হাসপাতালে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে এক নারীকে সৌদি আরবে নিয়ে যাওয়ার পর ‘জোরপূর্বক’ গৃহকর্মী হিসেবে নিয়োগ ও তারপর ‘শারীরিক নির্যাতনের’ অভিযোগ উঠেছে ইফতি ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল নামে একটি রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে। 

বৃহস্পতিবার সকালে সেই নারী দেশে ফিরে আসার পর তার পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ আনা হয়েছে, আসামিপক্ষ ‘মামলা তুলে নিতে চাপ দিচ্ছে।’

স্ত্রীকে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সৌদি আরবে হাসপাতালে চাকরি না দিয়ে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে, তাকে মারধর করা হচ্ছে- অভিযোগে র‌্যাবের কাছে অভিযোগ করেন ওই নারীর স্বামী। 

সেই মামলার পর গত সোমবার র‌্যাব হাবিবাকে সৌদি পাঠানো রিক্রুটিং এজেন্সি ইফতি ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের মালিক মোঃ রুবেল, আল-জাহাঙ্গীর এস্টাবলিশমেন্ট নামের আরেক প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থাপক মোবারক হোসেন এবং তাদের সহযোগী আক্কাস ব্যাপারী ও তাহেরকে গ্রেপ্তার করে।

সেই নারী সৌদি থেকে পাঠানো ভিডিওতে জানান, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী চাকরি না পেয়ে গৃহকর্মীর কাজ করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে পালিয়ে গিয়ে পুলিশের হাতে ধরা দেওয়ার পর রুবেলের লোকজন তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে একটি অফিসে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে মারধর করে। পরে আরেক তাকে যে বাড়িতে কাজে দেওয়া হয়। সেখানেও তাকে মারধর করা হত, খেতে দিত না। দেশে ফিরে আসার আকুতি জানান তিনি। 

গত ৭ জুন তিনি সৌদি গিয়েছিলেন বলে জানান সমকালকে। 

সেই নারী সৌদি আরব থেকে বৃহস্পতিবার সকালে দেশে ফিরেছেন। তাকে বিমানবন্দরের গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে না নিয়ে পুলিশ থানায় নিয়ে যায়। 

পুলিশ বলছে, সেই নারীর স্বামীর অনুরোধেই তাকে বিমানবন্দরে ‘নিরাপত্তা’ দেওয়া হয়েছে। এরপর তাকে মামলার বিষয়ে কথা বলতে পল্টন থানায় আনা হয়। সেখান থেকে আদালতে নেওয়া হয়। সেখানে মহানগর হাকিম শাহীনুর রহমানের আদালতে জবানবন্দি দেওয়ার পর তাকে স্বামীর জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।

তবে সে নারীর স্বামী সমকালকে বলেন, ‘আমি পুলিশের কাছে নিরাপত্তা চাইনি। বরং পুলিশ বুধবার রাতে আমার কাছে জানতে চান- সে কখন দেশে ফিরবে। সকালে আমি বিমানবন্দরে গিয়ে দেখি, পুলিশ এসেছে তাকে নিতে। পুলিশের সঙ্গে তার করা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া জনশক্তি ব্যবসায়ী মো. রুবেলের ভাই। তবে রুবেলের ভাইয়ের নাম জানি না আমি।’

তিনি আরও বলেন, ‘পুলিশ আমার স্ত্রীকে বিমানবন্দর থেকে যে মাইক্রোবাসে তুলে নেয়, তার দরজা বন্ধ করে দেয় রুবেলের ভাই। আরও ১০-১৫ জন ছিলেন। তারা পুলিশের সামনেই চাপ দিতে থাকে মামলা তুলে নিয়ে সমঝোতা করতে। হাবিবাকে বলা হয়, সে যেন আদালতে গিয়ে বলে রুবেল নামে কাউকে চিনে না। রুবেল নির্দোষ। তাকে থানার বাইরে এনে বলা হয়, মামলা তুলে না নিলেও সাত দিনের মধ্যে সব আসামির জামিন হয়ে যাবে। এরপর কে হাবিবা ও বশিরকে বাঁচাবে।’

তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন থানার উপপরিদর্শক ফরহাদ মাতুব্বর সমকালকে বলেন, ‘পুলিশ কাউকে মামলা তুলে নিতে চাপ দেয়নি। দেওয়ার প্রশ্নও আসেনি। সে নারীর স্বামীর অনুরোধেই নিরাপত্তা দিয়ে থানায় নিয়ে আসে। সে সময়ে তার সঙ্গে আসামি পক্ষের কেউ যায়নি।’ 

তারা কেউ আলাদাভাবে বিমানবন্দরে গিয়েছিলেন- কিনা এ সম্পর্কে কিছু জানেন না বলে দাবি করেছেন ফরহাদ। 

মামলা তুলে নিতে চাপের প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘আসামিরা যদি বাদির যোগাযোগ করে থাকে তা তাদের নিজস্ব ব্যাপার। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। এই মানবপাচারের এই মামলায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে।’