সুন্দরবন

সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নিন

প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০       প্রিন্ট সংস্করণ     

--

বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ আমাদের প্রাকৃতিক প্রাচীর হিসেবে চিহ্নিত সুন্দরবনের আয়তনই শুধু কমছে না; লবণাক্ততায় আক্রান্ত হয়ে বৃহত্তম এই বাদাবনের বৈশিষ্ট্য আজ হুমকির মুখে। এমনই বাস্তবতায় ১৪ ফেব্রুয়ারি পালিত হয়েছে সুন্দরবন দিবস। শুক্রবার সমকালের একটি প্রতিবেদনে সুন্দরবনের যে চিত্র উঠে এসেছে, তা আমাদের উদ্বিগ্ন না করে পারে না। জলবায়ু পরিবর্তন, লবণাক্ততা বৃদ্ধি, নদীভাঙন, দূষণ, পলি জমাসহ মনুষ্যসৃষ্ট নানা কারণে সুন্দরবনের বিপদাশঙ্কা ক্রমেই প্রকট হচ্ছে। বিস্ময়কর হলো, সুন্দরবনের জন্য হুমকির কারণগুলো চিহ্নিত হওয়া সত্ত্বেও এ থেকে রক্ষায় নেই তেমন কোনো কার্যকর উদ্যোগ। পশুর নদীতে ২০১০ সালে লবণাক্ততার সর্বোচ্চ পরিমাণ ছিল ১৭ দশমিক ৫ পিপিটি, এখন তা দাঁড়িয়েছে ২২ দশমিক ৬ পিপিটিতে।

তা ছাড়া এ নদীসহ অন্যান্য পয়েন্টে পলির পরিমাণ বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। বনের ভেতর দিয়ে প্রবহমান নদীগুলোর উৎসস্থল থেকে মিঠাপানির প্রবাহ কমে লবণাক্ততা বাড়ায় সুন্দরবনের অন্যতম আকর্ষণ সুন্দরী, পশুর, গোলপাতা, খলিসা গাছের সংখ্যা কমছে। জীববৈচিত্র্য নষ্ট হচ্ছে। সুন্দরবনের চারপাশে ১০ কিলোমিটার এলাকা সরকার 'প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা' ঘোষণা করলেও ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে নির্দেশনা উপেক্ষা করে। এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই সরকারি বিভাগও। এসব প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য পড়ছে নদীতে। দেশি-বিদেশি জাহাজের জ্বালানি তেল পড়ছে নদীতে এবং তাও হুমকি বাড়াচ্ছে। জলজ প্রাণীর অস্তিত্ব সংকট দেখা দিয়েছে। বন্যপ্রাণীর বিচরণক্ষেত্র হচ্ছে সংকুচিত। লবণাক্ততা বাড়ায় জীববৈচিত্র্যে হুমকি বাড়ার পাশাপাশি বন্যপ্রাণীর প্রজনন সংকটও দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে নানা প্রজাতির পশুপাখি বিলুপ্ত হয়ে গেছে।

বনভূমি গ্রাসের পাশাপাশি চলছে নির্বিচারে বৃক্ষ নিধনও। বনের বিভিন্ন নদী-খালে বিষ দিয়ে মাছ শিকারের অপকর্মও চলছে দীর্ঘদিন ধরে। তা ছাড়া নিয়ন্ত্রণহীন পর্যটনও সুন্দরবনের বৈশিষ্ট্যে আঘাত করছে। সুন্দরবন সুরক্ষায় দায়িত্বশীলদের ব্যর্থতা-সীমাবদ্ধতা দূর করার পাশাপাশি বনের জন্য ক্ষতিকর সব কর্মকাণ্ড বন্ধে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। আমরা জানি, বাংলাদেশ প্রাকৃতিকভাবে সমৃদ্ধ হলেও প্রাকৃতিক সম্পদের প্রতি আমাদের সংবেদনশীলতার অভাব রয়েছে। বাংলাদেশের ফুসফুস হিসেবে খ্যাত আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বয়ে আনা সুন্দরবনকে বিপদাশঙ্কামুক্ত করা না গেলে আমাদের বিপদও বাড়বে।