ভালোবাসা ও সৌন্দর্যের প্রতীক ফুল। শ্রদ্ধা-ভালোবাসা প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে ফুলের ব্যবহার যেমন সর্বজনবিদিত, তেমনি ফুলের সঙ্গে মানুষের সম্পর্কও অনেক পুরোনো। সাম্প্রতিককালে ফুলের ব্যবহার বেড়ে যাওয়া মনন ও বাণিজ্য দুই-ই বেড়ে যাওয়ার লক্ষণ। রোববার সমকালে 'এক দিনে শতকোটি টাকার ফুল বিক্রি' শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবার বসন্তবরণ ও বিশ্ব ভালোবাসা দিবসের বিশেষ দিনে অতীতের চেয়ে কয়েক গুণ ফুল বেচাকেনা হয়েছে। এমন বেচাকেনার সংবাদটি বিকশিত সমাজের অন্যরকম একটি উদ্দীপক হিসেবেই আমরা মনে করি। 'জোটে যদি মোটে একটি পয়সা খাদ্য কিনিয়ো ক্ষুধার লাগি, দুটি যদি জোটে অর্ধেকে তার ফুল কিনে নিও হে অনুরাগী'- কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের 'ফুলের ফসল' কবিতার এই পঙ্‌ক্তিমালা বিদ্যমান বাস্তবতায় স্মরণযোগ্য। ফুল ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার্স সোসাইটির বরাত দিয়ে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বছরে এখন প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার ফুল বেচাকেনা হয়।

শুধু বসন্তবরণ ও বিশ্ব ভালোবাসা দিবসেই নয়, আমাদের জাতীয় দিবসগুলোসহ যে কোনো সামাজিক-সাংস্কৃতিক-রাজনৈতিক অনুষ্ঠানেও ফুলের ব্যবহার বেড়েছে। আমরা মনে করি, উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির বিকাশের কারণেও ফুল বাণিজ্য ক্রমেই সম্প্রসারিত হচ্ছে। তাতে শুধু উৎপাদকই লাভবান হচ্ছেন না, একই সঙ্গে কর্মক্ষেত্র বিস্তৃত হওয়ার পাশাপাশি অর্থনীতিতেও পড়ছে ইতিবাচক প্রভাব। যশোরের গদখালীকে বলা হয় ফুলের রাজধানী। কিন্তু এখন তা আর সেখানেই গণ্ডিবদ্ধ নয়। ফুল চাষাবাদ কৃষি ও রপ্তানির বহুমুখীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে গড়ে উঠেছে পুষ্পবিপণি। এই খাতকে আরও শক্তিশালী করতে দরকার সরকারের প্রণোদনা এবং সতেজ, তরতাজা ও সংরক্ষণের জন্য দরকার হিমাগার স্থাপন। একই সঙ্গে উৎপাদন, বাজারজাতকরণ ও রপ্তানি নীতিমালার ব্যাপারেও নতুন আঙ্গিকে ভাবা প্রয়োজন। আমাদের আবহাওয়া যেহেতু ফুল চাষের উপযোগী, সেহেতু এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা চাই।

বিষয় : ফুল বাণিজ্য

মন্তব্য করুন