ঢাকা শনিবার, ১৮ মে ২০২৪

জন্মদিন

জয়তু জয়

জয়তু জয়

সজীব ওয়াজেদ জয়

সৈয়দ আলমাস কবীর

প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২১ | ১২:০০

সজীব ওয়াজেদ জয় মাতামহের 'সোনার বাংলা' স্বপ্টম্নকে ধারণ করে 'ডিজিটাল বাংলাদেশ' নামের যে স্বপ্টম্ন আমাদের দেখিয়েছিলেন এক যুগ আগে, তারই বাস্তব চিত্র দেখছি আমরা এখন। গত ১৬ মাসে অতিমারি চলাকালীন আমরা বাসায় বসেই ইন্টারনেটে অফিসের যাবতীয় কাজ করেছি, ভিডিও কনফারেন্সে মিটিং করেছি; ফিনটেক দিয়ে ব্যাংকিং সেরেছি, অনলাইনে বাজার করেছি, টেলিমেডিসিনে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়েছি। আবার স্ট্রিমিং ও ওটিটির মাধ্যমে নাটক-সিনেমাও দেখেছি। আমরা এখন খুব ভালোভাবে প্রত্যক্ষ করেছি সজীব ওয়াজেদ জয়ের ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল। অনলাইনে যখন আদালতের কার্যক্রম চলছে, ছাত্রছাত্রীরা যখন ই-লার্নিং ব্যবহার করে লেখাপড়া করছে, চাষি ও খামারিরা যখন মধ্যস্বত্বভোগী পরিহার করে তাদের ফলানো ফসল সরাসরি ভোক্তার কাছে বিক্রি করছেন; দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের তরুণরা যখন ফ্রিল্যান্সিং করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছেন; তখন জাতি উপলব্ধি করতে পেরেছে সজীব ওয়াজেদ জয়ের দূরদর্শিতা। ২০০৮ সালে তিনি আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে 'ডিজিটাল বাংলাদেশ' রূপকল্প অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন।
ডিজিটাল বাংলাদেশের স্থপতি সজীব ওয়াজেদ জয় তার বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছেন নানাভাবে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর অফিসের সরাসরি তত্ত্বাবধানে তিনি 'এটুআই' গঠন করেছিলেন, যার মাধ্যমে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ডিজিটাল আর্কিটেকচার (বিএনডিএ) ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করেছেন। এই ফ্রেমওয়ার্ক বা কর্ম-কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে সরকারি সব পরিষেবাকে অনলাইনে নিয়ে আসার রেখাচিত্র বানিয়েছেন তিনি। তার স্বপ্টেম্নর ডিজিটাল বাংলাদেশে সরকারি সব সেবা পৌঁছে যাবে নাগরিকের দোরগোড়ায়। পরিষেবা হাতের মুঠোয় থাকায় একজন নাগরিককে যেতে হবে না সরকারের কাছে। যিনি যেখানে আছেন, সেখানে বসেই সরকারি পরিষেবা নিতে পারবেন।
ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্টম্নদ্রষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় 'অনুকরণ নয়, উদ্ভাবন'- এ স্লোগান সামনে রেখে তরুণ সমাজকে নতুন নতুন উদ্ভাবনীমূলক উদ্যোগে সম্পৃক্ত হওয়ার উৎসাহ জুগিয়ে চলেছেন। তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের আওতায় ইনোভেশন ডিজাইন অ্যান্ড এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ একাডেমি তৈরি করে তরুণ উদ্ভাবকদের সাহায্য ও অনুপ্রেরণা দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন। আবার ধারণা পর্যায় থেকে বাণিজ্যিকীকরণে আর্থিক প্রণোদনা ও সহায়তার জন্য স্টার্টআপ বাংলাদেশ নামে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল কোম্পানিও তৈরি করেছেন সরকারি প্রচেষ্টায়। বাংলাদেশের তরুণদের উদ্ভাবিত পণ্য ও পরিষেবা সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিতে এবং গ্লোবাল ইনোভেশন ইনডেক্সে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতারও আয়োজন করেছেন।
২০১৮ সালে যখন বাংলাদেশের নিজস্ব কৃত্রিম উপগ্রহ 'বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১' মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা হয়, তখন সজীব ওয়াজেদ জয়ের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার কথা অনেকেই অনুধাবন করতে পারেননি। এই স্যাটেলাইট ব্যবহার করে এখন টেলিভিশন চ্যানেলগুলো যে শুধু কোটি কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রাই সাশ্রয় করছে তা নয়, বিদেশেও এই স্যাটেলাইটের ফ্রিকোয়েন্সি বিক্রি করা যাচ্ছে। নিজস্ব স্যাটেলাইট থাকায় বাংলাদেশের মর্যাদাও বৃদ্ধি পেয়েছে বিশ্ববাসীর কাছে। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশে একটি জ্ঞানভিত্তিক
সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে প্রধানমন্ত্রীর যে পরিকল্পনা, সে লক্ষ্য পূরণে এই স্যাটেলাইট বড় ভূমিকা রাখছে।
ডিজিটাল বাংলাদেশের অধীক্ষক সজীব ওয়াজেদ জয় চতুর্থ শিল্পবিপ্লবে বাংলাদেশকে শামিল করে এর পূর্ণ সুবিধা ভোগের জন্য ফাইভজি নেটওয়ার্ক চালু করার নির্দেশনা দিয়েছেন। এর ফলে আমাদের উৎপাদনশীলতা যেমন বাড়বে, তেমনই সক্ষমতা ও কার্যকারিতাও বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে আমাদের জনসম্পদের দক্ষতা বাড়াতে হবে। সেই লক্ষ্যে তিনি শেখ হাসিনা ইনস্টিটিউট অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজিস এবং সব জেলায় শেখ কামাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট ও ইনকিউবেশন সেন্টার তৈরির কাজ শুরু করেছেন। বেকার সমস্যা দূরীকরণে বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিংয়ের (বিপিও) ওপর জোর দিয়েছেন। তরুণ সমাজের পারদর্শিতা বৃদ্ধি করে বাংলাদেশকে একটি দক্ষ মানবসম্পদের দেশ হিসেবে বিশ্ব প্রতিযোগিতায় অগ্রগামী করে রাখতে সুদক্ষ সজীব ওয়াজেদ জয় নিরলস কাজ করে চলেছেন।
সজীব ওয়াজেদ জয়ের পরামর্শে সফটওয়্যার ও পরিষেবা খাতকে করমুক্ত করা হয়েছে। 'মেইড ইন বাংলাদেশ' ডিজিটাল ডিভাইস যাতে আন্তর্জাতিক মর্যাদা পায়, সে বিষয়ে তিনি সব অংশীজনকে নিয়ে নীতিমালা তৈরি করছেন। সারাদেশে ২৮টি হাইটেক ও সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক তৈরি করে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে উৎসাহ প্রদান করছেন।
সজীব ওয়াজেদ জয় 'ক্যাশলেস সোসাইটি' তৈরি করার উদ্দেশ্যে ডিজিটাল লেনদেন জনপ্রিয় করার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। ডিজিটাল কমার্সের ওপর নির্ভর করে দেশের মফস্বল ও গ্রামের তরুণ তথা গৃহবধূরাও যাতে অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারেন, সে জন্য তিনি সর্বজনীন নীতিমালা প্রণয়নে সহায়তা করেছেন। শহরবাসীর পাশাপাশি সুলভে দ্রুতগতির ইন্টারনেট যাতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীও পেতে পারে, সে লক্ষ্যে 'এক দেশ, এক রেট' ঘোষণা দিয়ে ব্যান্ডউইথের বিক্রয়মূল্য বেঁধে দেওয়া হয়েছে। ইনফো-সরকার-৩ প্রকল্পের মাধ্যমে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত ফাইবার অপটিকভিত্তিক ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পৌঁছে গেছে।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ব্যক্তিত্ব, আবেগ ও দেশপ্রেমের প্রতিচ্ছবি আমরা দেখতে পাই তার দৌহিত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের মধ্যে। দ্রুত সিদ্ধান্ত দিয়ে কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করার শিক্ষাও আমরা তার কাছ থেকে পেয়ে থাকি।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকার সজীব ওয়াজেদ জয়ের ৫০তম জন্মবার্ষিকীতে রইল শুভকামনা ও আন্তরিক ভালোবাসা। মুজিববর্ষ ও বাংলাদেশের সুবর্ণজয়ন্তীর এই মাহেন্দ্রক্ষণে ডিজিটাল বাংলাদেশের জয়যাত্রা চলমান থাকুক নিরন্তর। বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার জয়ের মিছিলে আমরা সবাই শামিল থেকে বলি, 'জয়ের জয় হোক!'
সভাপতি, বেসিস

পরিচালক, এফবিসিসিআই

আরও পড়ুন

×