কুমিল্লার দেবিদ্বারে যৌতুক না পেয়ে স্বামীর দেওয়া আগুনে দগ্ধ সাদিয়া আক্তার মারা গেছেন। চিকিৎসক ও স্বজনদের প্রাণান্তকর চেষ্টার পরও শনিবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

বিষয়টি সমকালকে নিশ্চিত করেছেন দেবিদ্বার উপজেলার গুনাইঘর দক্ষিণ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. হুমায়ুন কবীর। শ্বাসনালীসহ শরীরের প্রায় ৪০ শতাংশ পুড়ে যাওয়ায় সাদিয়াকে বাঁচানো সম্ভব নাও হতে পারে, এমন আশঙ্কা চিকিৎসকরা আগেই করেছিলেন।

সাদিয়া দেবিদ্বার উপজেলার পদ্মকোট গ্রামের ফরিদুল আলমের মেয়ে। পেশায় ওয়ার্কশপের মালিক সাদিয়ার স্বামী আসাদ সরকার একই উপজেলার গুনাইঘর গ্রামের নুরুল হক সরকারের ছেলে। এর আগে গত ২৩ এপ্রিল দেবিদ্বার পৌর এলাকার বানিয়াপাড়ার ভাড়া বাসায় সাদিয়ার শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন তার স্বামী। গত বুধবার রাতে এ ঘটনায় পরিবারের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আসাদকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।

সাদিয়ার পরিবারের অভিযোগ, ২০২০ সালে দেবিদ্বার উপজেলার গুনাইঘর গ্রামের আসাদ সরকারের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী পদ্মকোট গ্রামের সাদিয়া আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে যৌতুকের জন্য সাদিয়াকে চাপ দিচ্ছিলেন তার স্বামী। বাবার বাড়ি থেকে পাঁচ লাখ টাকা এনে না দিলে তাকে আগুনে পুড়িয়ে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। এ নিয়ে একাধিকবার তাকে নির্যাতনও করা হয়। তাদের একটি ছেলে সন্তান জন্মের কয়েক ঘণ্টা পরই মারা যায়।

গত ২৩ এপ্রিল সকাল ৮টার দিকে দেবিদ্বার পৌর এলাকার বানিয়াপাড়ার ভাড়া বাসায় সাদিয়ার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন তার স্বামী আসাদ। পরে প্রতিবেশীদের কাছে প্রচার করা হয় ‘গ্যাসের চুলা থেকে আগুনে দগ্ধ হয়েছেন সাদিয়া’। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটে ভর্তি করে। পরে নেওয়া হয় আইসিইউতে।

সাদিয়ার ছোট বোন নাদিয়া আক্তার সমকালকে বলেন, বার্ন ইউনিটে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা বোনকে বাঁচাতে অনেক চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তার শ্বাসনালীসহ শরীরের ৪০ ভাগ পুড়ে যাওয়ায় বাঁচানো যায়নি।

তিনি বলেন, দুলাভাই তাকে শরীরে আগুন দিয়ে হত্যা করলেও এখন গ্যাসের চুলার আগুন বলে সত্য ঘটনা আড়াল করতে চাচ্ছেন। বোন মারা যাওয়ার আগেও তার ওপর নির্যাতন ও সর্বশেষ আগুন ধরিয়ে দেওয়ার বর্ণনা দিয়ে গেছেন। আমরা তা ভিডিও করে রেখেছি।

গুনাইঘর দক্ষিণ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, সাদিয়ার মরদেহ ডিএমপির শাহবাগ থানার তত্ত্বাবধানে ময়নাতদন্ত হবে। এরপর শনিবার দুপুরের মধ্যে মরদেহ নিয়ে তার স্বজনরা গ্রামে যেতে পারে।

দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, গত বুধবার রাতে এ ঘটনায় সাদিয়ার বাবা ফরিদুল আলম বাদী হয়ে স্বামীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেন। আমরা ওই রাতেই অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত আসাদ সরকারকে গ্রেপ্তার করি। পরদিন তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। এবার যেহেতু ভিকটিম সাদিয়া মারা গেছেন, তাই ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর আমরা এ বিষয়ে বিধি মোতাবেক পদক্ষেপ নেব।