আধুনিক কৃষি শিক্ষায় শিক্ষিত দক্ষ জনশক্তি তৈরির লক্ষ্য সামনে রেখে ১৯৮৫ সালে ইনস্টিটিউট অব পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজ ইন এগ্রিকালচার (ইপসা) প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ-জাপান-যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ত্রিপক্ষীয় আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতায় ১৯৯১ সাল থেকে দেশে উচ্চতর কৃষিশিক্ষার এ প্রতিষ্ঠানে কোনো সেশনজট নেই। কৃষিক্ষেত্রে অল্প সময়েই তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রাখায় শেখ হাসিনা তার ১৯৯৬-২০০১ শাসনামলে ইপসার দ্বিতীয় সমাবর্তনে (১৯ জুন ১৯৯৭ অনুষ্ঠিত) প্রতিষ্ঠানটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের ঘোষণা দেন। পরবর্তী সময়ে ১৯৯৮ সালের ২২ নভেম্বর জাতীয় সংসদে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আইন গেজেট আকারে প্রকাশিত হলে দেশের ১৩তম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে এ প্রতিষ্ঠানের অগ্রযাত্রা শুরু হয়। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এ বিশ্ববিদ্যালয়টি কৃষিতে মৌলিক ও প্রায়োগিক গবেষণায় অগ্রাধিকার দিয়ে আসছে। শুরু থেকেই কৃষির বিভিন্ন বিষয়ে এমএস ও পিএইচডি ডিগ্রির পাশাপাশি ২০০৫ সাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে চার বছর মেয়াদি বিএস (কৃষি), ২০০৯ সাল থেকে বিএস (ফিশারিজ) এবং ২০১০ সাল থেকে ৫ বছর মেয়াদি ডক্টর অব ভেটেরিনারি মেডিসিন এবং ২০১২ সাল থেকে কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ উন্নয়ন অনুষদের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

২০১৭ সালের পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে বিদেশি ছাত্রছাত্রী ভর্তি কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে এবং বর্তমানে ৫৭ জন বিদেশি ছাত্রছাত্রী অধ্যয়নরত। এ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মোট ৯৮৭ জনকে বিএস (এগ্রিকালচার), ২৭৩ জনকে বিএস (ফিশারিজ), ১৮৮ জনকে বিএস (কৃষি অর্থনীতি), ১৪৫ জনকে ডিভিএম, ২ হাজার ১১৪ জনকে এমএস, ৩২৭ জনকে পিএইচডি এবং ৯৮ জনকে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা ডিগ্রি প্রদান করা হয়েছে। কৃষি ও কৃষি সম্পর্কিত মৌলিক গবেষণার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়টি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে আসছে। মৌলিক গবেষণায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১১ সালে বিশ্ববিদ্যালয়টি সর্বোৎকৃষ্ট বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্যাটাগরিতে সম্মানজনক আন্তর্জাতিক ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক পুরস্কার ও ২০১৫ সালে বৃক্ষরোপণ এবং কৃষি বনায়নে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বৃক্ষরোপণে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় পুরস্কার-২০১৪ অর্জন করে। ২০১৭ সালে শিক্ষা, গবেষণা ও বহিরাঙ্গন কার্যক্রমে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার-১৪২২ (স্বর্ণ) অর্জন করে।

ব্যক্তিগত গবেষণার স্বীকৃতিস্বরূপ এ বিশ্ববিদ্যালয়ের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষক বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমি স্বর্ণপদক, ইউজিসি অ্যাওয়ার্ড, কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট পদক, বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমির ফেলো, ইউজিসি প্রফেসর ইত্যাদি জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি অর্জন করেছেন। ২০২১ সালে বিশ্বখ্যাত স্কোপাস ও সিমাগো ইনডেক্স জরিপে বশেমুরকৃবি র‌্যাঙ্কিংয়ে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়কে পেছনে ফেলে গবেষণা, উদ্ভাবন ও সামাজিক অবস্থান- এই তিন সূচকে প্রথম স্থান লাভ করে। এ ছাড়া একই ইনডেক্স জরিপে বশেমুরকৃবি গত ২০১৯ ও ২০ সালে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে যথাক্রমে চতুর্থ ও দ্বিতীয় স্থান লাভ করেছিল। সফল পাবলিক-প্রাইভেট-পার্টনারশিপের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বহিরাঙ্গন কার্যক্রম। মুজিববর্ষ উপলক্ষে গাজীপুরের কাউলতিয়া ইউনিয়নে নতুন একটি প্রযুক্তি ভিলেজ উদ্বোধন করা হয়েছে। তা ছাড়া ভেটেরিনারি টিচিং হাসপাতালের মাধ্যমে গাজীপুর জেলাসহ আশপাশ এলাকায় প্রাণী স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও চিকিৎসাসেবা প্রদান শুরু করেছে। এ ছাড়া গাজীপুরের বি. কে. বাড়িতে অবস্থিত ন্যাশনাল লাইভস্টক ইনস্টিটিউট অ্যান্ড ভেটেরিনারি হাসপাতালের সঙ্গে যৌথভাবে কৃষক প্রশিক্ষণ এবং আধুনিক ডেইরি, পোলট্রি ও লাইভস্টক খামার সফলভাবে পরিচালনার জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ প্রদান করে আসছে। শিক্ষা ও গবেষণায় বিশ্বমান বজায় রাখতে এ বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে সহযোগিতা কার্যক্রম সফলতার সঙ্গে চালিয়ে যাচ্ছে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এ দেশকে সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন। তার সে স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে কৃষিশিক্ষায় বিশ্বমানের দক্ষ গ্র্যাজুয়েট তৈরির মহান ব্রত নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এগিয়ে চলেছে।

উপাচার্য, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়