সৌদি বিনিয়োগ

উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে স্বাগত

প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০       প্রিন্ট সংস্করণ     

--

সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের সুদীর্ঘ ও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। দু'দেশের সম্পর্ক ভ্রাতৃপ্রতিম, ঐতিহ্যগত ও সাংস্কৃতিক। আমাদের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার হিসেবে সৌদি আরব থেকে প্রতি বছর দেশে বৈদেশিক মুদ্রার উল্লেখযোগ্য অংশ আসে। মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ শক্তিশালী অর্থনীতির এই দেশটি বিভিন্ন দেশে বড় বিনিয়োগ করলেও বাংলাদেশে সৌদি বিনিয়োগ হয়নি বললেই চলে। বাংলাদেশ অনেকদিন ধরে সৌদি আরব থেকে বড় বিনিয়োগের প্রত্যাশা করে আসছে। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ-সৌদি যৌথ কমিশনের দু'দিনের বৈঠক শেষে এরই প্রতিফলন দেখা গেছে। শুক্রবার সমকালে প্রকাশিত 'বড় বিনিয়োগের আশ্বাস সৌদির' শীর্ষক প্রতিবেদনে প্রকাশ, বিদ্যুৎ-জ্বালানি, মানবসম্পদ উন্নয়নসহ ৩১টি ক্ষেত্রে সহযোগিতায় সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ ও সৌদি আরব। অবকাঠামোসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খাতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগেও সম্মত হয়েছেন সৌদি উদ্যোক্তারা। বিষয়টি আমাদের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক বলেই আমরা মনে করছি। বিশেষ করে দেশে গত মাসের শেষার্ধে জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়নবিষয়ক সংস্থা আঙ্কটাডের বিদেশি বিনিয়োগ কমার খবর এবং একই সঙ্গে গত বছর অর্থনীতির প্রায় সব সূচকে আমাদের নিম্নগামিতায় যে উদ্বেগ ছিল, সৌদির বিনিয়োগের খবর সে ক্ষেত্রে আশাব্যঞ্জক হিসেবেই প্রতীয়মান হচ্ছে। সৌদি শ্রম ও সমাজ উন্নয়নবিষয়ক উপমন্ত্রীর নেতৃত্বে ৪০ সদস্যের প্রতিনিধি দলের বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সঙ্গে ওই বৈঠকের ফলপ্রসূ আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে ঠিক কত টাকার বিনিয়োগ হবে- এই বিষয়টি এখনও স্পষ্ট না হলেও ধারণা করা যাচ্ছে, অন্তত ৫০ বিলিয়ন ডলার বা ৪০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ আসছে।

ইতোমধ্যে বুধবার সৌদির অ্যাকোয়া পাওয়ারের সঙ্গে ১৮০ মেগাওয়াটের সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এশিয়ার মধ্যে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হিসেবেই নয় বরং স্থিতিশীল, শান্তিপ্রিয় ও বিনিয়োগযোগ্য দেশ হিসেবেও বাংলাদেশ সৌদি আরবসহ বিশ্বের নজর কাড়ছে। অবকাঠামো তৈরি তথা সড়ক-মহাসড়ক নির্মাণে সৌদি আরবের অন্তর্ভুক্তি নিঃসন্দেহে ভালো খবর। আমরা জানি, এ ক্ষেত্রে দেশটির অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা রয়েছে। সৌদি আরবে বিশাল হাইওয়ে নেটওয়ার্ক আছে এবং তা রক্ষণাবেক্ষণের সাজসরঞ্জাম ও লোকবলও রয়েছে। তাছাড়া টেলিযোগাযোগ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, পর্যটন, মাদক নিয়ন্ত্রণসহ অন্যান্য ক্ষেত্রেও দুই দেশের সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজে বাংলাদেশ লাভবান হবে বলেই আমরা মনে করি।

এখন কেবল বিদ্যুতের চুক্তি সম্পন্ন হলো, অন্যান্য চুক্তি সম্পাদনের জন্য শিগগিরই সৌদি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে আসবেন বলে প্রতিবেদনে এসেছে। আমরা চাই, এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ উদ্যমী ভূমিকা পালন করে চুক্তিগুলো সম্পাদন কাজ দ্রুত করুক। সৌদি প্রতিনিধি দলের বৈঠকে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। সেখানে যাদের কাজের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অনিয়মিত হয়ে পড়েছে, তাদেরকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে চায় সৌদি আরব। এ ক্ষেত্রে ইতিবাচক কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে বাংলাদেশকে বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে বিষয়টি মোকাবিলা করতে হবে। দেশে উন্নয়নের বড় বড় প্রকল্পের কাজ চলমান। ইতোমধ্যে চীন, জাপান, ভারতসহ অনেকেই বিনিয়োগ করেছে। এখন সৌদি আরবের বিনিয়োগ উন্নয়নের মাত্রায় নতুন গতি সৃষ্টি করবে বলেই আমাদের বিশ্বাস।