রাশিয়া জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে ভেটো দিয়ে বাঙালির মুক্তিযুদ্ধের বিজয়কে ত্বরান্বিত করেছিল। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে রাশিয়ার ভূমিকা স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। 

সোমবার ‘একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে রাশিয়ার অবদান’ শীর্ষক সম্মেলনে বিশিষ্টজনরা এসব কথা বলেন। 

একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি ভার্চুয়ালি এই সম্মেলন আয়োজন করে। প্রধান বক্তা ছিলেন সংগঠনের সভাপতি শাহরিয়ার কবির। সংগঠনের রাশিয়া শাখার উপদেষ্টা রাশিয়া আওয়ামী লীগের সভাপতি ডা. মোতালিব পাটওয়ারী বাহারের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সুলতানা কামাল, সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান, মানবাধিকার নেত্রী আরমা দত্ত, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি মফিদুল হক, ভূতত্ত্ববিদ মো. মকবুল-ই-ইলাহী চৌধুরী, রাশিয়া আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ডা. মো. হাবিবুর রহমান শেখ, প্রবীর কুমার সরকার, ডা. মমতাজ রহমান।

শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে সমর্থন করতে গিয়ে ভারত যখন আন্তর্জাতিক অঙ্গণে একরকম একঘরে হয়ে গিয়েছিল সেই দুঃসময়ে সোভিয়েত ইউনিয়ন দৃঢ়ভাবে ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছিল।'৭১-এর আগস্টে ভারত- সোভিয়েত মৈত্রী ও সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরের পর ভারতের মাটিতে মুক্তিযোদ্ধা প্রশিক্ষণের সংখ্যা মাসে দুই-আড়াই হাজার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে বিশ হাজার অতিক্রম করেছিল। মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত পর্বে সোভিয়েত ইউনিয়ন ও ভারত আমাদের পাশে না থাকলে বাংলাদেশ স্বাধীনতা করা আমাদের একার পক্ষে সম্ভব ছিল না।’

সুলতানা কামাল বলেন, ‘সোভিয়েত, ভারত শুধু আন্তর্জাতিকভাবেই নয় বরং মানবিক মমত্ববোধের মাধ্যমে ব্যক্তিগত পর্যায়েও মুক্তিযুদ্ধের সময় আমাদের সহায়তা করেছে। আমার মা কবি সুফিয়া কামালের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে সোভিয়েত ইউনিয়ন পাকিস্তানকে চিঠি পাঠিয়েছিল। আমাদের বাড়ির পেছনে সোভিয়েত কালচারাল সেন্টারের নবিকভ নামক কর্মকর্তা মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে আমার মার নিরবিচ্ছিন্ন খোঁজখবর রেখেছেন। আমার আশা নতুন প্রজন্ম এসব ইতিহাস জানার চেষ্টা করবে এবং আমাদের শত্রু-মিত্রকে চিনতে পারবে।’

শফিকুর রহমান বলেন, ‘রাজাকারের বংশধরেরা যারা সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং ইন্দিরা গান্ধী ও ভারত সম্পর্কে নেতিবাচক কথা বলে- তারা বাংলাদেশে বিশ্বাস করে না। স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি যত চেষ্টাই করুক মুক্তিযুদ্ধের অগ্রগতিকে কেউ দাবিয়ে রাখতে পারবে না।’

মুক্তিযুদ্ধ গবেষক মফিদুল হক বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে রাশিয়ার সহায়তা একটি আলোকজ্জ্বল অধ্যায়। জাতিসংঘে রাশিয়া ভেটো দিয়ে যে ভূমিকা পালন করেছিল তা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। জাতি হিসেবে বিশ্বের দরবারে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে রাশিয়া তথা সোভিয়েত ইউনিয়নের ভূমিকা অপরিসীম।’

অনুষ্ঠানের শুরুতে রাশিয়ান আর্কাইভ থেকে নির্মূল কমিটির রাশিয়া শাখা থেকে সংগৃহীত ১৩ ডিসেম্বর সোভিয়েত সাবমেরিন অভিযানের নিউজ রিল প্রদর্শন করা হয়।