ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪

উন্নয়নে ক্রেডিট ইউনিয়ন  

উন্নয়নে ক্রেডিট ইউনিয়ন  

জোনাস ঢাকী ও আলফ্রেড রায়

প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২০ | ১২:০০ | আপডেট: ১৪ অক্টোবর ২০২০ | ১৩:৫৫

আজ ৭২তম আন্তর্জাতিক ক্রেডিট ইউনিয়ন দিবস। ১৯৬৪ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর অক্টোবর মাসের তৃতীয় বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক ক্রেডিট ইউনিয়ন দিবস পালিত হয়ে আসছে। দিবসটি উপলক্ষে ক্রেডিট ইউনিয়নের বিশ্ব সংগঠন ওয়ার্ল্ড কাউন্সিল অব ক্রেডিট ইউনিয়নস্‌ (ডব্লিউওসিসিইউ) আন্দোলনের সার্বিক অবস্থার প্রেক্ষাপটে প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করে। এ বছর করোনা পরিস্থিতি বিদ্যমান। এখনও সাধারণ মানুষ করোনার কারণে শঙ্কিত। তবে ক্রেডিট ইউনিয়নগুলো তাদের নীতিমালার প্রতি বিশ্বস্ত থেকে সঠিক পন্থায় কাজ করে যাচ্ছে বিধায় অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তাকে মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছে।
ফাদার যোসেফ রিক ও ফাদার রেমন্ড সুইটালস্কি রাইস ব্যাংক ও সমবায় সমিতির সম্প্রসারণে তৎকালীন বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার রাণীখং মিশনে এক সেমিনারের আয়োজন করেন। ফাদার লিফ্‌ম্যান্স উন্নয়ন প্রচেষ্টার ওপর বক্তব্য পেশ করার পর ধীরে ধীরে রাণীখং, বালুচরা ও ভালুকাপাড়া ধর্মপল্লিতে গড়ে ওঠে রাইস ব্যাংক ও সমবায় সমিতি। পরবর্তী সময়ে ফাদার চার্লস জে. ইয়াং, সিএসসি, লক্ষ্মীবাজার মিশন/ধর্মপল্লির দায়িত্ব নিয়ে ঢাকায় ফিরে আসেন। ১৯৫৫ সালে তিনি লক্ষ্মীবাজারের উল্লেখযোগ্য শিক্ষিত অ্যাংলো ও বাঙালি ভাইবোনদের নিয়ে বর্তমান 'দি খ্রিষ্টান কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লি., ঢাকা' প্রতিষ্ঠা করেন। 
ঢাকা ক্রেডিট ইউনিয়নের সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে পরবর্তী ষাট থেকে সত্তর দশকের মধ্যে দেশের প্রায় প্রতিটি খ্রিষ্টান মিশন/ধর্মপল্লিতে ক্রেডিট ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠিত হতে থাকে। প্রতিষ্ঠিত ক্রেডিট ইউনিয়নের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত হওয়ায় ক্রমান্বয়ে গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, পাবনা, রাজশাহী এবং নাটোর জেলার খ্রিষ্টানদের অংশগ্রহণে ক্রেডিট ইউনিয়ন গঠিত হয়। পঞ্চাশ থেকে ষাট দশকের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত ক্রেডিট ইউনিয়নগুলোর মধ্যে মাত্র কয়েকটি সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পরিচালনা এবং সদস্য সেবায় ব্যাপক সফলতা লাভ করলেও বাকিগুলো ক্রমাগত পরিচালনাগত জটিলতা এবং সঠিক হিসাব-নিকাশ রক্ষণের অভাবে ক্রমান্বয়ে দুর্বল ও নিষ্ফ্ক্রিয় হয়ে পড়ে।
সংগঠিত ক্রেডিট ইউনিয়নগুলোর কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনা ও তত্ত্বাবধানসহ দেশের ব্যাপক জনগোষ্ঠীর কাছে ক্রেডিট ইউনিয়নের সাফল্যের সংবাদ পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে ফাদার চার্লস জে. ইয়াং এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল হিসেবে ১৯৭৯ সালের ১৪ জানুয়ারি ঢাকা ও গাজীপুর জেলার ১১টি ক্রেডিট ইউনিয়নের অংশগ্রহণে ক্রেডিট ইউনিয়ন আন্দোলনের জাতীয় পর্যায়ের শীর্ষ সংগঠন দি কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিগ অব বাংলাদেশ লি. (কাল্‌ব) প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৮৬ সালের ৩ জুন কাল্‌ব সমবায় অধিদপ্তরের নিবন্ধন লাভ করে।
কাল্‌ব কর্তৃক দেশব্যাপী ক্রেডিট ইউনিয়ন আন্দোলন সম্প্রসারণ কর্মসূচি গ্রহণ করায় ৩০ জুন ২০২০ পর্যন্ত  দেশের ৫৭ জেলার ২৬০টি উপজেলায় সর্বমোট ১,০৮৪টি ক্রেডিট ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। মোট সম্পদের পরিমাণ ৪,০২১ কোটি ৫৫ লাখ দুই হাজার ৩৪৫ টাকা। বাংলাদেশের প্রত্যেক উপজেলার গ্রাম পর্যায়ে ক্রেডিট ইউনিয়ন আন্দোলন সম্প্রসারণসহ প্রতিষ্ঠিত ক্রেডিট ইউনিয়নগুলোকে শক্তিশালী আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে কাল্‌ব নতুন নতুন এলাকার সাধারণ দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত মানুষকে একত্রিত করে তাদের সমন্বয়ে ক্রেডিট ইউনিয়ন গঠনের উদ্দেশ্যে উদ্বুদ্ধকরণ প্রশিক্ষণ বাস্তবায়ন করে। ক্রেডিট ইউনিয়নের কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত নেতৃবৃন্দ ও কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, কর্মশালা ও সভা-সেমিনার বাস্তবায়ন করে। ক্রেডিট ইউনিয়নের হিসাব-নিকাশ সূক্ষ্ণভাবে যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে অভ্যন্তরীণ ও বিধিবদ্ধ নিরীক্ষা সম্পাদন করছে। সংগঠনটি ক্রেডিট ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ এবং কর্মকর্তাদের হিসাব সংরক্ষণ পদ্ধতি হাতে-কলমে শিক্ষা দেন। ক্রেডিট ইউনিয়নগুলোর উদ্বৃত্ত তহবিল সংগ্রহের মাধ্যমে আন্তঃঋণ তহবিল গঠন করে সে তহবিল স্বল্প মূলধনের ক্রেডিট ইউনিয়নগুলোর সদস্যদের ঋণ সহায়তা দেওয়া ও মিউচুয়াল এইড সার্ভিসের মাধ্যমে সদস্য ক্রেডিট ইউনিয়নকে ঋণ নিরাপত্তা এবং লাইফ সেভিংস সুবিধা প্রদানের কাজও করছে। কাল্‌ব ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সদস্য ক্রেডিট ইউনিয়নের তথ্য, সাম্প্রতিক ঘটনার সংবাদ, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক সৃষ্টির কাজও অব্যাহত রাখছে। 
  লেখকদ্বয় যথাক্রমে চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদক, কাল্‌ব

আরও পড়ুন

×