রাজধানীর কলাবাগানের তেঁতুলতলা মাঠে থানা নয়, শিশুদের জন্য খেলার মাঠ সংরক্ষণ করতে হবে। মাঠ রক্ষায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পাশাপাশি মাঠের দাবিতে আন্দোলকারী মা-ছেলেকে আটকে রাখা ও হয়রানির নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের শাস্তি দিতে হবে।

সোমবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর রুনি হলে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলন এ দাবি জানান বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা। সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে এএলআরডি, বাপা, বেলা, আসক, ব্লাস্ট, গ্রীন ভয়েস, নিজেরা করি, নাগরিক উদ্যোগ, নারী পক্ষ, বাংলাদেশ উদীচী শিল্প গোষ্ঠী,  হিউম্যান রাইট্‌স  সাপোর্ট সোসাইটি ও টিআইবি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নিজেরা করির সমন্বয়ক খুশি কবির, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, নগর বিশ্লেষক ও শিক্ষাবিদ স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) যুগ্ম-সম্পাদক স্থপতি ইকবাল হাবিব, স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আহমেদ কামরুজ্জামান মজুমদার, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সহ-সাধারণ সম্পাদক সংগীতা ইমাম ও মাহমুদ সেলিম প্রমুখ।

লিখিত বক্তব্যে স্থপতি ইকবাল হাবীব বলেন, তেঁতুলতলা মাঠে কলাবাগান পুলিশের থানা ভবন নির্মাণ করাকে কেন্দ্র করে প্রতিবাদ করায় উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সংগীত বিভাগের কর্মী সৈয়দা রত্না ও তার ছেলে ইসা আব্দুল্লাহ সাদেকিন পিয়াংশুককে কলাবাগান থানায় আটকে রাখা হয়।  পরে মধ্যরাতে কলাবাগান থানা পুলিশ মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেয়। তাদের আটকের বিষয়ে পুলিশ নির্দিষ্ট করে কোনো কথা বলেনি। তাদের কাউকে ফোন করেও পাওয়া যায়নি।  সারাদিন একজন নারী ও তার ১৭ বছরের ছেলেকে আটকে রেখেছে- এটা আমাদের জানানো হয়নি। আমাদের থানায় ঢুকতে দেয়নি। ভারপ্রাপ্ত ও সেকেন্ড অফিসার সারাদিন থানায় ছিলেন না, ফোন ধরেননি। ৫০ বছর ধরে ব্যবহার করা এলাকাবাসীর একমাত্র মাঠের জায়গায় কোনোভাবে থানাভবন নির্মাণ করা যাবে না। এখানে এলাকার ছেলে-মেয়েরা খেলাধুলা করবে। ঈদের জামাত হবে। সকালে এলাকাবাসী হাঁটবে। আমরা জেনেছি, ভূমি মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই মাঠকে থানা বানানোর অনুমতি দিয়েছে। আমরা এই আদেশের তীব্র নিন্দা জানাই।

খুশি কবির বলেন, কোনো অভিযোগ ছাড়া একজন মা ও শিশু সন্তানকে ১৩ ঘণ্টার বেশি আটকে রাখা দেশের সংবিধান ও আইনের লঙ্ঘন।

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, আমাদের দাবি খুব স্পষ্ট- এই খেলার মাঠ খেলার মাঠই থাকবে। পাশাপাশি গতকাল ঘটে যাওয়া ঘটনার আমরা নিরপেক্ষ তদন্ত চাই। এলাকাবাসী বরাবরের মতো এবারও যেন ওই মাঠে ঈদের জামাত করতে পারে এটাই আমাদের ইচ্ছা এবং দাবি।

মাঠ রক্ষা ও মা-ছেলেকে হয়রানির বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন বলেন, জনগণ পুলিশের বন্ধু। আমি মনে করি এই মাঠ সংরক্ষণে পুলিশকেই সবার আগে আন্দোলনে নামা দরকার। এটা থানা হতে পারে না। কারণ, এই এলাকার জনগণের খেলার মাঠ এটা।

কলাবাগানের মাঠ রক্ষায় আজ বিকেল ৩টায় তেঁতুলতলা মাঠের সামনে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ হবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।