নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীতে কার্গোর ধাক্কায় এমভি সাবিত আল হাসান নামের একটি লঞ্চ ডুবে ৩৪ যাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় তিনজনকে অভিযুক্ত করে দেওয়া অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছেন আদালত।

বুধবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নুরুন্নাহার ইয়াসমিনের আদালত শুনানি শেষে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। পরে মামলাটি বিচারিক আদালতে পাঠানো হয়।

আসামিরা হলেন- এসকেএল-৩ কার্গো জাহাজের মাস্টার ওহিদুজ্জামান (৫০), সুকানি আনোয়ার মল্লিক (৪০) ও ইঞ্জিনচালক মো. মজনু মোল্লা (৩৮)।

বিষয়টি নিশ্চিত করে নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক আসাদুজ্জামান বলেন, বাদীর কোনো আপত্তি না থাকায় মামলার ১৪ আসামির মধ্যে তিনজনকে অভিযুক্ত করা হয়। বাকি ১১ জনকে অব্যাহতি দিয়ে দিয়ে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। এর আগে গত ২৩ মার্চ অভিযোগপত্র থেকে ১১ আসামির নাম বাদ দেওয়ার বিষয়ে বাদীর মতামত জানতে চেয়ে তাকে তলব করেছিলেন আদালত।

মামলা থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্তরা হলেন- কার্গোর গ্রিজার হৃদয় হাওলাদার ও ফারহান মোল্লা, সুকানি নাজমুল মোল্লা, লস্কর রাজিবুল ইসলাম, মো. আবদুল্লাহ, নুর ইসলাম, সাকিব সরদার, মো. আফসার, সাগর হোসেন, আলিফ শেখ ও বাবুর্চি আবুল বাসার।

বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দরের উপপরিচালক (নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক) বাবু লাল বৈদ্য সমকালকে বলেন, ’আমি মামলার এজাহারে কারও নাম উল্লেখ করিনি। মামলার তদন্ত করতে গিয়েই এই আসামিদের নাম উঠে আসে।’

লঞ্চ মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ যাত্রী পরিবহন সংস্থার জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি বদিউজ্জামান বাদল বলেন, ’শীতলক্ষ্যায় লঞ্চডুবির ঘটনায় তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। আমরা এই মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত চাই।’

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ৪ এপ্রিল সন্ধ্যায় ৪৫ জন যাত্রী নিয়ে নারায়ণগঞ্জ লঞ্চ টার্মিনাল থেকে এমভি সাবিত আল হাসান লঞ্চটি মুন্সীগঞ্জের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। ১৫ মিনিট পর লঞ্চটি কয়লাঘাট পৌঁছালে পেছন থেকে এসকেএল-৩ নামে একটি কার্গোর ধাক্কায় লঞ্চটি ডুবে যায়। এতে লঞ্চের ৪৫ যাত্রীর মধ্যে ২ শিশু ও ১৭ নারীসহ ৩৪ জনের মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নৌ বন্দরের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) বাবু লাল বৈদ্য বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের আসামি করে বন্দর থানায় একটি মামলা করেন।