[পর্ব :১]
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে সশস্ত্র যুদ্ধ। এই সশস্ত্র যুদ্ধ সম্পর্কে অনেক বীরত্বগাথা আমাদের জানা আছে, কিন্তু কী অবস্থা বা পরিবেশ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে সেগুলো তৈরি হয়েছিল তার অনেক কিছুই আমরা অতটা জানি না। দ্বিতীয়ত, স্বাধীনতা সংগ্রামের এই সশস্ত্র অংশে কারা অংশগ্রহণ করেছিল সে সম্পর্কেও আমরা স্বচ্ছ ধারণা রাখি না। এই যে যাদেরকে আমরা মুক্তিযোদ্ধা বলি- তাদের বিষয়টি কিন্তু একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গেছে। সেই প্রক্রিয়া সম্পর্কেও আমাদের কিছু কিছু তথ্যের সীমাবদ্ধতা আছে।
আমাদের সশস্ত্র যুদ্ধ- ধরে নিই যেটা ২৫ মার্চ রাত থেকেই শুরু হলো, তার কয়েকটি পর্যায় আছে। ২৫ মার্চের রাত থেকে এপ্রিল মাসের শেষ পর্যন্ত যে পর্যায়টা, সেটাকে আমরা বলতে পারি প্রতিরোধ পর্ব। কারণ ওই সময় পাকিস্তান আর্মি আক্রমণ বিপরীতে প্রতিরোধটা সংগঠিত হয়। এই প্রতিরোধ ঢাকায় পিলখানা, রাজারবাগ ইত্যাদি কয়েকটি জায়গায় হয়েছে। গণহত্যার খবর দ্রুতই ছড়িয়ে পড়েছিল সারাদেশে। তার ফলে সারাদেশে বিভিন্ন জায়গায় উত্তপ্ত জনসাধারণ যারা মার্চের শুরু থেকেই অপ্রাতিষ্ঠানিকভাবে হলেও স্বাধীনতাকে ধারণ করেছে, তাদের সামনে তখন একটাই দায়িত্ব এসে হাজির হয়- সেটা হলো এই স্বাধীনতা ও স্বাধীন দেশকে রক্ষা করা। ২৫ মার্চের পর তারা প্রাতিষ্ঠানিকভাবেই স্বাধীন হয়ে যায়। স্বাধীন দেশকে রক্ষা করার ব্যাপারটা অনেক বেশি জৈবিক- অর্থাৎ, আমার অঞ্চলকে আমি রক্ষা করব; নৃবিজ্ঞানে যার উত্তরটা অনেক বেশি আছে। সব প্রাণীই তার এলাকা, অঞ্চল রক্ষা করে। বাংলাদেশের মানুষও সেটা করেছে। কিন্তু মানুষের এই প্রতিরোধ সম্পর্কে আমাদের ধারণাটা কিন্তু খুব একটা স্বচ্ছ না। সাধারণভাবে আমরা মনে করি প্রতিরোধের ক্ষেত্রে উর্দি পরা মানুষ এবং রাজনীতিবিদদের ভূমিকাই প্রধান। কিন্তু সাধারণ মানুষও প্রতিরোধে অংশ নিয়েছে ব্যাপকভাবে। সে কারণে যুদ্ধের এই সামগ্রিক পর্যায়টাকে আমরা বলি সশস্ত্র জনযুদ্ধ। এই সশস্ত্র জনযুদ্ধে আমরা বিভিন্ন রকম অংশগ্রহণের উল্লেখ পাই। যেমন পাবনার ক্ষেত্রে দেখতে পাই বামপন্থিরা যুক্ত হচ্ছে। আবার অন্য জায়গায় বামপন্থিরা যে যুক্ত হয়েছে তা না। চট্টগ্রাম একটা গুরুত্বপূর্ণ জায়গা এ ক্ষেত্রে। চট্টগ্রাম নিয়ে রচিত বিভিন্ন বইপত্র থেকে দেখা যায় যে, যদিও তাদের বেশ দুশ্চিন্তা দুর্ভাবনা ছিল, তবুও তারা জনযুদ্ধে অংশ নিয়েছে।
আমরা সমস্ত কিছুই যেহেতু বর্তমান রাজনীতির নিরিখ দিয়ে দেখি- কাজেই অনেক ক্ষেত্রেই বয়ানে নানারকম ঝামেলা তৈরি হয়েছে। আমার কাছে বড় বড় লোক ছাড়াও সাধারণ সিপাহি সৈনিকদের যে বিবরণ আছে, তার থেকে একজনের কথা উল্লেখ করি- সিপাহি নান্নু মিয়া। তাকে পাঠানো হয়েছিল চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর করা জাহাজ 'সোয়াত' থেকে অস্ত্র নামিয়ে আনার জন্য। ওইখানেই তাকে গুলি করে মারার চেষ্টা করেছে পাকিস্তান আর্মি। তারা যতদূর সম্ভব এই ধরনের মানুষ অর্থাৎ সামরিক বাহিনীর বাঙালি লোকজনকে হত্যা করতে সচেষ্ট ছিল। নান্নু মিয়া পানিতে লাফ দিয়ে পড়ে গিয়ে প্রাণে বেঁচেছিল। এ রকম অনেক ঘটনা আছে। এবং অনেক সামরিক লোককে পাকিস্তান আর্মি হত্যা করে। এর মধ্যে প্রতিরোধের মাত্রাটা ব্যাপক আকার ধারণ করে। এর বাইরে আরও যে প্রতিরোধের কথা আমরা জানতে পারি তা হলো শ্রমিকদের প্রতিরোধ। চট্টগ্রাম শহরে শ্রমিকরা প্রতিরোধ করেছিল। চট্টগ্রামের শ্রমিক নেতা আবুল বাশার বলছিলেন যে, সোয়াত থেকে অস্ত্র নামানোর কাজে বাধা দিয়েছিল শ্রমিকরা। তার সঙ্গে সাধারণ মানুষও যুক্ত হয়ে গেছে। যার ফলে পাকিস্তান আর্মি সশস্ত্র হবার পথে কিছুটা হলেও সংকটে পড়ে গিয়েছিল। প্রতিরোধের এসব পর্যায় মূলত যুদ্ধেরই অংশ হিসেবে সংগঠিত হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় গোলাগুলি হয়। একটা সময় যখন বিমান থেকে বোমাবর্ষণ করা হয়, তখন তারা এখান থেকে রামগড়ের দিকে চলে যায়। আমাদের যে বইটা তৈরি হচ্ছে, তাতে এমন প্রায় ২০ থেকে ২৫টা এলাকার উল্লেখ রয়েছে, যেখানে একেবারে বড়সড় যুদ্ধ হয়েছে। কোনো কোনো জায়গায় এমনও ঘটনা ঘটেছে, যেখানে সাধারণ মানুষ গিয়ে এত পরিমাণ চিৎকার হল্লা করেছে যে, পাকিস্তান আর্মি চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। আর্মি সাধারণত চট্টগ্রাম, ঢাকা, রংপুর অর্থাৎ যেসব অঞ্চলে ক্যান্টনমেন্ট আছে- সেখানেই ছিল বা আরও দুয়েকটা জায়গায় বড়ভাবে ছিল। কিন্তু সব জায়গায় তো বড় পরিসরে ছিল না। যেসব জায়গায় সংখ্যায় কম ছিল, প্রতিরোধের মুখে তারা ফেরত যেতে বাধ্য হয়েছে; অন্য জায়গায় গিয়ে একত্রিত হয়ে অবস্থান নিয়েছে আবার। পাকিস্তান আর্মি এসবের জন্য প্রস্তুত ছিল না। পাকিস্তানের কোনো দলিলেও নেই যে তারা প্রস্তুত ছিল।
বিভিন্ন জায়গায় এ রকম প্রতিরোধ যুদ্ধ হলেও, সারাদেশের অনেক জায়গা তখন স্বাধীন। যেমন উত্তরবঙ্গ আগে থেকেই স্বাধীন হয়ে গেছে। যার একটি অংশে ১০ এপ্রিল সিদ্ধান্ত হলো মুজিবনগর সরকার গঠিত হবে। তারপর ১৭ এপ্রিল কুষ্টিয়ার মেহেরপুরে গঠিত হলো স্বাধীন বাংলাদেশের সরকার। এটা সম্ভব হয়েছিল কারণ ওই অঞ্চলটা ততদিন স্বাধীন ছিল।
গাজীপুর থেকে বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর লোকজন বের হয়ে গিয়ে আগেই প্রতিরোধ করেছিল। এবং এই প্রতিরোধটা ব্যাপক ছিল। ৪ এপ্রিল ১৯৭১ সময়টা আমাদের মনে রাখা দরকার। তখন সিলেটের তেলিয়াপাড়ায় বিভিন্ন সামরিক বাহিনীর লোকজন সমবেত হয়। তার মধ্যে ছিলেন জেনারেল ওসমানী, খালেদ মোশাররফ, জিয়াউর রহমান, কে এম সফিউল্লাহ, কর্নেল রব এবং আরও অনেকে- অর্থাৎ পরবর্তী সময়ে সরাসরি যুদ্ধে যারা যুক্ত হয়েছিল। তারা সেখানে নানারকম সিদ্ধান্ত নেয়। তার মধ্যে অন্যতম সিদ্ধান্ত ছিল যে, আমরা ভারতের কাছে গিয়ে সশস্ত্র সহায়তা চাইব। ততদিনে অবশ্য ভারতও সহায়তা দেবার সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছে। তাজউদ্দীন আহমদ ৪ এপ্রিলই দিল্লিতে গিয়ে দেখা করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে।
যেহেতু তরুণরাই যুদ্ধ করবে, এবং নিজেদের সৈন্যসংখ্যাও প্রয়োজনের তুলনায় সীমিত- এসব পরিস্থিতিতে ভারত সিদ্ধান্ত নেয় যে তারা মুক্তিবাহিনী তৈরি করবে। ইচ্ছা ছিল প্রথমে পাঁচ হাজার মুক্তিযোদ্ধাকে তারা তৈরি করবে এবং পরবর্তী সময়ে প্রতি মাসে এই সংখ্যক যোদ্ধা তৈরি করতে থাকবে। তার জন্য যুদ্ধ করতে রাজি এমন যারা বাংলাদেশ থেকে যাবে তাদেরকে প্রথম রিসিপশন ক্যাম্পে রাখা হবে, পরে সেখান থেকে ইউথ ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হবে। এই ছিল প্রক্রিয়া। কিন্তু এসবের বাইরে এপ্রিল পর্যন্ত সশস্ত্রভাবে বাংলাদেশের মানুষ যুদ্ধ করে গেছে। তারা তেমন কোনো পরিকল্পনার কথা চিন্তা করেনি।
এপ্রিলের শেষের দিকে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল হামিদ উত্তরবঙ্গ সফর করেছিল। যেহেতু উত্তরবঙ্গ কেন্দ্র থেকে যথেষ্ট দূরবর্তী এবং সীমান্তবর্তী এলাকাও বটে। এটা ছিল অনেকটা জানান দেওয়া যে, সব জায়গা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আয়ত্তের মধ্যে আছে।
মুক্তিযুদ্ধের দ্বিতীয় পর্যায়টি হচ্ছে গেরিলা যুদ্ধের পর্যায়। বিভিন্ন জায়গায় ক্যাম্প শুরু হয়। যেখানে এই গেরিলা যোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। জানা যায়, একশটা রিসিপশন ক্যাম্প খোলা হয়েছিল আর চব্বিশ-পঁচিশটা ইউথ ক্যাম্প। তবে আমার নিজের অভিজ্ঞতা হচ্ছে, একাত্তর-সংশ্নিষ্ট অনেক সংখ্যাই একেবারে অনিশ্চিত। পাকিস্তানির সংখ্যাও অনিশ্চিত, ভারতীয়র সংখ্যাও অনিশ্চিত এবং আমাদের সংখ্যাও অনিশ্চিত। এ জন্য আমার মনে হয়, সংখ্যার দিকে গুরুত্ব বেশি না দিয়ে মূল বিষয়টা নিয়ে আলোচনা করাই উত্তম।
ইউথ ক্যাম্পে রাজনৈতিক একটা বিষয়ও জড়িত ছিল। এবং স্বাভাবিকভাবেই সেটার নেতৃত্বে ছিল আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ চাইছিল যাতে কেবল আওয়ামী লীগের লোকজনই এর মধ্যে প্রবেশ করুক। স্বাভাবিক- কারণ এখানে তার রাজনৈতিক অবস্থান জড়িত। তাহলে অন্যদের কী হবে? জানা যায়, পরবর্তী সময়ে একটা ক্যাম্প হয়েছিল, যেখানে এসব ক্যাম্পে যেই রাশিয়াপন্থি কমিউনিস্ট পার্টির কর্মীরা ঢুকতে পারছিল না, তারা সেখানে প্রশিক্ষণ নিতে পারে। তাহলে চীনপন্থিদের কী হলো? ওইখানে গিয়ে কোনো ক্যাম্প তারা পায়নি। দেশের অভ্যন্তরে থেকেই তারা কোথাও কোথাও যুদ্ধ করেছে।
এই পর্যায়টা পেরিয়ে আসে শত্রুকে আক্রমণের পর্যায়। গেরিলারা দেশে ঢুকে আক্রমণ শুরু করে। এত অত্যাচার-নির্যাতনের পরেও তখন কিন্তু দেশের সাধারণ মানুষ এই গেরিলা মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় দিয়েছে। সাধারণ মানুষ ততদিনে পরিসরটা তৈরি করে ফেলেছে- যাতে মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধটা করতে পারে। অথচ আজকের পরিস্থিতিটা এমন হয়েছে যে, আমরা সাধারণ মানুষের ভূমিকাকে তো বাদই দিয়েছি, সেই সাথে সাধারণ মানুষকে আমরা গৌণকরণ করেছি। গৌণকরণ করে এর মধ্য থেকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে কাদেরকে স্বীকৃতি দিই? কেবল ধর্ষিত নারীদের। এ এক অদ্ভুত মানসিকতায় আমরা ভুগছি। যেখানে কেবল নির্যাতিতা হলেই তাকে দেশের জন্য কিছু করেছে বলে ধরা হয়। আর সমস্ত গৌরব হচ্ছে হাতে বন্দুক ছিল যার। কিন্তু এই মানসিকতা একাত্তর সালে ছিল না। মানুষ এইভাবে দেখেনি। মুক্তিযোদ্ধাও দেখেনি, যে তাকে সহায়তা করেছে সেও দেখেনি। কেউ ভাবত না যে আমি মুক্তিযোদ্ধা, আমি অন্য সবার চেয়ে ওপরে। কিন্তু এটা যে সবার যুদ্ধ, আজ এই ধারণা আমাদের নেই। এমনকি আমার মনে হয়, এই ধারণা আমাদের কালে আর হবেও না। আমরা এই ধারণাকে প্রতিষ্ঠা করতে পারিনি। পারিনি এই কারণে যে, আমরা চাই না প্রতিষ্ঠা করতে। আমরা চাই আমাদের যুদ্ধটাও সনাতনী যুদ্ধের প্রক্রিয়ার মধ্যেই থাকুক। পাশ্চাত্যের ধারণায় যে সনাতনী যুদ্ধের বাইরে কিছু নেই। আমাদেরও তাই নেই।
মাঠপর্যায়ে মানুষের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায় যে ইপিআর বা ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস খুব বড় একটা ভূমিকা পালন করেছিল। কারণ সেখানে তো পাকিস্তানির সংখ্যা ছিল কম। সেখানে বাংলাদেশির সংখ্যা বেশি থাকার ফলে যা হয়েছে এখানে অফিসারের সংখ্যাও ছিল কম। বেশিরভাগই হাবিলদার, সুবেদার ইত্যাদি। এরাই কিন্তু প্রতিরোধ যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছে। এবং যখন সংগঠিত হতে শুরু করল তখন কিন্তু নেতৃত্ব অনেক ক্ষেত্রেই এই হাবিলদার, সুবেদারদের হাতে ছিল। কিন্তু সেনাবাহিনীর সনাতনী যে ভাবনা, সেখানে তো এই প্রক্রিয়াটা খাটে না। তখন এই অবস্থাটাকে আরও একটু প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের সিদ্ধান্ত হয়। এ ক্ষেত্রে অনেক জায়গায় কেউ একজন প্লাটুন কমান্ডার হয়ে গেছে, কিন্তু সে অফিসার নয়। তাই অফিসার তৈরি করা হয়েছিল। ভারতীয় ক্যাম্পেই ভারতীয় প্রশিক্ষকের অধীনে বেশ কিছু অফিসার তৈরি করা হয়েছিল। এদেরকে বলা হয় ফার্স্ট ওয়ার কোর্স। এরা পরে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল। দ্বিতীয় ওয়ার কোর্সে যারা ছিল, তারা প্রশিক্ষণ শেষ করতে পারেনি। তার আগেই দেশ শত্রুমুক্ত হয়ে যায়। পরবর্তীকালে তাদেরকেও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। কিন্তু অন্যদিকে সাধারণ মানুষ কী করেছিল না করেছিল তার জন্য কোনো স্বীকৃতির ব্যবস্থা রাখা হয়নি। পাবলিককে কোনো ইজ্জত বা মর্যাদা দেওয়া হবে না। মুক্তিযুদ্ধে যেন তার কোনো ভূমিকা নেই। এটাকে আমি বলব আমাদের ধারাবাহিক রাষ্ট্রীয় চর্চা। অনেকদিন আন্দোলন করার পরে অবশ্য নির্যাতিত নারীদের মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। বাকি অন্য কাউকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গণ্য করা হয়নি। কিন্তু কোনো যুদ্ধই হতো না যদি এই সাধারণ মানুষ ভূমিকা পালন না করত। এদের যদি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হয়- আমি অনেকের সাথে কথা বলে যেমনটা বুঝেছি; এই সাধারণ মানুষদের কেউ তালিকায় অন্তর্ভুক্তি চায় না, পদকও চায় না। তাদের দিকে কেবল ইতিহাসের মুখটা একটু ফেরানো দরকার। তা না হলে এই ধারণাই প্রতিষ্ঠিত হয়ে থাকবে যে, বন্দুক হাতে নেওয়া মানেই কেবল দেশপ্রেমিক। আমাদের রাজনীতিতেও সেই ধারণাই প্রতিষ্ঠিত- ক্ষমতা মানে বন্দুক। এই যে বল প্রয়োগ করে দেশপ্রেম প্রকাশ, এটাকেই আমরা এখনও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে চর্চা করে আসছি। [চলবে]