যৌতুক মামলার বিরোধকে কেন্দ্র করে পাবনায় আদালত চত্বর থেকে সাক্ষী অপহরণ ও পরে আইনজীবীদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার পাবনার আদালত চত্বরে বহিরাগত দুর্বৃত্তদের হামলায় তিন আইনজীবী আহত হয়েছেন বলে পাবনা জেলা আইনজীবী সমিতি জানিয়েছে।

পাবনা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট বেলায়েত আলী বিল্লু সমকালকে এই তথ্য জানিয়েছে।

তিনি বলেন, পাবনা আদালতের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট খায়রুল আলম দুলাল তার মক্কেল মো.কামরুজ্জামান,  কামরুজ্জামানের মেয়ে জামাই ও মামলার সাক্ষী মো. মাসুদুজ্জামানকে নিয়ে বুধবার সকালে আদালতে আসেন। তারা কামরুজ্জামানের স্ত্রীর দায়ের করা যৌতুকের মামলায় চার্জ গঠনের শুনানিতে অংশ নিতে এসেছিলেন। তারা দুপুরে পাবনা উকিল বার সমিতির কাছে একটি হোটেলে খাচ্ছিলেন। তখন একদল দুর্বৃত্ত তাদের ওপর হামলা করে।

এসময় কামরুজ্জামান পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও বহিরাগত যুবকরা তার জামাই মাসুদুজ্জামানকে ধরে নিয়ে গিয়ে প্রথমে শহরের তাড়াশ ভবনে ও পরে এলএমবি মার্কেটের একটি কক্ষে আটকে রাখে। 

পরে তারা ফিরে এসে আদালত প্রাঙ্গণে এসে মামলার ইস্যুতে কামরুজ্জামান ও তার আইনজীবীদের সঙ্গে তর্ক শুরু করে। একপর্যায়ে তারা আইনজীবী রিজভী শাওন, আশরাফুজ্জামান প্রিন্স ও প্লাবনকে মারপিট করতে শুরু করে। 

দুর্বৃত্তদের হাত থেকে বাঁচতে আইনজীবী রিজভী শাওন, আশরাফুজ্জামান প্রিন্স ও প্লাবন পৌরসভা ভবনে দৌড়ে আশ্রয় নিলে বহিরাগত যুবকেরা সেখানেও তাদের মারপিট করে। 

আইনজীবীদের মারধরের খবর ছড়িয়ে পড়লে সহকর্মীরা পাবনা পৌরসভা চত্বরে আসার চেষ্টা করেন। তবে পৌরসভার নিরাপত্তা কর্মীরা গেট বন্ধ করে দেয়। 

আহত আইনজীবী রিজভী শাওন সমকালকে বলেন, ‘সিনিয়র আইনজীবী খায়রুল আলমের মামলার সাক্ষীকে অপহরণ হওয়ায় আমরা তার কাছে ঘটনা শুনছিলাম। এ সময় জনি ও রাশেদ নামের দুই যুবকের নেতৃত্বে দুই সন্ত্রাসী আমাদের মারপিট শুরু করে। তারা সাক্ষী মাসুদুজ্জামানকে অপহরণ করে ভয়ভীতি দেখিয়েছে। পরে, ঘন্টা দুয়েক পরে পাঁচ হাজার টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দিয়েছে। আদালত চত্বরে এমন হামলার শিকার হবো তা কখনো কল্পনাও করিনি। আমরা এ ঘটনার বিচার চাই।’

পাবনা আদালতের আইনজীবী সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘পৌরসভা চত্বরে ও মেয়রের কক্ষের সামনেই হামলা ও মারপিট করা হলেও পৌর কর্তৃপক্ষ আমাদের রক্ষায় কোন উদ্যোগ নেয়নি। বরং হামলার খবর পেয়ে সহকর্মী আইনজীবীরা পৌরসভা কার্যালয়ে আমাদের উদ্ধারের জন্য গেলেও তাদের ভেতরে ঢুকতে দেয়া হয়নি। দীর্ঘ সময় পৌরসভার প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে রাখে।’

পাবনা পৌরসভার মেয়র শরীফ উদ্দিন এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আইনজীবীদের কয়েকজন পৌরসভা চত্বরে ঢুকলে তাদের পিছু নেওয়া কয়েকজন সেখানে এসে তাদের মারপিট করেছে বলে শুনেছি। বরং আমরা গিয়ে তা দমনোর চেষ্টা করেছি। সন্ত্রাসীরা মারপিটের পর জন্ম নিবন্ধনের সেবা নিতে আসা ব্যক্তিদের ভিড়ে মিশে যায় এবং পরে লাপাত্তা হয়ে যায়। পরে আইনজীবীরা দলবেঁধে পৌরভবনে আসলে নিরপত্তার স্বার্থে ফটক বন্ধ রাখা হয়েছিল। তবে এ ঘটনায় কারা হামলাকারী আমরা চিহ্নিত করতে পারিনি।’ 

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম জুয়েল বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই কিন্তু পৌরসভা অফিস চত্বরে কাউকে পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

পাবনা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট বেলায়েত আলী বিল্লু জানান, আইনজীবীদের উপর হামলা ও লাঞ্ছিতের ঘটনায় আইনজীবী সমিতি পদক্ষেপ নেবে। মামলা দায়েরের বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন।