ওয়াসার পানি

দাম নয়, গুণগত মান বাড়ূক

প্রকাশ: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০       প্রিন্ট সংস্করণ

--

ওয়াসার সেবা ও সরবরাহকৃত পানির মান নিয়ে প্রশ্ন আছে। এর মধ্যেই ওয়াসার পানির মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব গ্রাহকের মনে ক্ষোভের সঞ্চার করেছে। বুধবার সমকালে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আবাসিক ও বাণিজ্যিক খাতে ওয়াসা ৮০ শতাংশ পর্যন্ত পানির মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য বলে বিবৃতি দিয়েছে। আমরাও মনে করি, পরিচালনা ব্যয়, সিস্টেম লস, লোকসান ঠেকানোর অজুহাতে গ্রাহকের ওপর ওয়াসার এমন চাপ সৃষ্টির প্রস্তাব মেনে নেওয়া যায় না। সমকালসহ অন্য সংবাদমাধ্যমে ওয়াসার অনিয়ম-দুর্নীতির চিত্র ইতোপূর্বে উঠে এসেছে।

বিশ্বের অনেক দেশেই পানির পরিকল্পিত ব্যবহারসহ পুনঃজাতকরণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। অথচ ঢাকায় বৃষ্টির পানির কোনো ব্যবহার হচ্ছে না। ঢাকা ওয়াসাকে সুষ্ঠু ও সমন্বিত পানি ব্যবহার এবং ব্যবস্থাপনায় মনোযোগ নিবিড় করা দরকার। পাশাপাশি জনসচেতনতার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। পানির অপচয় রোধ করে সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। নদীমাতৃক ও বৃষ্টিপাতের দেশ হওয়ার পরও বাংলাদেশে বিশুদ্ধ পানির জন্য দুর্ভাবনা দুর্ভাগ্যজনকই বটে। ওয়াসার অব্যবস্থাপনা-অনিয়ম-দুর্নীতি কমানো গেলে পানির দাম বাড়ানোর প্রয়োজন হবে না বলে আমরা মনে করি। দফায় দফায় দাম বাড়িয়ে গ্রাহককে যে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে, এর গুণগত মান কী? বিশুদ্ধ পানি কি ওয়াসা সরবরাহ করতে পারছে? ফুটিয়ে বা অন্য কোনো উপায়ে বিশুদ্ধ না করলে এই পানি পানযোগ্য হয় না। যেখানে স্বাস্থ্যঝুঁকিমুক্ত পানি গ্রাহক পান না, সেখানে দফায় দফায় দাম বাড়ানোর এই প্রবণতা মেনে নেওয়া যায় না। আগে মান নিশ্চিত করতে হবে।

আমরা জানি, পানির ওপর নাম জীবন। এই জীবন নিয়ে নয়ছয় নয়। গ্রীষ্ফ্ম মৌসুমে রাজধানীতে বিশুদ্ধ পানি সংকট প্রকট হয়ে ওঠে। অতীতের পরিস্থিতি কিংবা অভিজ্ঞতা আমলে রেখে এ ব্যাপারে আগাম সব প্রস্তুতি নেওয়াও বাঞ্ছনীয় বলে আমরা মনে করি। ওয়াসার পানির দাম বাড়ানোর প্রস্তাব প্রত্যাহার করা হোক। গ্রাহকসেবা ও পানির গুণগত মান নিশ্চিতকরণে মনোযোগ বাড়ূক।