আমদানি নিষিদ্ধ পণ্যের তালিকা আগের তুলনায় বড় করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। নতুন তালিকায় বিভিন্ন ধরনের পেট্রোলিয়াম তেল ও গ্যাস, চিংড়ি মাছ, ঘন চিনি, পুরোনো মোটরসাইকেল, থ্রিহুইলারের দুই স্ট্রোকবিশিষ্ট ইঞ্জিনসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিয়ন্ত্রিত আমদানি পণ্যের সংখ্যাও বেড়েছে।

সম্প্রতি নতুন আমদানি নীতি আদেশ (২০২১-২০২৪) জারি করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এ আদেশ ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। তবে ২০২৪ সালের ৩০ জুনের পর নতুন আমদানি নীতি আদেশ ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত এ আদেশের কার্যকারিতা অব্যাহত থাকবে। সর্বশেষ কার্যকর ছিল আমদানি নীতি আদেশ ২০১৫-২০১৮।

নতুন আমদানি নীতিতে লিকুফাইড ন্যাচারাল গ্যাস (এলএনজি) ও লিকুফাইড প্রপেন ও বিউটেনেস ছাড়া অন্যান্য পেট্রোলিয়াস গ্যাস ও হাইড্রোকার্বন আমদানি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পেট্রোলিয়াম কোক ও পেট্রোলিয়াম বিটুমিন ব্যতীত পেট্রোলিয়াম তেলের রেসিডিউগুলোসহ এ জাতীয় সব পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আগের নীতিমালায় এসব বিষয়ে কিছু বলা ছিল না। এদিকে ঘন চিনি, কৃত্রিম সরিষার তেল, পলিপ্রোপাইলিন ব্যাগ ও পলিথিলিন ব্যাগ আমদানি করা যাবে না। থ্রিহুইলার যানবাহনের দুই স্ট্রোকবিশিষ্ট ইঞ্জিনসহ চেসিস, দুই স্ট্রোকবিশিষ্ট ইঞ্জিনের থ্রিহুইলার যানবাহন ও গ্যাস সিরিঞ্জ আমদানি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পুরোনো বা ব্যবহূত মোটরসাইকেল আমদানিও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এতদিন তিন বছর বা তার কম সময়ের ব্যবহূত মোটরসাইকেল আমদানির সুযোগ ছিল। পাশাপাশি ১৬৫ সিসির বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন মোটরসাইকেল আমদানি করা যাবে। তবে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর বেলায় ১৬৫ সিসির সীমা কার্যকর হবে না।

এতদিন ৭৫ ডেসিবেল মাত্রার বেশি হর্ন আমদানি নিষিদ্ধ ছিল। নতুন নীতিমালায় ১০০ ডেসিবেলের বেশি মাত্রার হর্ন আমদানি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ ছাড়া ক্যাসিনোসহ জুয়া খেলায় ব্যবহূত যন্ত্রপাতি, যন্ত্রাংশ ও সরঞ্জাম আমদানি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পপ সীড, পোস্তদানা, ঘাস, ভাং, ওয়াইন লিজ, আরগোল আমদানি করা যাবে না।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আমদানি নীতির মূল লক্ষ্য স্থানীয় ও রপ্তানিমুখী শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। যাতে এলডিসি থেকে উত্তরণের পরের চ্যালেঞ্জ স্থানীয় উদ্যোক্তারা মোকাবিলা করতে পারেন। এবারের নীতিতে ৫০০ সিসি ইঞ্জিন ক্ষমতার মোটরসাইকেলের যন্ত্র ও যন্ত্রাংশ আমদানি করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। যন্ত্রাংশ দিয়ে মোটরসাইকেল বানিয়ে রপ্তানি করতে হবে। স্থানীয় বাজারে ৫০০ সিসির মোটরসাইকেল বেচাকেনা করা যাবে না।

নতুন নীতিমালায় বিনামূল্যে নমুনা, বিজ্ঞাপন সামগ্রী ও উপহার দ্রব্য আমদানির সীমা বাড়ানো হয়েছে। ওষুধের আমদানিকারক, ইন্ডেন্টর ও এজেন্টরা সর্বোচ্চ ১০ হাজার ডলারের ভেষজ ও ওষুধ আমদানি করতে পারবেন। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী প্রায় ৮ লাখ ৬০ হাজার টাকা মূল্যের পণ্য আমদানি করা যাবে। আগের আমদানি নীতিতে এ খাতে সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকার বিনামূল্যে আমদানির সুযোগ ছিল। প্রধান আমদানি-রপ্তানি নিয়ন্ত্রকের দপ্তরের পূর্বানুমোদন ছাড়া তৈরি পোশাক রপ্তানির জন্য নমুনা আমদানি প্রায় দ্বিগুণ বাড়ানো হয়েছে। রপ্তানির উদ্দেশ্যে নতুন ডিজাইনের সামগ্রী উৎপাদন অথবা বিদেশি ক্রেতাদের পছন্দ অনুযায়ী স্থানীয়ভাবে মালপত্র উৎপাদনের সুবিধার্থে এ সুবিধা দিয়েছে সরকার।