গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেছেন, করোনাকালে দেশের মানুষের কাজ নেই, নতুন বিনিয়োগও নেই। অথচ সরকারের এ নিষয়ে সামান্য চিন্তা নেই, বরং সরকার 'মরার ওপর খাড়ার ঘা' হিসেবে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করে মানুষের ওপর শোষণ-নির্যাতনের স্টিমরোলার চালাচ্ছে।

শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ডিজেল-কেরোসিনের অযৌক্তিক মূল্য বৃদ্ধি ও বর্ধিত পরিবহন ভাড়া প্রত্যাহারের দাবিতে গণসংহতি আন্দোলন ঢাকা মহানগর আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে জোনায়েদ সাকি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘দেশে এমন একটি সরকার ক্ষমতায় আছে যারা তথাকথিত উন্নয়নের নামে বড় বড় প্রকল্প নিয়ে দুর্নীতির মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করছে। আর সেই টাকা যোগান দেওয়ার জন্য মানুষের পকেট কাটছে। এর সর্বশেষ উদাহরণ ডিজেল-কেরোসিনের মূল্য বৃদ্ধি। লুটের টাকা যোগান দেয়াই এ সরকারের প্রধান কাজ।’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকার দুঃশাসন চালাতে পারছে, কারণ জনগণকে তারা তোয়াক্কা করে না। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে জনগণকে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে ক্ষমতায় টিকে আছে তারা। এই পরিস্থিতিতে মানুষের একমাত্র বাঁচার পথ জনগণের রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলা। রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তর ঘটিয়ে মানবিক মর্যাদার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা।’

জনগণের প্রতি আহবান জানিয়ে জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘আসুন, ছোট বড় সকল দল শ্রেণি-পেশার মানুষ মিলে রাজপথে লড়াই সংগ্রামের কাফেলা গড়ে তুলি। এই ফ্যাসিবাদী সরকারকে ক্ষমতা থেকে হটিয়ে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সরকার প্রতিষ্ঠা করি।’

গণসংহতি আন্দোলনের ঢাকা মহানগর কমিটির আহ্বায়ক মনির উদ্দীন পাপ্পুর সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন সংগঠনের নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য বাচ্চু ভূঁইয়া, জুলকারনাইন ইমন, কেন্দ্রীয় সদস্য আলিফ দেওয়ান, সৈকত মল্লিক প্রমুখ। উপস্থিত ছিলেন দলের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য দীপক রায়, জাতীয় পরিষদের সদস্য রণজিৎ মজুমদার, উৎসব মোসাদ্দেক, মিরপুর কমিটির আহবায়ক মাহবুব রতন প্রমুখ।