কিশোরগঞ্জের মিঠামইন ও ইটনার বিভিন্ন গ্রামের অন্তত ৬০ হাজার পানিবন্দি মানুষ ডাকাত আতঙ্কে ভুগছে। ১ সপ্তাহ ধরে পানিবন্দি এসব পরিবার তাদের ধান, চাল রক্ষায় রাত জেগে পাহাড়া দিচ্ছে।

এখনো নামেনি বন্যার পানি। হাওরের মাঝখানে ছোট ছোট গ্রাম যেন পানির উপর ভাসছে। এর মধ্যে নতুন করে পানির পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়া আতঙ্কে রয়েছে বানভাসি পরিবারগুলো। এমন আতঙ্কের মধ্যে রাতের আঁধারে এক শ্রেণির জলদস্যু ইঞ্জিনচালিত ট্রলার নিয়ে দেশীয় অস্ত্রসহ পানিবন্দি গ্রামের পাশে মহরা দিচ্ছে বলে গ্রামবাসীরা অভিযোগ করেছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতেও মিঠামইন উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের সাবাসপুর, নাসিরপুর, কান্দা, ঢাকী ইউনিয়নের গোবিন্দপুর, কোলাখানি ও গোপদিঘী ইউনিয়নের নতুন শরীফপুর, অলুয়া গ্রামে সশস্ত্র ডাকাত দল হানা দেওয়ার চেষ্টা করে। গ্রামবাসী ডাকাত দলের ট্রলারের উপস্থিতি টের পেয়ে মসজিদে মাইকিং করেন। এরপর এলাকাবাসী রাত জেগে তাদের বাড়িঘর পাহাড়া দেন।

মিঠামইনের ঘাগড়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. কবির মিয়া জানান, বৃহস্পতিবার রাতে সাবাসপুর গ্রামে ডাকাতরা হানা দেয়। মানুষজন টের পেয়ে যাওয়ায় ট্রলার নিয়ে এলাকাত্যাগ করে তারা।

তিনি আরও জানান, প্রতিটি গ্রামে পাহারার ব্যবস্থা করা হবে।

এদিকে ইটনা উপজেলার শহিলা, বেতেগা, ধনপুর, দাসপাড়া, আমিরগঞ্জেও ডাকাতির চেষ্টা চালিয়েছে সশস্ত্র ডাকাত দল। উপজেলার কাটখাল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম জানান, কাটখাল পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের কর্মকর্তাসহ ট্রলার নিয়ে প্রতিটি গ্রামে গ্রামে গিয়ে মাইকিং করে বানভাসিদের সতর্ক করেন তিনি।

অষ্ট্রগ্রাম সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সামুয়েল সাংমার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি প্রথন শুনেছি। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ইটনা ও অষ্টগ্রাম থানা পুলিশকে দৃষ্টি রাখার জন্য বলবো। এছাড়াও সামাজিকভাবে প্রত্যেকটি এলাকায় পাহাড়াসহ প্রতিরোধের ব্যবস্থা করতে হবে।