কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে এবারও বসেছে দেশের সবচেয়ে বড় ঢাকঢোলের হাট। দুর্গাপূজা উপলক্ষে শনিবার উপজেলা সদরের পুরোনো বাজার প্রেস ক্লাব ও মুক্তিযোদ্ধা অফিসের পাশে এ হাট বসেছে। আজই মেলার শেষ দিন। 

মেলা আয়োজনে করোনার বিধিনিষেধ শিথিল থাকায় চলতি বছর গতবারের তুলনায় ঢাকঢোলের আমদানি বেড়েছে।

জনশ্রুতি আছে, ষোড়শ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে স্থানীয় সামন্ত রাজা নবরঙ্গ রায় সর্বপ্রথম তার রাজপ্রাসাদে দুর্গাপূজার আয়োজন করেন। উপজেলা সদর থেকে দুই কিলোমিটার উত্তরে চারিপাড়া গ্রামে ছিল রাজার প্রাসাদ। পূজা উপলক্ষে রাজপ্রাসাদ থেকে সুদূর বিক্রমপুরের (মুন্সীগঞ্জ) পরগনার বিভিন্ন স্থানে বার্তা পাঠানো হতো। 

বাদ্যযন্ত্রীরা কটিয়াদী-মঠখোলা সড়কের পাশে পুরোনো ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে যাত্রাঘাট নামক স্থানে পূজার আগে এসে পৌঁছাতেন। পরবর্তী সময় পার্শ্ববর্তী মসুয়া গ্রামে বিশ্বনন্দিত চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়ের পূর্বপুরুষ হরিকিশোর রায়চৌধুরীর বাড়িতে মহাধুমধামে পূজা শুরু হয়। সেই সঙ্গে চলে বিভিন্ন পূজার বাদ্যযন্ত্রের প্রতিযোগিতা। দিন দিন পূজার সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় যাত্রাঘাট থেকে স্থান পরিবর্তিত হয়ে পাঁচ কিলোমিটার দূরবর্তী আড়িয়াল খাঁ নদের তীরবর্তী কটিয়াদী পুরোনো বাজারে ঢাকের হাট গড়ে ওঠে। বৃহত্তর ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, সিলেট, ঢাকা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নরসিংদী, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, হবিগঞ্জসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে দুর্গাপূজার আয়োজকরা এই হাট থেকে বায়না দিয়ে বাদ্যযন্ত্রীদের নিয়ে যান।

পূজা কমিটির সভাপতি দিলীপ সাহা বলেন, এ ঢাকের হাট আমাদের দেশের ঐতিহ্য। হাজার হাজার মানুষ এই হাটে এসে ঢাকি বায়না করে নিয়ে যান।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জ্যোতিশ্বর পাল ও ওসি এসএম শাহাদত হোসেন জানান, হাটে ঢাকিদের নিরাপত্তাসহ যাবতীয় ব্যবস্থা এরই মধ্যে নেওয়া হয়েছে।