ঢাকা বুধবার, ২২ মে ২০২৪

স্মরণ

স্মরণীয় রাজনীতিবিদ

স্মরণীয় রাজনীতিবিদ

আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু

বোরহানউদ্দিন চৌধুরী মুরাদ

প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২২ | ১২:০০

আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু সব লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে উঠে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ নির্মাণের সম্মুখ সৈনিক ছিলেন। তিনি স্বাধীনতা-উত্তরকালের সেসব বিরল রাজনীতিবিদের অন্যতম, যাঁরা আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে হাল ধরেছেন; রাজনীতি করেছেন নিজের অর্থ ব্যয় করে। ১৯৪৫ সালে আনোয়ারার হাইলধর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। পটিয়া হাই স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করে ঢাকার নটর ডেম কলেজে ভর্তি হন। উচ্চ মাধ্যমিকে পড়ার সময় বৃত্তি পেয়ে আমেরিকার ইলিনয় ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে ভর্তি হন। পরে নিউইয়র্ক ইউনিভর্সিটিতে বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে পড়াশোনা করেন। ১৯৬৫ সালে বড় ভাইয়ের সঙ্গে ব্যবসায় যোগ দেন। এ ছাড়া দেশে থাকা অবস্থায় ১৯৫৮ সালে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সদস্য নির্বাচিত হন আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু। ১৯৬৭ সালে আওয়ামী লীগের সঙ্গে তাঁর পথচলা শুরু। ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি আনোয়ারা ও পশ্চিম পটিয়া থেকে প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য নির্বাচিত হন। '৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ছিলেন তিনি। দীর্ঘ সময় ধরে ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। চারবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পাশাপাশি ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য। নবম জাতীয় সংসদে তিনি ছিলেন পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয় সংক্রান্তত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি।
মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু ভারতে যান এবং সেখানে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মুজিবনগর সরকারের ত্রাণ ও পুনর্বাসন কমিটির সদস্য ছিলেন। ১৯৭২ সালে গঠিত বাংলাদেশ গণপরিষদের সদস্য হন এবং বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নে ভূমিকা রাখেন। আশির দশকে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনেও তিনি বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে কারা-নির্যাতন ভোগ করেন। দুই দফায় চট্টগ্রাম চেম্বারের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ১৯৮৮ সালে তিনি দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠক এফবিসিসিআইর প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর চেম্বারের প্রেসিডেন্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ১৯৮৯ সালে ৭৭ জাতি গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তিনিই একমাত্র বাংলাদেশি, যিনি এই মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক সংস্থার ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন।
আনোয়ারা ডিগ্রি কলেজ, যোগেশ চন্দ্র মেমোরিয়াল ট্রাস্ট, হাইলধর বশরুজ্জামান উচ্চ বিদ্যালয়, বরুমচড়া, বশরুজ্জামান উচ্চ বিদ্যালয়, ঝিবাশি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা দাতাসহ বটতলী মোহছেন আউলিয়া ডিগ্রি কলেজ, চন্দনাইশ বরমা কলেজ, এনায়েত বাজার মহিলা কলেজ, এ. জে. চৌধুরী ডিগ্রি কলেজ, রায়পুর উপকূলীয় উচ্চ বিদ্যালয় এবং আনোয়ারা পশ্চিম পটিয়া ও চট্টগ্রামে অনেক স্কুল-কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু। এ ছাড়া বহু জনহিতকর কাজে যুক্ত ছিলেন তিনি।
রাজনীতিবিদ শুধু নন; একজন সফল ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তাও ছিলেন তিনি। বাংলাদেশে বেসরকারি ব্যাংকিং সেক্টর প্রতিষ্ঠায় তিনি পথিকৃতের ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি দেশে দ্বিতীয় প্রাইভেট ব্যাংক ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেডের (ইউসিবিএল) উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২১ সালে তাঁকে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে স্বাধীনতা পদক (মরণোত্তর) দেওয়া হয়।
বোরহানউদ্দিন চৌধুরী মুরাদ: আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর সাবেক একান্ত সচিব

আরও পড়ুন

×