ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪

ইসলাম ও সমাজ

ঋণ পরিশোধের গুরুত্ব

ঋণ পরিশোধের গুরুত্ব

মো. শাহজাহান কবীর

প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৩ | ১৮:০০

মানবজীবনের পথচলায় ঋণ গ্রহণ ও পরিশোধ করা খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মহান আল্লাহ মানব জাতিকে ঋণ গ্রহণ করার যেমন অনুমতি দিয়েছেন, তেমনি যথাসময়ে তা পরিশোধের ব্যাপারে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন।

ঋণের ক্ষেত্রে ইসলামের দিকনির্দেশনা ও বিধিবিধান সম্পর্কে আমাদের স্বচ্ছ ধারণা থাকা অত্যন্ত জরুরি। তা ছাড়া ঋণের ভয়াবহতার ব্যাপারে ধারণা না থাকার কারণে আমরা ঋণকে হালকা চোখে দেখি, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

ইসলামে ঋণ আদান-প্রদান করা বৈধ, যা রাসুলে পাক (সা.)-এর সুন্নত দ্বারা প্রমাণিত। কেননা, রাসুলে পাক (সা.) ঋণ গ্রহণ করেছিলেন, ঋণ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চেয়েছেন এবং তাঁর উম্মতকে ঋণমুক্তির দোয়া শিখিয়েছেন। ইসলাম বিপদ-আপদে অপরের কাছ থেকে ঋণ গ্রহণের অনুমতি প্রদান করেছে। সঙ্গে সঙ্গে সঠিক সময়ে তা পরিশোধ করার প্রতিও কঠোর নির্দেশ দিয়েছে।
যদি ঋণগ্রহীতা ঋণ পরিশোধ করার আগে মারা যান, তাহলে কাফন-দাফনের পর প্রথমেই তাঁর রেখে যাওয়া সম্পদ থেকে ঋণ পরিশোধ করতে হবে। ঋণ পরিশোধের পর যদি অতিরিক্ত সম্পদ থাকে, তাহলেই কেবল তাঁর ওয়ারিশদের মধ্যে তা বণ্টন করা হবে এবং তাঁর অসিয়ত কার্যকর হবে।

যথাসময়ে ঋণ পরিশোধ করা শুধু পাওনা আদায় নয়, বরং এটা ওয়াদা রক্ষা করার অন্তর্ভুক্ত। সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যথাসময়ে ঋণ পরিশোধে গড়িমসি  করাকে হাদিসে সরাসরি জুলুম বলা হয়েছে।
হাদিসে বর্ণিত, রাসুলে পাক (সা.) এরশাদ করেন, সচ্ছল ব্যক্তির ঋণ পরিশোধে টালবাহানা করা অন্যায়। (সহিহ বোখারি)

ঋণ পরিশোধের সময় ঋণগ্রহীতা ইচ্ছা করলে ঋণদাতার অনুগ্রহের বদলাস্বরূপ তাঁকে কিছু টাকা বাড়িয়েও দিতে পারেন কিংবা যে মানের সম্পদ ঋণ নিয়েছিলেন, তাঁকে এর চেয়ে উৎকৃষ্ট মানের জিনিস ফেরত দিতে পারেন। অনুগ্রহের বিনিময় তো অনুগ্রহ দিয়েই হতে পারে। রাসুলে পাক (সা.)-এর জীবনী থেকেও আমরা এ অনুগ্রহের শিক্ষা পাই।
প্রখ্যাত সাহাবি হজরত জাবের (রা.) বলেন, হজরত রাসুলে পাক (সা.) আমার কাছ থেকে একবার ঋণ নিয়েছিলেন। পরে যখন তিনি তা আমাকে পরিশোধ করলেন, তখন আমার পাওনার চেয়েও বাড়িয়ে দিলেন। (সুনানে আবু দাউদ)

রাসুলে পাক (সা.) একবার হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আবি রবিয়া (রা.)-এর কাছ থেকে চার হাজার দিরহাম ঋণ নিয়েছিলেন। যখন তা পরিশোধ করলেন, তখন তিনি তাঁর জন্য এ দোয়া করলেন, আল্লাহতায়ালা তোমার পরিবার-পরিজন ও ধন-সম্পদে বরকত দান করুন। (সুনানে নাসায়ি)। ঋণ পরিশোধের সময় ঋণগ্রহীতার উচিত দাতার কল্যাণ ও বরকতের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করা।
হজরত আলি (রা.) বর্ণনা করেন, ‘কোনো ব্যক্তি ঋণ রেখে মারা গেলে রাসুলে পাক (সা.) ওই ব্যক্তির জানাজা পড়াতেন না বরং অন্যকে পড়াতে নির্দেশ দিতেন। (দারাকুতনি)। অপর হাদিসে বর্ণিত, রাসুলে পাক (সা.) এরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি ঋণ গ্রহণ করেছে কিন্তু তা পরিশোধ করার ইচ্ছা পোষণ করেনি, সে ব্যক্তি চোর সাব্যস্ত হয়ে মহান আল্লাহর দরবারে উপস্থিত হবে।’ (ইবনে মাজাহ)
সুতরাং কোনোভাবে ঋণগ্রস্ত হলে সে ঋণ আদায়ে যথাসম্ভব চেষ্টা করা উচিত। ঋণ আদায়ের সামর্থ্য না থাকলেও ঋণ আদায়ের প্রবল ইচ্ছা পোষণ ও চেষ্টা করা জরুরি। আল্লাহ তায়ালা আমাদের মধ্যে যারা ঋণগ্রস্ত তাদের সবাইকে যথাযথভাবে ঋণ পরিশোধের তাওফিক দান করুন।

ড. মো. শাহজাহান কবীর : চেয়ারম্যান, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, ফারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি

আরও পড়ুন

×