সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, মঙ্গল চিন্তাই আসল বিষয়। দেশ ও দশের চিন্তা করতে হবে। সেই চিন্তায় মগ্ন থাকলেই জনসেবক হওয়া যাবে।

মঙ্গলবার নিজের ৮৮তম জন্মবার্ষিকীর এক অনুষ্ঠানে খ্যাতিমান অর্থনীতিবিদ ও রাজনীতিক মুহিত এ কথা বলেন।

মুহিতের জন্মদিন উপলক্ষে চ্যানেল আই ‘ত্রিকালদর্শী কর্মবীর’ শিরোনামে তার জীবন ও কর্ম নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করে। রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শামসুল আলম, আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, মহাহিসাব নিয়ন্ত্রক মুসলিম চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি ও হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ. কে. আজাদ, সাবেক অর্থ সচিব ড. মোহাম্মাদ তারেক, সাবেক ইআরডি সচিব কাজী শফিকুল আজম, আরাস্তু খান, মুহিতের পরিবারের সদস্য, আত্মীয় ও বন্ধুবান্ধব উপস্থিত ছিলেন। 

প্রদর্শনী শেষে ফরেন সার্ভিস একাডেমি মাঠে উপস্থিত শুভানুধ্যায়ীরা মুহিতকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। 

অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন চ্যানেল আইর পরিচালক শাইখ সিরাজ।

মুহিত জানান, তারা ১৩ ভাইবোন। এর মধ্যে বর্তমানে ১১ জন জীবিত। বড় বোনের বয়স ৯২ বছর। তার পরিবারের সদস্যদের আয়ুস্কাল দীর্ঘ। তার বাবা ৮৫ বছর এবং দাদা ৮২ বছর বেঁচে ছিলেন।

৫৫ মিনিটের প্রামাণ্যচিত্রে মুহিতের শৈশব থেকে অবসর জীবনের নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে। এতে মুহিতকে বলতে শোনা যায়, অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়ে তিনি ঠিক করেন— বাজেটের আকার বড় করবেন। কারণ বাজেট বড় না করলে বড় সেবা দেওয়া যায় না। আর সে জন্যই তিনি বাজেট বড় করেছেন। যদিও এতে অপচয় হয় বলে সমালোচনা আছে। কিন্তু কিছু বড় কাজ করতে গেলে সামান্য অপচয় হবে; সেটা মানতে হবে।

তিনি বলেন, বাজেট বড় করা সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারণে। কারণ প্রধানমন্ত্রী বড় মনের মানুষ। তিনি মানুষের কল্যাণ চান। তার কাছে (প্রধানমন্ত্রী) যেটা নিয়ে গেছি, সেটাতেই অনুমতি দিয়েছেন। বলেছেন— শুরু করেন, লোকজন লাগিয়ে দেন। 

তিনি আরও বলেন, নেতা যদি বড় মনের না হয়, তাহলে যত চেষ্টাই করেন, এগোতে পারবেন না। শেখ হাসিনা কল্যাণচিন্তায় বড় মনের মানুষ। এ ছাড়া দেশের কৃষকরাও অর্থনীতি এগিয়ে নিচ্ছেন বলে তিনি মনে করেন।

১৯৩৪ সালের ২৫ জানুয়ারি সিলেটের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন মুহিত। শিক্ষা, সরকারি চাকরি, রাজনীতি, অর্থনীতি, সাহিত্য মিলিয়ে বর্ণাঢ্য জীবন তার। তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। ভাষাসংগ্রামেও অংশ নিয়েছেন। তিনি ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন। এর পর টানা ১০ বছর অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে এরশাদ সরকারের সময় ১৯৮২ থেকে ৮৩ সাল পর্যন্ত অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি। দেশের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশিবার বাজেট দিয়েছেন তিনি।

২০১৮ সালে অবসর নেওয়ার পর বিশেষ কোনো কিছুতে সম্পৃক্ত নন তিনি। স্ত্রী সৈয়দা সাবিয়া মুহিত, ছেলে, পুত্রবধূ, নাতি ও মেয়েকে নিয়ে থাকছেন বনানীতে নিজ বাড়িতে।