সরকার অর্থনীতির সব নিয়মকানুন ভেঙে চলছে বলে মনে করছে বিএনপি। দলটি বলছে, সব বিধি ভঙ্গ করে শুধু নিজেদের ঘনিষ্ঠ ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের লাভবান করার জন্য রাষ্ট্রের ভয়াবহ ক্ষতি করছে সরকার।

সোমবার রাতে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে নেতারা দেশের সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বৈঠকের বিষয়বস্তু তুলে ধরা হয়।

বিএনপির ভাষ্য, বৈদেশিক মুদ্রা পাচার করে বিদেশের বিভিন্ন স্থানে বাড়ি, ব্যবসা, স্থাপনা তৈরি করে দেশের অর্থনীতির ভয়াবহ ক্ষতি সাধন করা হচ্ছে। এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব সামাজিক ও অর্থনীতি এবং সমগ্র অর্থনীতিকে দেউলিয়া করে ফেলবে বলে অর্থনীতিবিদরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

বৈঠকে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল বা ইডিএফ নাম দিয়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে সরকারের শীর্ষ মহলের ঘনিষ্ঠ প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সাড়ে সাত মিলিয়ন ডলারের ঋণ প্রদানের ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এখন ৩৪ দশমিক শূন্য ২ বিলিয়ন ডলার, যার অধিকাংশই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের ফোর্সড লোনে পর্যবসিত হয়েছে।

বন্যাদুর্গতদের বিষয়ে বলা হয়, সরকার বন্যাকবলিত এলাকায় দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে ব্যর্থ হয়েছে। বানভাসি মানুষের মধ্যে পর্যাপ্ত ত্রাণ পৌঁছাতে পারেনি। বিশেষ করে বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসনে সরকারের কর্মকাণ্ড দৃশ্যমান নয়।

জনশুমারি-গৃহগণনা সমীক্ষা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে দাবি করে বিএনপি বলছে, দেশজুড়ে জনশুমারি ও গৃহগণনার কাজ সঠিকভাবে হয়নি বলে পরিকল্পনামন্ত্রী স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। এই সরকারের আমলে সব ধরনের সমীক্ষা জরিপ এবং তথ্য সংগ্রহের কাজে প্রকৃত তথ্য কখনোই পাওয়া সম্ভব হয়নি। জনগণকে এবং বিশ্বজনমতকে বিভ্রান্ত করার জন্য, দেশের উন্নয়ন সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণা সৃষ্টি করার জন্যই সরকার এই ধরনের নীতিবিবর্জিত কার্যকলাপ করে চলেছে। ফলে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বাংলাদেশের সব তথ্যের ওপর আস্থা রাখতে পারছে না।

সমাজে নীতিনৈতিকতার চরম অবক্ষয় হয়েছে দাবি করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সভায় সম্প্রতি সাভারে স্কুলশিক্ষক হত্যার ঘটনা, নড়াইলে অধ্যক্ষকে অপমানসহ সারাদেশে সামাজিক নৈরাজ্যের চিত্রে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

সম্প্রতি জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের ৫০তম অধিবেশনে উত্থাপিত ডিজিটাল যুগে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকতার নিরাপত্তা জোরদার শীর্ষক প্রতিবেদনে 'বাংলাদেশের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবিতে' সন্তোষ প্রকাশ করে বিএনপি বলেছে, এটাতে প্রমাণিত হয়েছে যে এই সরকার সংবাদমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করে গণতন্ত্রকে হরণ করেছে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল সভায় দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উপস্থিত ছিলেন।