আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের তিনটি উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নে ভোট গ্রহণ হবে আগামী ১১ নভেম্বর। এ জন্য শনিবার রাতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে ১৬ প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। তাদের মধ্যে চমক দেখিয়েছেন ফতুল্লার কুতুবপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টু। তিনি বিএনপির ডাকসাইটে নেতা ছিলেন। 

দেশের সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন কুতুবপুরের টানা তিনবারের চেয়ারম্যান তিনি। আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক বিএনপি নেতার হাতে তুলে দেওয়ায় ক্ষোভ দেখা গেছে আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে।

কুতুবপুর ইউনিয়ন ছাড়া সদর উপজেলার অন্য পাঁচ ইউনিয়নের প্রার্থী অপরিবর্তিত আছেন এবং তারা আওয়ামী লীগ নেতা। কুতুবপুর ইউনিয়নে এবার নৌকার প্রার্থী কে হচ্ছেন তা নিয়ে আলোচনা ছিল আগে থেকেই। শোনা যাচ্ছিল বিএনপি নেতা সেন্টুই হচ্ছেন নৌকার মাঝি। শেষ পর্যন্ত সেটিই সত্যি হলো।

সেন্টু ফতুল্লা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং সর্বশেষ কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি ছিলেন। তবে তার দাবি, তাকে দু'বার দল থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। সর্বশেষ ২০১৮ সালে তাকে দল থেকে বহিস্কার করা হলে তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দেন। আওয়ামী লীগ সদস্য সংগ্রহ শুরু করলে তিনি সদস্য ফরম পূরণ করে দলটির সদস্য পদ নেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সেন্টুর জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন কুতুবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি জসিম উদ্দিন। তিনি সম্পর্কে সেন্টুর ফুফাতো ভাই।

কুতুবপুর থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল খালেক। তিনি বলেন, দল যাকে ভালো মনে করেছে তাকেই মনোনয়ন দিয়েছে। দলের প্রতি সম্মান জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছি।

বিএনপি নেতার হাতে নৌকা প্রতীক তুলে দেওয়ার বিষয়ে বক্তব্য জানতে কুতুবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি জসিম উদ্দিনকে ফোন করা হলে তার নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদলকেও ফোন করা হয়েছিল, নম্বর বন্ধ থাকায় তাদের সঙ্গেও কথা বলা যায়নি।