পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাংলা একাডেমি পুরস্কার দেওয়ায় তীব্র প্রতিবাদ শুরু হয়েছে ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে। প্রতিবাদে বাংলা একাডেমি থেকে পাওয়া ‘অন্নদাশঙ্কর রায় সম্মান’ ফিরিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন লোকসংস্কৃতি গবেষক ও সাহিত্যিক রত্না রশিদ বন্দ্যোপাধ্যায়। 

২০১৯ সালে ২৬ জুলাই বাংলা একাডেমির তরফে অন্নদাশঙ্কর স্মারক সম্মানে ভূষিত করা হয়েছিল রত্না রশিদ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। একই সঙ্গে বাংলা সাহিত্য একাডেমির বাংলা উপদেষ্টা পরিষদ থেকে পদত্যাগ করেছেন আন্দামানের বাসিন্দা অনাদিরঞ্জন বিশ্বাস। 

গেলো ২৫শে বৈশাখ সাহিত্য চর্চায় নিরলস সাধনার জন্য বাংলা একাডেমির  বিশেষ পুরস্কার পান পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। চলতি বছর থেকে প্রথম প্রবর্তিত করা হয় পশ্চিমবঙ্গ বাংলা একাডেমির নামাঙ্কিত এই বিশেষ পুরস্কার। সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্যের সঙ্গে নিরলসভাবে কাজ করার পরেও, যারা নিরন্তর সাহিত্য সাধনা করে চলেছেন তাদের এই পুরস্কার দেওয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত নেয় বাংলা একাডেমি। আর প্রথম বছরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যাযয়ের ‘কবিতা বিতান' কাব্যগ্রন্থের জন্য বিশেষ এই পুরস্কার তার হাতে তুলে দেয় বাংলা একাডেমি। 

এদিকে মমতাকে এই পুরস্কার দেওয়ার পর শুরু হয় তীব্র সমালোচনা। ব্যঙ্গাত্মক মিমে ভরে যায় সোশ্যাল মিডিয়া। চিত্র পরিচালক প্রশান্ত বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রসহ পশ্চিমবঙ্গের সাংস্কৃতিক মনোভাবাপন্ন মানুষজন সরাসরি অথবা মজার ছলে তীব্র প্রতিবাদ জানায়।

সমালোচনায় মুখর হয়েছেন বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতারাও। নেটিজেনদের একাংশের পক্ষ থেকেও এসেছে কটাক্ষ। একসময় কবিতার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নোবেল পুরস্কার দেওয়ার দাবি ওঠে ফেসবুকে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে মমতার ‘হরে করো কমবা, গরু ডাকে হামবা' কিংবা "আব্বা ডাব্বা জব্বা" কবিতার পংক্তি ধরে ব্যাখ্যা করতে বসতে হয় তৃণমূল নেতাদের।  

গোটা ঘটনায় অপমানিত হয়েছেন এমন উল্লেখ করে লোকসংস্কৃতি গবেষক ও সাহিত্যিক রত্না রশিদ বন্দ্যোপাধ্যায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে চিঠি লিখে বাংলা একাডেমিকে বলেছেন  ‘মুখ্যমন্ত্রীকে এই পুরস্কার প্রদানের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গ বাংলা একাডেমি শুধুমাত্র একটি ন্যক্কারজনক দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে তাই নয়, এর মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যের সত্যিকারের নিরলস চর্চারত সমস্ত মানুষকে অপমানিত করেছে।’ 

বাংলা অ্যাডভাইজারি বোর্ডের অন্যতম সদস্য অনাদিরঞ্জন বিশ্বাস পদত্যাগ করতে চেয়ে চিঠি দিয়ে বলেছেন, ‘এবছরের পঁচিশে বৈশাখ যে ঘটনা ঘটেছে তা বাংলা কবিতা জগতে অপমানের।’