ঢাকা শনিবার, ১৮ মে ২০২৪

তথ্য অধিকার

আইন সবার জন্য সমান

আইন সবার জন্য সমান

ভ্লাদিমির পুতিন

সম্পাদকীয়

প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২১ | ১২:০০

তথ্য পাওয়া যেখানে নাগরিকের গুরুত্বপূর্ণ অধিকার সেখানে আমরা দেখছি, তথ্য প্রকাশে অনেক প্রতিষ্ঠানই স্বতঃস্ম্ফূর্ত নয়। তথ্য প্রকাশে সরকারি প্রতিষ্ঠানের লুকোচুরি পুরোনো হলেও ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, তথ্য অধিকার অনুযায়ী নাগরিকদের কাছে স্বপ্রণোদিত হয়ে তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে সরকারি প্রতিষ্ঠানের চেয়ে পিছিয়ে আছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো। শুক্রবার সমকালে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনে প্রকাশ, স্বপ্রণোদিত তথ্য প্রকাশে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে আছে সরকারের খাদ্য, পানিসম্পদ এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়। এমনকি আইনি বাধ্যবাধকতা থাকার পরেও মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং দুর্নীতি-সংশ্নিষ্ট তথ্য প্রকাশ ও প্রদানের ক্ষেত্রে গোপনীয়তার সংস্কৃতি অব্যাহত রয়েছে।

আমরা জানি, দেশে ২০০৯ সালে তথ্য অধিকার আইন প্রণীত হয়। দেশের অন্য সব আইনে কর্তৃপক্ষ জনগণের ওপর ক্ষমতা প্রয়োগ করলেও এটি এমনই এক আইন, যার মাধ্যমে জনগণ কর্তৃপক্ষের ওপর ক্ষমতা আরোপ করে। বলা বাহুল্য, দেশের সংবিধান জনগণকে ক্ষমতা দিলেও অনেক ক্ষেত্রেই তথ্যের কারণে মানুষ বঞ্চিত হয়। আমরা মনে করি, ক্ষমতায়নের জন্য মানুষের তথ্য অধিকার নিশ্চিত করা দরকার।এটি সরকারি-বেসরকারি উভয় প্রতিষ্ঠানেরই সমান কর্তব্য। আমাদের বিশ্বাস, তথ্য অধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমেই সরকারি-বেসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থা, সরকারি কিংবা বিদেশি অর্থায়নে পরিচালিত বেসরকারি সংস্থার স্ব্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পাবে। আইন সবার জন্য সমান। টিআইবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলো তথা এনজিওগুলোর অবস্থান সত্যিই উদ্বেগজনক। অথচ এসব প্রতিষ্ঠান স্বপ্রণোদিত হয়ে তথ্য প্রকাশ করবে- এমনটাই প্রত্যাশিত ছিল।

আমাদের মনে আছে, ২০০৯ সালে আইনটি প্রণীত হওয়ার সময় সরকারি-বেসরকারি সব সংস্থাই ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেছিল। কিন্তু বাস্তবে কার্যক্রমে তা দেখা না যাওয়াটা দুঃখজনক। তারচেয়ে বড় বিষয় বেসরকারি সংস্থাগুলো তথ্য অধিকার আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত এবং তারা এর বাস্তবায়নে সরকারের সঙ্গে কাজ করে। তারপরও স্বপ্রণোদিত তথ্য প্রকাশ ও প্রচারে তারা কেন পিছিয়ে? এটি স্বতঃসিদ্ধ যে, দুর্নীতি হ্রাস ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় অবাধ তথ্যপ্রবাহ জরুরি। দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের কৌশলগুলোর মধ্যে তথ্য প্রকাশ অন্যতম হলেও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য প্রদানে পিছিয়ে থাকা কোনোভাবেই মেনে নেওয়ার নয়। যদিও দুর্নীতি প্রতিরোধে শুধু তথ্য প্রকাশই যথেষ্ট নয়, তারপরও আমরা চাই সবাই সচেতন হোক। একই সঙ্গে দুর্নীতি নির্মূলে রাজনৈতিক সদিচ্ছা, দুর্নীতিতে যারা জড়িত তাদের কার্যকর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং জনগণের অংশগ্রহণ ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতাও বৃদ্ধি করা হোক। তথ্য প্রকাশে সরকারি কয়েকটি প্রতিষ্ঠান যেমন এগিয়ে, একই সঙ্গে উল্লেখযোগ্য দপ্তরের চিত্রও সন্তোষজনক নয়।

প্রতিবেদনে এসেছে, তথ্য অধিকার আইন সম্পর্কে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারাও অনেক ক্ষেত্রে তা কার্যকরের বিষয়ে সচেতন নন। এ কারণেই দেখা যাচ্ছে, স্বপ্রণোদিত তথ্য প্রকাশ, প্রচারসহ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তথ্য প্রদানের ক্ষেত্রে জটিলতার সৃষ্টি হয়। অনেক ক্ষেত্রেই তার নিজস্ব পদের দায়িত্ব বেশি থাকায় ওয়েবসাইটের গুণগত মান নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পদক্ষেপ নেওয়া বা সে বিষয়ে চিন্তা করার অবকাশ পান না দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। আমরা মনে করি, তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে সব বাধা চিহ্নিত করে তা পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

অভিযোগ রয়েছে, দেশের তথ্য অধিকার আইনটি যথার্থ হলেও তা বাস্তবায়নে খোদ তথ্য কমিশনেরও গাফিলতি রয়েছে। এ আইনে মানুষকে যে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, তা অনেকেই জানেন না। অর্থাৎ আইনটির প্রচার যেভাবে হওয়া দরকার ছিল সেভাবে হয়নি। বস্তুত আইনটি প্রণয়নে বেসরকারি সংস্থার ভূমিকা অগ্রগণ্য থাকার পরও এটি বাস্তবায়নে তাদের যেভাবে সোচ্চার হওয়ার কথা ছিল, সেভাবে না হওয়ার বিষয়টি কারণ কি এই যে, আইনটি তাদের জন্যও সমানভাবে প্রযোজ্য? যেখানে এ আইন প্রয়োগের মাধ্যমে আইনের শাসন, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব, সেখানে আমরা মনে করি সবার আগে আইনটি বাস্তবায়নে উদ্যোগ নিতেই হবে। 

আরও পড়ুন

×