মুজিববর্ষ উপলক্ষে গৃহহীনদের দোওয়া উপহারের ঘর নিয়ে সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে এক সাংবাদিককে টেকনাফের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কায়সার খসরুর গালিগালাজের ঘটনায় উষ্মা প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি এ ঘটনায় অভিযুক্ত ইউএনও'র বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তাও রাষ্ট্রপক্ষের মাধ্যমে জানতে চাওয়া হয়েছে।

বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াত সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রোববার উষ্মা প্রকাশ করে এই আদেশ দেন।  হাইকোর্ট বলেন, ইউএনও যে ভাষা ব্যবহার করেছেন তা মাস্তানের ভাষার চেয়েও খারাপ। কোনো রং হেডেড ব্যক্তি ছাড়া কেউ এ ধরনের ভাষা ব্যবহার করতে পারেন না।

সাংবাদিককে গালিগালাজের ঘটনায় গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন রোববার আদালতের নজরে আনেন দুর্নীতি দমন কমিশনের ( দুদক) আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান। এসময় রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক।

প্রতিবেদনগুলো পর্যালোচনার পর হাইকোর্ট বলেন, একজন প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা যে ভাষা ব্যবহার করেছেন তা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য ও আপত্তিকর। কোনো রং হেডেড ব্যক্তি ছাড়া কেউ এ ধরনের ভাষা ব্যবহার করতে পারেন না। ইউএনও কায়সার খসরুর অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ দুঃখজনক ও অগ্রহণযোগ্য। ইউএনও যে ভাষা ব্যবহার করেছে তা মাস্তানের ভাষার চেয়েও খারাপ।

পরে এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা রাষ্ট্রপক্ষকে জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

গত ২১ জুলাই ‘নিচু জায়গায় নির্মাণ করা উপহারের ঘর পানিতে ভাসছে’ শিরোনামে একটি অনলাইনে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ‘কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা হোয়াব্রাং এলাকার সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের সবগুলো নতুন ঘর পানিতে ভাসছে। ফলে সেখানে থাকা ২৭টি পরিবার চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।’

'মুজিববর্ষ উপলক্ষে উপহারের ঘরগুলো এমন নিচু জায়গায় করা নিয়ে স্থানীয় লোকজন শুরু থেকেই আপত্তি তুলেছিলেন। তাদের অভিযোগ ছিল, ঘর তৈরিতে মাটির নিচে ইট ব্যবহার করা হয়নি। এ ছাড়া নিম্নমানের ইট, বালি-রড, কাঠ ও অন্যান্য সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। এজন্য তারা দায়ী করেন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানকে।'

পরে ওই সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে গত ২১ জুলাই রাতে ওই অনলাইন নিউজ পোর্টালের কক্সবাজার প্রতিনিধি সাইদুল ফরহাদকে ফোনে গালিগালাজ করেন ইউএনও কায়সার খসরু, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। পরদিন ঘটনার জন্য সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশাজীবিদের উপস্থিতিতে হাতজোড় করে ক্ষমা চান ওই ইউএনও।