বিভিন্ন ছাড়ের কারণে অনাদায়ী অনেক ঋণ নিয়মিত দেখাতে পারছে ব্যাংকগুলো। আমদানি-রপ্তানিতে ভালো প্রবৃদ্ধির ফলে কমিশন আয় বেড়েছে। আবার বিভিন্ন সেবার বিপরীতে চার্জ বাড়িয়েছে অধিকাংশ ব্যাংক। সব মিলিয়ে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে পরিচালন মুনাফা বেড়েছে বেশিরভাগ ব্যাংকের। অবশ্য ব্যাংকগুলো শেষ পর্যন্ত কী হারে লভ্যাংশ দিতে পারবে- এই মুনাফার ভিত্তিতে তা বলা যাবে না।

পরিচালন মুনাফা ব্যাংকের প্রকৃত মুনাফা নয়। এখান থেকে ঋণের শ্রেণিমান বিবেচনায় নির্ধারিত হারে নিরাপত্তা সঞ্চিতি (প্রভিশন) সংরক্ষণ এবং নির্ধারিত হারে করপোরেট কর পরিশোধের পর নিট মুনাফার হিসাব হয়। নিট মুনাফার ওপর ভিত্তি করে ব্যাংকগুলো শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ দিয়ে থাকে। অনানুষ্ঠানিক সূত্রে ১২টি ব্যাংকের পরিচালন মুনাফার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে মধুমতি ছাড়া অন্য সব ব্যাংকের মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে বেড়েছে।

ব্যাংকাররা জানান, ব্যাংকগুলোর আয়ের বড় অংশ আসে ঋণের সুদ থেকে। আবার কোনো ঋণখেলাপি হলে তার বিপরীতে আয় দেখাতে পারে না ব্যাংক। তবে করোনাসহ বিভিন্ন কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আদায় না করেও আয় দেখাতে পারছে ব্যাংকগুলো। করোনার কারণে ২০২০ সালে কেউ এক টাকা না দিলেও তাকে খেলাপি করা হয়নি। ২০২১ সালে যে পরিমাণ ঋণ পরিশোধ করার কথা, এর ১৫ শতাংশ দিলেই নিয়মিত দেখানো হয়। চলতি বছরের প্রথম ত্রৈমাসিকে বিশেষ ছাড় ছিল না। তিন মাসে ১০ হাজার ১৬৭ কোটি টাকা বেড়ে ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৪১ কোটি টাকায় ঠেকেছে। এরপর গত ২২ জুনের এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, চলতি বছর বড় ঋণের ক্ষেত্রে যে পরিমাণ পরিশোধ করার কথা- জুনে ৫০, সেপ্টেম্বরে ৬০ ও ডিসেম্বরে ৭৫ শতাংশ পরিশোধ করলে আর খেলাপি হবে না। সিএমএসএমই ও কৃষি ঋণের ক্ষেত্রে এ হার হবে যথাক্রমে ২৫, ৩০ ও ৪০ শতাংশ।

ব্যাংকাররা জানান, অনাদায়ী ঋণের বিপরীতে আয় দেখানোর সুযোগ এবং আমদানিতে ৪১ শতাংশের ওপরে প্রবৃদ্ধি এবং রপ্তানি ৩৪ শতাংশ বৃদ্ধির ফলে মুনাফা কিছুটা ভালো হয়েছে। মুনাফা বাড়ানোর জন্য বেশিরভাগ ব্যাংক সার্ভিস চার্জ বাড়িয়েছে। এসব না হলে মুনাফা কমত। কেননা, ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ঋণের সুদহারের সর্বোচ্চ সীমা ৯ শতাংশ বেঁধে দেওয়ার পর ব্যাংকের সুদ আয়ের হার কমছে। এখন আবার ব্যক্তি পর্যায়ের মেয়াদি আমানত ও প্রভিডেন্ট ফান্ডে মূল্যস্ম্ফীতির চেয়ে কম সুদ দেওয়া যাচ্ছে না।

সব মিলিয়ে গত মে শেষে ঋণ আমানতে সুদহারের ব্যবধান নেমেছে ৩ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশে। গত বছরের একই মাসে যা ৩ দশমিক ২৬ শতাংশ ছিল। আর ২০২০ সালের মার্চে ছিল ৪ শতাংশের ওপরে। এর মধ্যে গত মে মাসের পয়েন্ট টু পয়েন্ট মূল্যস্ম্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৪২ শতাংশ। এতে করে আগামীতে ব্যক্তি পর্যায়ের আমানতে সুদ আরও বাড়াতে হবে। এ রকম অবস্থায় ঋণের সুদহার ৯ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখলে ব্যাংকগুলো লোকসানে পড়বে কিনা এমন প্রশ্ন উঠছে। যদিও কেন্দ্রীয় ব্যাংক গত ৩০ জুন মুদ্রানীতি ঘোষণা অনুষ্ঠানে জানিয়েছে, আপাতত সুদহারের সীমায় কোনো পরিবর্তন আনা হবে না।