ময়মনসিংহের ফুলপুরে জন্মনিবন্ধন সংশোধনের জন্য যাওয়া এক স্কুলছাত্রীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নির্যাতিতা কিশোরী বাদী হয়ে বুধবার রাতে থানায় একটি মামলাও করেছেন। তবে বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত অভিযুক্তকে কাউন্সিলরকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

অভিযুক্ত ওই কাউন্সিলরের নাম এহসানুল হক। তিনি ফুলপুর পৌরসভার এক নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। তিনি পৌরসভার চরপাড়া গ্রামের আ.হাইয়ের ছেলে।

কাউন্সিলর নির্যাতিত ওই কিশোরীর প্রতিবেশী। সে স্থানীয় একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী।

অভিযোগে জানা যায়, কিশোরীর মা প্রবাসী এবং বাবা ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। বাবা-মা দু’জনেই বাইরে থাকায় মেয়েটি তার নানার বাড়িতে থেকে পড়ালেখা করে। কিশোরীরর জন্মনিবন্ধনে কিছু গড়মিল থাকায় তা সংশোধনের জন্য নিজের মামীর সঙ্গে গত ২১ নভেম্বর সে পৌরসভায় যান। সেখানে ওয়ার্ড কাউন্সিলরের সঙ্গে দেখা করে সংশোধনের কথা জানায় মেয়েটি। জন্মনিবন্ধন সংশোধনের কাগজপত্র বাসায় আছে জানিয়ে মেয়েটিকে নিজের মোটরসাইকেলে নিয়ে যান কাউন্সিলর এহসানুল হক। কাউন্সিলর মেয়েটিকে পৌর এলাকার গোদারিয়া এলাকার একটি বাসায় নিয়ে যান। সেখানে কিশোরীকে ধর্ষণের চেষ্টা করলে স্থানীয় লোকজন তাকে রক্ষা করে।  কিশোরীর অভিযোগটি বুধবার রাতেই মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে ফুলপুর থানা পুলিশ।

কিশোরী জানায়, তাকে জন্মনিবন্ধন সংশোধন করে দেওয়ার কথা বলে নিয়ে যায় কাউন্সিল। নিজের মামীকে পৌর সভায় রেখে গিয়েছিলেন কাউন্সিলরের সঙ্গে। কিন্তু তাকে একটি বাসায় নিয়ে অনৈতিক প্রস্তাব দেয়। রাজী না হওয়ায় জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করলে সে চিৎকার করে। পরে স্থানীয়রা তাকে রক্ষা করে। সে কাউন্সিলরের উপযুক্ত বিচার দাবি করে।

এ দিকে থানায় অভিযোগ দেওয়ার খবর পেয়েই অভিযুক্ত কাউন্সিলর পলাতক রয়েছেন।

ফুলপুর থানার ওসি মো. আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন,ওই ওয়ার্ড কাউন্সিলর যে কিশোরীকে নিজের মোটরসাইকেলে নিয়ে যান এর প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। তারা ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছেন। কাউন্সিলর পলাতক রয়েছে, তবে তাকে গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।