প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ঢাকা-নিউইয়র্ক বিমান চলাচলের প্রক্রিয়া এখন চলছে। তবা কবে নাগাদ ঢাকা-নিউইয়র্ক বিমান পুনরায় কবে চালু করা সম্ভব হাবে তা এখনও সঠিকভাবে বলা যাচ্ছে না। বিমান চলাচলের দীর্ঘ মেয়াদি প্রক্রিয়া এখন চলছে।

নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দর সে সকল শর্ত দিয়েছে আমরা এখনো পূরণ করতে পারিনি। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৭তম অধিবেশনে যোগদান শেষে গত শনিবার সকালে নিউইয়র্কস্থ জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, নিউইয়র্ক ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় প্রবাসীরা চাইলেই কানাডা হয়ে বিমানে বাংলাদেশ যেতে পারেন। তিনি এ ব্যাপারে উদাহরণ দিয়ে বলেন, আপনারা তো নিউইয়র্কে এসেই বিমানে ওঠেন, তাহলে কানাডা থেকে উঠলে ক্ষতি কী? কানাডা তো বেশি দূরে নয়, মাত্র এক ঘণ্টার যাত্রা। তাই তিনি বিমানপ্রেমীদের কানাডা হয়ে বাংলাদেশ ভ্রমণের পরামর্শ দেন।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, যারা নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলতে চেয়েছিলেন তারা কারা? আওয়ামী লীগ সব সময় দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করেছে। আওয়ামী লীগ সর্বদা জনগণের ভোটেই ক্ষমতায় আসে। আওয়ামী লীগ কখনো কারচুপির মাধ্যমে ক্ষমতায় আসেনি বরং আওয়ামী লীগ সব সময় জনগণের ভোটেই ক্ষমতায় আসে।

প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করেছে। যদি কেউ নির্বাচনে অংশগ্রহণের যোগ্যতা হারায় তাহলে কার কী করার আছে। আওয়ামী লীগ সরকার দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়াকে সঠিক পথে এনেছে, যা সামরিক শাসন ও বিএনপি-জামায়াতের আমলে লাইনচ্যুত হয়েছিল।

জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘করোনা মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের কারণে সৃষ্ট খাদ্য ও জ্বালানিসংকট এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তির জন্য অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে অধিক পারস্পরিক সংহতি প্রদর্শন করা প্রয়োজন। এসব সংকটের কারণে বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা-পাল্টা নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সংকট ও বিরোধ নিষ্পত্তি করার জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানাই।

একই দিন ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের একটি উচ্চপর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন শেখ হাসিনা। এ বৈঠকে তিনি তথ্যপ্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য শক্তি, জাহাজ নির্মাণ, অটোমোবাইলস, ফার্মাসিউটিক্যালস, চিকিৎসা শিল্প, সামুদ্রিকশিল্প, ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, কয়েকটি হাই-টেকপার্কসহ বিদ্যমান অন্য শিল্পে বিনিয়োগের জন্য মার্কিন ব্যবসায়ী নেতাদের আমন্ত্রণ জানান। প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, শিক্ষা উপমন্ত্রীরা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সভা এবং দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশগ্রহণ করেছেন।

সকালে নিউইয়র্কস্থ জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে সংবাদ সম্মেলন শেষে প্রধানমন্ত্রী একযোগে নি ইয়র্কে পৃথকস্থানে দুটি এবং ওয়াশিংটন ডিসিসহ কয়েকটি ভার্চুয়াল নাগরিক সংবর্ধনায় যোগ দেন। আস্টোরিয়া ওয়ার্ল্ড ম্যানরের মিলনায়তনে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ আয়োজিত মূল নাগরিক সংবর্ধনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন।

তিনি প্রবাসী নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা নিজ নিজ এলাকার মার্কিন রাজনীতিবিদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে বাংলাদেশ সম্পর্কে প্রকৃত ধারণা দেন। আমরা যেভাবে দেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করছি সে বিষয়গুলো তাদেরকে অবহিত করুন। আস্টোরিয়া ওয়ার্ল্ড ম্যানর মিলনায়তনের নাগরিক সংবর্ধনায় নেতৃত্ব দেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ। সেখানে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে আসা কয়েক শ নেতাকর্মী অংশ নেন।