ফেসবুক স্ট্যাটাসে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত আনার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আইন বিভাগের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জনের বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। বাংলাদেশ হিন্দু যুব পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অমিত ভৌমিক শনিবার রাজধানীর শহবাগ থানায় এ জিডি করেন। শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মওদুদ হাওলাদার বিষয়টি জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, শনিবার এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। জিডি হয়েছে, তবে এখনও মামলা হয়নি। জিডিটা আমরা সাইবার ক্রাইমে পাঠিয়েছি। তারা যাচাই-বাছাই করে মতামত দিলে পরবর্তীকালে আইনগতভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, অধ্যাপক হাফিজুর রহমান কার্জন কুরুচিপূর্ণ মানহানিকর সর্বোপরি সনাতন ধর্মের ভগবানকে হেয়প্রতিপন্ন করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। এটি ইতোমধ্যে ভাইরাল হয়ে গেছে। যা সারা বিশ্বে কোটি কোটি মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে ব্যাপক আঘাতের সামিল।

এ ঘটনায় এক বিবৃতিতে ‘নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে’ তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ।

সংগঠনটির সভাপতি ঊষাতন তালুকদার, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নিমচন্দ্র ভৌমিক ও নির্মল রোজারিও ও সাধারণ সম্পাদক রাণা দাশগুপ্ত রোববার এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে ভগবান হচ্ছে সৃষ্টিকর্ত। তাই ভগবানকে নিয়ে এ ধরনের পোস্ট দেওয়ার মাধ্যমে হাফিজুর রহমান কার্জন জেনে শুনে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেননি বা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা চালাননি, শিক্ষক হিসেবে নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধও করেছেন।

এদিকে হাফিজুর রহমান কার্জনের পদত্যাগের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামানের কাছে শনিবার স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ হিন্দু আইনজীবী পরিষদ।

এ বিষয়ে উপাচার্য বলেন, বিষয়টি আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। ফেসবুকে লেখার বিষয় তো, প্রক্টরকে বলা হয়েছে, বিষয়টি যথাযথভাবে দেখতে।

এদিকে ওই স্ট্যাটাস মুছে দিয়ে রোববার আরেকটি স্ট্যাটাসে ক্ষমা চেয়েছেন অধ্যাপক হাফিজুর রহমার কার্জন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘অনেকে ব্যক্তিগত ও সামষ্টিকভাবে আমার পোস্টটিতে আহত হয়েছেন। যারা আমার পোস্টটিতে আহত হয়েছেন ও কষ্ট পেয়েছেন, তার জন্য আমি দুঃখ প্রকাশ করছি।’

অভিযোগ ও পদত্যাগের দাবির বিষয়ে অধ্যাপক কার্জন বলেন, পদত্যাগ করার মতো কোনো অপরাধ আমি করিনি। আমি যেটা লিখেছি, এসব বিষয় নিয়ে অনেক ম্যাটাফোরিক গল্প ও গাথা প্রচলিত আছে। এসব বিষয় ফেসবুক বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই শেয়ার করে থাকেন।

তিনি বলেন, আমার এটাতে যে এ রকম প্রতিক্রিয়া হবে, সেটা আমার থারনায় ছিল না। কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে আমি দুঃখ প্রকাশ করেছি এবং ক্ষমা চেয়ে পোস্ট দিয়েছি।