নারী নির্যাতন মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও সবুজবাগ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক চিত্তরঞ্জন দাস। সোমবার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চান তিনি।

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে পাঁচ হাজার টাকা মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন ঢাকা মহানগর হাকিম মাহমুদা আক্তার। এক তরুণীর সঙ্গে তার একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পরে সবুজবাগ থানায় মামলাটি করা হয়।

আদালতে চিত্তরঞ্জনের পক্ষে শুনানি করেন ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আব্দুল বাতেন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মামুন প্রমুখ। এদিকে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে জামিনের বিরোধিতা করা হয়।

গত ১১ সেপ্টেম্বর চিত্তরঞ্জন দাসের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন ভুক্তভোগী ওই তরুণী। তিনি নিজেকে একজন গণমাধ্যমকর্মী বলে এজাহারে উল্লেখ করেছেন।

মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, রাজারবাগ কালীবাড়ি রাস্তা সংলগ্ন ওই তরুণীর শ্বশুরের চায়ের দোকান রয়েছে। সেই দোকান সংস্কার করতে গেলে কাউন্সিলর ৪০ হাজার টাকা দাবি করেন। এ বিষয়ে সত্যতা যাচাই করতে কাউন্সিলরের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি রাত ৯টা থেকে সাড়ে ৯টার মধ্যে তাকে কাউন্সিলর কার্যালয়ে যেতে বলেন। এরপর স্বামীসহ তিনি কাউন্সিলরের কার্যালয়ে যান।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ‘৪০ হাজার টাকা প্রসঙ্গে কয়েকটি কথা বলার পর কাউন্সিলর আমায় পাশের রুমে যেতে বলেন। রুমে প্রবেশ করে দরজা বন্ধ করে দেন। আমাকে বসা থেকে উঠে দাঁড়াতে বলেন। আমি তার কথা মতো উঠে দাঁড়ালে তিনি আমায় জড়িয়ে ধরেন এবং স্পর্শকাতর স্থানে স্পর্শ করেন। তিনি আমার শ্লীলতাহানি করেন। আমাকে নানা ধরনের অঙ্গভঙ্গি করেন এবং আমায় কু-প্রস্তাব দেন। মানসম্মানের ভয়ে তখন কোনো চিৎকার করি নাই। পরের দিন আমায় পুনরায় কু-প্রস্তাব দিলে আমি হ্যাঁ বলে কোনো রকম নিজেকে রক্ষা করি।’

রোববার ঢাকা মহানগর হাকিম এজাহার গ্রহণ করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে করা মামলাটি তদন্ত করে আগামী ১৪ অক্টোবর প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সংশ্নিষ্ট থানার পুলিশকে নির্দেশ দেন।