ঢাকা শনিবার, ১৮ মে ২০২৪

ফোন কোম্পানির এ কেমন 'সেবা'

ফোন কোম্পানির এ কেমন 'সেবা'

ভাস্কর রাসা 

প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২০ | ১২:০০

'সম্মতি ছাড়া প্যাকেজ চালু অন্যায়'- টেলিযোগাযোগমন্ত্রী। 'কেউ অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নেব'- বিটিআরসি। গত ৭ সেপ্টেম্বর একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত খবর। ওই সংবাদে দেশের একাধিক অপারেটর কোম্পানির গ্রাহকের সাক্ষাৎকারও প্রকাশিত হয়েছে।
সম্মতি ছাড়া কোনো প্যাকেজ চালু করেছে কিনা- এ বিষয়টি দেখার জন্য নির্দিষ্ট পদ থাকতে পারে, যার কাজ হবে কী কী প্যাকেজ চালু করেছে কোম্পানিগুলো সারাবছর। এ ক্ষেত্রে বিটিআরসির নির্দিষ্ট আইন মানা হয়েছে কিনা বা লঙ্ঘিত হয়েছে কিনা তা ওই পদের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গ নিয়মিত তদারকি করবেন, তবেই তো বোঝা যাবে যে কোন কোন ক্ষেত্রে আইন লঙ্ঘিত হচ্ছে। তা শনাক্ত করে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিতে হবে। তখন অপরাধীকে শাস্তি দিতে কারও অভিযোগের প্রয়োজন হবে না। আর বিটিআরসির নিজ উদ্যোগেই প্রতারকদের চিহ্নিত করার প্রশাসনিক ব্যবস্থা রাখতে পারে প্রতিষ্ঠানের বিশ্বস্ততার প্রশ্নে জবাবদিহির জন্য। গ্রাহককে অফার চালু করার প্রস্তাবটিতে গ্রাহকের সম্মতি আছে কিনা তা যাচাই করা আজকের প্রযুক্তির যুগে খুবই সহজ ব্যাপার।
আমি একজন সাধারণ নাগরিক, একটি অপারেটরের ফোন নাম্বার ব্যবহার করি এক যুগের বেশি সময় ধরে। আমার এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে কোনো দিন গেমবক্স চালু করিনি। অথচ গত প্রায় এক বছরের অধিক সময় হবে প্রতি সপ্তাহে একটি-দুটি মেসেজ আসে বাংলায় আর ইংরেজিতে, তাতে বলা হয়- আপনার গেমবক্স চালু হয়েছে, এর জন্য প্রতি সপ্তাহে ১৩.৩৮ টাকা করে কাটা হয়েছে। এই প্যাকেজটি বন্ধ করতে একটি অ্যাপসের ঠিকানা দেওয়া হয় এবং বলা হয়, এই ওয়েব সাইট থেকে গেমবক্স বন্ধ করা যাবে। কিন্তু এই ওয়েব সাইটে গিয়ে গেমবক্স বন্ধ করা যায় না। আমি কাস্টমার কেয়ারে গিয়ে বন্ধ করেছিলাম দু-একবার। তারপর আবার নিজে নিজেই চালু হয়ে যায়। এরপর আমি অভিযোগ করতে কল সেন্টারের নম্বরে ডায়াল করি। ডায়াল করার পর বলা হলো, ফোন করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আমাকে অভিযোগ বলার সুযোগ না দিয়েই অনবরত বলতে লাগল- আপনার মোবাইলে আছে এত টাকা এত পয়সা। আপনার অভিযোগ জানাতে এত চাপুন, প্যাকেজ কিনতে এত চাপুন, এইভাবে ছয়বার বলত থাকল। তারপর আমি অভিযোগ জানাতে নম্বরটি চাপলাম এবং আমাকে অপর প্রান্ত থেকে বলা হলো সংযোগটি পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। একটু আশ্বস্ত হলাম, যাই হোক অভিযোগটি অন্তত জানানো যাবে। কিন্তু না এর পরেই বলা হলো যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করা হলো। এ রকম আরও বহুবার ডায়াল করার পর অপর প্রান্ত থেকে বলা হলো, সঠিক নম্বরটি চাপতে ভুল করার জন্য সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করা হলো।
আমি তো ব্যালেন্স জানতে ফোন করিনি, অথচ আমাকে ব্যালেন্স জানতে বাধ্য করা হলো। আর প্রতিবারেই ডায়াল করে কয়েক মিনিটের টাকা খরচ হতে লাগল।
দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয়কে সেবা নিশ্চিত করার স্বার্থে আরও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে কালবিলম্ব না করে। সাধারণ মানুষ মোবাইলের মাধ্যমে অনেক কাজ সম্পাদন করে। এই জরুরি যোগাযোগ ব্যবস্থাটি তো স্বেচ্ছাচার হয়ে উঠতে পারে না। এদের জবাবদিহির মধ্যে রাখতে হবে জনস্বার্থের কথা বিবেচনা করে।
সাধারণত ক্রেতা ও বিক্রেতার মানসিকতা হচ্ছে ক্রেতা তার প্রয়োজনীয় বস্তুটি বিক্রেতার কাছে চাইবে। বিক্রেতা চাহিদা পূরণ করতে না পারলে ক্রেতাকে জানিয়ে দেবে, কিন্তু মোবাইল কোম্পানিগুলো আমার চাহিদা বিবেচনা না করে সারাদিন অফার পাঠাতে থাকে। আমাকে প্রতিদিন ১৫/২০টি মেসেজ দিচ্ছে অনবরত। এই অবাঞ্ছিত মেসেজগুলোর কারণে আমার মেসেজ বক্স ২/৩ দিনে ফিলাপ হয়ে যায়। এর ফলে আমার অনেক প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক মেসেজগুলো সঠিক সময়ে আমি পাই না, ফলে আমি অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। তারপর এই মেসেজগুলো মুছে ফেলতে আমার অনেক সময় অপচয় হয়। যার অর্থনৈতিক মূল্যও বিবেচনায় আনতে হবে।
এই বিশাল একটি যোগাযোগ ব্যবস্থা যত স্বচ্ছ হবে, তত গ্রাহকসেবা বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু বিটিআরসি কেউ অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেবে। প্রশ্ন ওঠে বিটিআরসিতে অভিযোগ না দিলে নিজ প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি এবং সেবা নিশ্চিত করার জন্য কি কোনো ব্যবস্থা নেবে না? অভিযোগের অপেক্ষায় বসে থাকবে হাত-পা গুটিয়ে?
রাত ১টার সময় মেসেজ এলো, ভাবলাম আমার একটি প্রয়োজনীয় মেসেজ আসার কথা, উঠে দেখি এমবি কিনতে এততে ডায়াল করুন। মনে হয় না আছাড় দিয়ে সেটটি ভেঙে ফেলি? এসব বিপণন মেসেজ দেওয়ার দিনের একটি নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিতে পারে বিটিআরসি।
কোম্পানিগুলোও নিজ প্রতিষ্ঠানের সুনাম বজায় রাখার দিকে অধিক মনোযোগী হবে। ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সুনাম অর্জন করতে অনেক সময় লাগে। বিনিয়োগ করতে হয় অর্থ, প্রযুক্তি, মেধা ও শ্রম। কিন্তু সুনাম ক্ষুণ্ণ হতে সময় লাগে খুবই কম।
ভাস্কর্য শিল্পী

আরও পড়ুন

×