মানব জাতির ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ গণহত্যা, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের ঘটনা ঘটেছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালে। ছয় বছর দীর্ঘ (১৯৩৯-১৯৪৫) এই মহাযুদ্ধ বিস্তৃত ছিল পাঁচটি মহাদেশজুড়ে, নিহতের সংখ্যা ছয় কোটির ওপরে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে ভয়াবহ ও পরিকল্পিত গণহত্যার ঘটনা ঘটেছে বাংলাদেশে, ১৯৭১ সালে। এই গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে বাংলাদেশের ৫৬ হাজার বর্গমাইল ভৌগোলিক সীমানার ভেতর, মেয়াদকাল ছিল মাত্র নয় মাস। পাকিস্তানি সামরিক জান্তা এবং তাদের এদেশীয় সহযোগীরা পাকিস্তানের অখণ্ডতা এবং ইসলাম রক্ষার দোহাই দিয়ে এই গণহত্যা সংঘটিত করেছিল।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সামরিক জান্তার প্রধান জেনারেল ইয়াহিয়া খানের নৃশংস সেনাবাহিনী 'অপারেশন সার্চলাইট'-এর নামে অতর্কিত ঝাঁপিয়ে পড়েছিল বাংলাদেশের নিরস্ত্র মানুষের ওপর। রাজধানী ঢাকায় তাদের প্রথম আক্রমণের শিকার ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজারবাগ পুলিশ হেড কোয়ার্টার, পিলখানার ইপিআর হেড কোয়ার্টার, পুরান ঢাকার হিন্দু অধ্যুষিত পাড়া এবং রেললাইনের দুই পাশের বস্তিগুলো। তখন বহু বিদেশি সাংবাদিক ঢাকায় অবস্থান করছিলেন, যারা দেশে ফিরে এই গণহত্যার নিষ্ঠুরতা ও ব্যাপকতার চিত্র বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেছিলেন।
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে আমেরিকার 'সেন্ট লুইস পোস্ট'-এ (১-৮-৭১) যুক্তরাষ্ট্রের একজন শীর্ষস্থানীয় সরকারি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে লেখা হয়েছে, 'দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পোল্যান্ডে নাৎসিদের গণহত্যার পর এই হত্যাকাণ্ড হচ্ছে সবচেয়ে নৃশংস। সরকারি হিসাব অনুযায়ী প্রথম চার মাসে দুই লাখ থেকে সাত লাখ বাঙালি নিহত হয়েছে এবং ৬৫ লাখ শরণার্থী হয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছে।' 'নিউইয়র্ক টাইমস'-এর প্রতিনিধি সিডনি শ্যানবার্গকে ৩০ জুন '৭১ তারিখে ঢাকা থেকে বহিস্কার করা হয়। নয়াদিল্লি এসে তিনি ঢাকার কূটনীতিকদের বরাত দিয়ে বলেছেন, প্রথম তিন মাসে দুই থেকে আড়াই লাখ বাঙালিকে হত্যা করা হয়েছে। সেই সময় ঢাকায় অবস্থানরত ব্রিটিশ সাংবাদিক সাইমন ড্রিংও বলেছেন, ২৫ মার্চ গণহত্যার যে চিত্র তিনি ঢাকায় প্রত্যক্ষ করেছেন এবং পরবর্তী নয় মাসে সমগ্র বাংলাদেশে যা অব্যাহত ছিল- তার ভিত্তিতে '৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে নিহতের সংখ্যা ৩০ লাখ কিংবা আরও বেশি হতে পারে।
মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বুদ্ধিজীবী, মানবাধিকার নেতা এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বাংলাদেশে এসে '৭১-এর গণহত্যার ভয়াবহতা প্রত্যক্ষ করে স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিলেন। বিশ্ব শান্তি পরিষদ প্রতিনিধি দলের নেত্রী মাদাম ইসাবেলা ব্লুম ঢাকায় সাংবাদিকদের বলেছিলেন, 'শিয়ালবাড়ি বধ্যভূমিতে বাঙালি হত্যাযজ্ঞের যে রোমহর্ষক নৃশংসতার স্বাক্ষর আমি দেখেছি তাতে আমি শোকাভিভূত ও সন্ত্রস্ত হয়ে গেছি। এই হত্যাকাণ্ড নাৎসি গ্যাস চেম্বারের হত্যাযজ্ঞের চেয়েও অনেক বীভৎস'। তিনি দেশে ফিরে গিয়ে পরিষদের সভাপতির কাছে এই গণহত্যার জন্য আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি জানাবেন বলে জানান। (আজাদ, ২২/১/৭২)
'৭১-এর গণহত্যার একটি ভয়ংকর অধ্যায় হচ্ছে বাংলাদেশ ও বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য করার জন্য সুপরিকল্পিতভাবে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান শীর্ষস্থানীয় শিল্পী, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী ও পেশাজীবীদের হত্যা। প্রথম পর্যায়ে ২৫ মার্চের 'অপারেশন সার্চলাইট' পরিচালনার সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের আবাসস্থলে গিয়ে বরেণ্য শিক্ষাবিদদের হত্যা করেছে। দেশের অন্যান্য শহরেও একইভাবে শিক্ষক, সাংবাদিক, চিকিৎসক, লেখক, শিল্পী ও প্রকৌশলীদের হত্যা করা হয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ের হত্যাকাণ্ড ছিল আরও ভয়াবহ এবং অত্যন্ত পরিকল্পিত। মুক্তিযুদ্ধকালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে গণহত্যা, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধে সহযোগিতা করার জন্য জামায়াতে ইসলামী, মুসলিম লীগ, নেজামে ইসলাম, পিডিপি প্রভৃতি ধর্মভিত্তিক পাকিস্তানপ্রেমী দল 'শান্তি কমিটি' ও 'রাজাকার' বাহিনী গঠন করেছিল। রাজাকার বাহিনীর সঙ্গে আনসার বাহিনীকে যুক্ত করে সামরিক ফরমানের মাধ্যমে এটিকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সহযোগী বাহিনী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল। জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে ও নেতৃত্বে শীর্ষ ঘাতক বাহিনী 'আলবদর' গঠন করা হয়েছিল হিটলারের 'গেস্টাপো' ও 'এসডি'-র আদলে প্রধানত বুদ্ধিজীবীদের শনাক্ত করে হত্যার জন্য, যে বাহিনীর নেতৃত্বে ছিলেন মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, কামারুজ্জামান, কাদের মোল্লা, মীর কাশেম আলী, চৌধুরী মঈনউদ্দিন, আশরাফ উজ্জামান প্রমুখ, যাদের প্রধান নেতা ছিলেন গোলাম আযম। জামায়াতে ইসলামীর তৎকালীন ছাত্র সংগঠন 'ইসলামী ছাত্র সংঘ'কে সম্পূর্ণভাবে রূপান্তরিত করা হয়েছিল 'আলবদর' বাহিনীতে। এ বিষয়ে আমার প্রামাণ্যচিত্র 'যুদ্ধাপরাধ ৭১' ও অন্যান্য গ্রন্থে বিস্তারিত বলা হয়েছে।
আলবদরের শীর্ষ নেতারা আগস্ট মাসেই পাকিস্তানি জেনারেল রাও ফরমান আলীর সঙ্গে বৈঠক করে শীর্ষস্থানীয় বুদ্ধিজীবী তালিকা প্রস্তুত করেন এবং এদের গতিবিধির ওপর কড়া নজরদারি আরম্ভ করেন। যদিও ১৪ ডিসেম্বর 'শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস' পালন করার কারণে অনেকের ধারণা এই দিনই বুঝি বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করা হয়েছে। তালিকাভুক্ত বুদ্ধিজীবীদের হত্যাকাণ্ড আরম্ভ হয়েছে ১৫ নভেম্বর ঢাকা মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক ডা. আজহারুল হক ও ডা. হুমায়ূন কবিরকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে হত্যার মাধ্যমে। পরদিন তাদের লাশ পাওয়া গিয়েছিল মতিঝিলে নটর ডেম কলেজের পাঁচিলের বাইরে নালার পাশে। এরপর থেকে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের মেধাবী সন্তানদের আলবদরের ঘাতকরা কীভাবে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে গিয়েছে হত্যার জন্য তার শত শত বিবরণ রয়েছে। প্রকৃতপক্ষে মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস জুড়ে গণহত্যার পাশাপাশি বুদ্ধিজীবী হত্যা অব্যাহত ছিল।

ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর পরাজয় নিশ্চিত হওয়ার পর বুদ্ধিজীবী হত্যার সংখ্যা বহু গুণ বেড়ে গিয়েছিল এবং ১৪ ডিসেম্বর সর্বাধিক সংখ্যক বুদ্ধিজীবীকে আলবদরের ঘাতকরা চোখ বেঁধে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল, যাদের লাশ পাওয়া গিয়েছে তিন দিন পর রায়ের বাজার আর মিরপুরের বধ্যভূমিগুলোতে, যদিও অধিকাংশের লাশ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে এবং অনেকের লাশ বিকৃত হওয়ার কারণে শনাক্ত করা যায়নি।
১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের দু'দিন পর স্বজনহারা অনেকের মতো জগন্নাথ কলেজের বাংলার অধ্যাপিকা হামিদা রহমান রায়ের বাজারের বধ্যভূমি গিয়েছিলেন স্বজনের লাশের সন্ধানে। ২ জানুয়ারি (১৯৭২) 'দৈনিক আজাদ'-এ এই প্রত্যক্ষদর্শীর মর্মন্তুদ বিবরণ ছাপা হয়েছে। অধ্যাপিকা হামিদা রহমান লিখেছেন-
'আর একটু এগিয়ে যেতেই সামনে বড় বড় দুটো মস্ত মানুষ, নাক কাটা, কান কাটা-মুখের কাছে কে যেন খামচিয়ে মাংস তুলে নিয়েছে, হাত পা বাঁধা। দু'দিন পর্যন্ত লাশ দুটো ওখানে পড়েছিল। শনাক্ত হয়নি। ফর্সা বড় বড় দুটো মানুষের বীভৎস বিকৃত চেহারা এখনও ভেসে ওঠে। পরে ওখানকার বাসিন্দারা মাটিচাপা দিয়ে দিয়েছে। আর একটু এগিয়ে যেতেই বাঁ হাতে যে মাটির ঢিপিটি ছিল তারই পাদদেশে একটি মেয়ের লাশ। মেয়েটির চোধ বাঁধা। গামছা দুটো আজও ওখানে পড়ে আছে। পরনে কালো ঢাকাই শাড়ি ছিল। এক পায়ে মোজা ছিল। মুখ ও নাকের কোনো আকৃতি নেই। কে যেন অস্ত্র দিয়ে তা কেটে খামচিয়ে তুলে নিয়েছে। যেন চেনা যায় না। মেয়েটি ফর্সা এবং স্বাস্থ্যবতী। স্তনের একটা অংশ কাটা। লাশটা চিৎ হয়ে পড়ে আছে। বীভৎস চেহারার দৃশ্য বেশিক্ষণ দেখা যায় না। তাকে আমি চিনতে পারিনি। পরে অবশ্য শনাক্ত হয়েছে যে, মেয়েটি সেলিনা পারভীন। 'শিলালিপি'র এডিটর। তার আত্মীয়রা বিকেল বেলায় খবর পেয়ে লাশটি তুলে নিয়ে গেছে।...
'আর একটু এগিয়ে যেতেই একটা উঁচু স্থানে বেশ কয়েকজন লোক দাঁড়িয়ে ঝুঁকে পড়ে কী যেন দেখছে। আমি ওপরে উঠতেই একজন ভদ্রলোক হাত বাড়িয়ে আমাকে ওপরে উঠিয়ে নিলেন। সামনে চেয়ে দেখি, নিচু জলাভূমির ভেতর এক ভয়াবহ বীভৎস দৃশ্য। সেখানে এক নয়, দুই নয়, একেবারে বারো-তেরোজন সুস্থ সবল মানুষ। একের পর এক শুয়ে আছে। পাশে দুটো লাশ, তার একটির হূৎপিণ্ড কে যেন ছিঁড়ে নিয়েছে। সেই হূৎপিণ্ড ছেঁড়া মানুষটিই হলো ড. রাব্বী। পাশের গাদাটিতে রমনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলী আর ইত্তেফাকের সিরাজউদ্দিন হোসেন। পাশের একজন বললেন মুনীর চৌধুরীর লাশও এখানে ছিল। কবীর চৌধুরী সকালবেলা এসে দেখে গিয়েছেন।
'প্রায় ঘণ্টাখানেক আমি সেখানে ছিলাম। আসতে পারিনি। একে একে সবাই এসে এখানে হাজির হচ্ছে। ড. রাব্বীর লাশটা তখনও তাজা। জল্লাদ বাহিনী বুকের ভেতর থেকে কলিজাটা তুলে নিয়েছে। তারা জানত যে, তিনি চিকিৎসক ছিলেন। তাই তার হূৎপিণ্ডটা ছিঁড়ে ফেলেছে। চোখ বাঁধা অবস্থায় কাত হয়ে দেহটা পড়ে আছে। পাড় থেকে ধাক্কা দিয়ে গর্তের মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়েছে। রাব্বী সাহেবের পা দু'খানা তখনও জ্বলজ্বল করে তাজা মানুষের সাক্ষ্য দিচ্ছে। নাক-মুখ কিছুই অক্ষত ছিল না। দস্যু হায়েনার নখের আঘাতে ক্ষত-বিক্ষত।
'১৮ ডিসেম্বর (১৯৭১) দৈনিক পূর্বদেশ-এ 'কুখ্যাত আলবদর বাহিনীর হাত থেকে এদের বাঁচান' শিরোনামে একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, 'ফ্যাসীবাদী জামায়াতে ইসলামীর পাষণ্ডদের দ্বারা গঠিত কুখ্যাত আলবদর বাহিনী গত কয়েক দিনে ঢাকার বুকে বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করেছিল। গত এক সপ্তাহ ধরে এসব গণদুশমনের দল অধ্যাপক, সাংবাদিক, চিকিৎসক প্রভৃতি শ্রেণির লোকদের ধরে নিয়ে মোহাম্মদপুরে তাদের সদর দপ্তরে আটক রেখেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।' এরপর অপহৃত বুদ্ধিজীবীদের নাম দিয়ে লেখা হয়, 'ঘৃণ্য আলবদর বাহিনীর ঠগেরা বহুসংখ্যক সাংবাদিক, অধ্যাপক প্রমুখের বাসভবনে হানা দিয়ে তাদের বাসায় না পেয়ে বাসার লোকদের ওপর অত্যাচার করে। আলবদর গুণ্ডাদের অত্যাচারের খবর পেয়ে যেসব অধ্যাপক, সাংবাদিক বাসা থেকে অন্যত্র সরে গিয়েছিলেন, তারা কোনোমতে রক্ষা পেয়েছেন। ওপরে যেসব বুদ্ধিজীবীর নাম দেওয়া হলো, এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তাদের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।' নিখোঁজ বুদ্ধিজীবীদের আত্মীয়স্বজন এ সময় পাগলের মতো খুঁজে বেড়াচ্ছিলেন তাদের প্রিয়জনদের। অনেকেই ক্যান্টনমেন্টে গিয়ে খোঁজ নেন, কেউ কেউ ১৫ পুরানা পল্টনে ইসলামী ছাত্র সংঘের অফিসে। তাদের মনে ক্ষীণ আশা তখনও ছিল, হয়তো তাদের আপনজনেরা এ সমস্ত স্থানে বন্দি হয়ে আছেন।
'তারপর, ১৮ ডিসেম্বর সকালে, রায়ের বাজারে আবিস্কৃত হয় মানব জাতির ইতিহাসের সবচেয়ে হৃদয়বিদারক সেই বধ্যভূমি। ১৯ ডিসেম্বরের দৈনিক বাংলায় 'শতাব্দীর জঘন্যতম হত্যাকাণ্ড সংগঠিত করেছে আল বদর বর্বর বাহিনী' শিরোনামের প্রতিবেদনে লেখা হয়, স্বাধীনতার আনন্দ উচ্ছ্বাসের মাঝে গতকাল শনিবার বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা নগরীতে করুণ ছায়া নেমে আসে। মুক্তির আনন্দকে ছাপিয়ে ওঠে কান্নার রোল।...
আমাদের দীর্ঘ আন্দোলনের কারণে ২০০৯ সালে দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করে বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা ১৯৭৩ সালে প্রণীত 'আন্তর্জাতিক অপরাধ' (ট্রাইব্যুনালস) আইনে '৭১-এর গণহত্যাকারী ও বুদ্ধিজীবী হত্যাকারীদের বিচার আরম্ভ করেছেন। গত দশ বছরে এই ট্রাইব্যুনালে জামায়াত ও আলবদর বাহিনীর শীর্ষ কয়েকজন নেতার বিচার হলেও এখন পর্যন্ত সংগঠন হিসেবে আলবদর, রাজাকার, আলশামস প্রভৃতি ঘাতক বাহিনীসহ পাকিস্তানি হাই কমান্ডের বিচার হয়নি। '৭১-এর ৩০ লাখ শহীদ পরিবার এবং শহীদ বুদ্ধিজীবীদের পরিবারের সদস্যরা এখনও বুকে পাথর বেঁধে ঘাতক বাহিনীর বিচারের অপেক্ষা করছেন। শহীদ পরিবারের শতকরা ৯৯ ভাগ আপনজনদের হত্যাকারী হিসেবে ব্যক্তির নাম বলতে পারেন না। তারা বলেন আলবদরের লোকেরা ধরে নিয়ে গিয়েছিল, রাজাকাররা ধরে নিয়ে গিয়েছিল অথবা পাকিস্তানি আর্মি ধরে নিয়ে গিয়েছিল। এ কারণেই ঘাতক বাহিনীর বিচার না হলে '৭১-এর ঘাতকদের বিচার অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।
লেখক
সভাপতি
ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি