উচ্চশিক্ষায় সমন্বিত ভর্তি

আলোচনার দ্বার খোলা থাকুক

প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০       প্রিন্ট সংস্করণ

--

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নেওয়া সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার উদ্যোগকে দেশের পুরোনো পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের 'না' বলার বিষয়টিতে আমরা হতাশ হলেও বিস্মিত নই। বস্তুত এটি অনুমিতই ছিল যে- ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও জাহাঙ্গীরনগর তথা চারটি স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এ উদ্যোগে যাচ্ছে না এবং বাস্তবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একাডেমিক কাউন্সিলে সে সিদ্ধান্তই নেওয়া হলো। তাতে 'ধাক্কা খেলো কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষার উদ্যোগ'। যদিও ইউজিসি চেয়ারম্যান সমকালকে বলেছেন, 'কোনো বিশ্ববিদ্যালয় যদি এ প্রক্রিয়ায় না আসে, তবে তাদের বাদ দিয়েই এ আয়োজন করা হবে।' তারপরও আমরা মনে করি, সমন্বিত ভর্তি থেকে দেশের এ পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সরে আসার সিদ্ধান্ত এ উদ্যোগের সফলতায় প্রশ্ন হিসেবেই দাঁড়াবে। এতে এ পদ্ধতিটি গুরুত্বও হারাবে। আমরা জানি, মূলত এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে। এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শেষ করার পর উচ্চশিক্ষায় ভর্তি হতে একজন শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার জন্য দেশের বিভিন্ন স্থানে যেভাবে দৌড়াতে হয়, তার যে অর্থ ও শ্রম ব্যয় হয়, সেটি সত্যিই বিবেচনাযোগ্য। এ অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সমন্বিত পদ্ধতিতে ভর্তির দাবি অনেক দিনের। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ দাবি আরও জোরালো হয়। বিশেষ করে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আচার্য ও রাষ্ট্রপতি শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে সমন্বিত ভর্তির ব্যাপারে দফায় দফায় তাগিদ দেওয়ার পর ইউজিসি বিষয়টি নিয়ে জোর প্রচেষ্টা চালায়। তারই অংশ হিসেবে আমরা দেখেছি, গত শিক্ষাবর্ষ থেকে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সফলভাবেই সমন্বিত ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করে। গত ২৩ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যদের ইউজিসির বৈঠকে সমন্বিত পদ্ধতিতে ভর্তির সিদ্ধান্ত হয়। মূলত ওই বৈঠক থেকেই পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয় এ পদ্ধতির ব্যাপারে 'ভিন্ন' অবস্থান নেয়। এ পদ্ধতিতে না আসার পেছনে নানা যুক্তি রয়েছে- এটা যেমন সত্য, তেমনি এটাও সত্য যে, শিক্ষার্থীর কল্যাণে এর চেয়ে ভালো বিকল্প নেই। আমরা জানি- বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ যে প্রতিষ্ঠানগুলো আসছে না, সেগুলোও শিক্ষার্থীদের পছন্দের তালিকায় সর্বাগ্রে থাকে। স্বপ্নের এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে দেশের সর্বোচ্চ মেধাবীরা কঠোর প্রস্তুতি গ্রহণ করে মেধার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েই ভর্তি হন। সে ক্ষেত্রে তার মূল্যায়ন পদ্ধতিও সে রকম হওয়া প্রয়োজন বলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর যুক্তি অগ্রাহ্য করার উপায় নেই। আমরা চাই- বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এ প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত হয়ে তারাই নেতৃত্ব দিক। সে ক্ষেত্রে ভর্তি পরীক্ষা গুচ্ছ পদ্ধতিতে হতে পারে। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা যেমন আলাদা হচ্ছে, তেমনি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও আলাদাভাবে হতে পারে। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিষয় বৈচিত্র্য রয়েছে বলে বিভিন্ন ইউনিটে তা হতে পারে। সব বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশগ্রহণে ও ঐকমত্যেই সেটি নির্ধারিত হবে। আর এ বছর পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয় যদি নাও আসে, আমরা চাই ইউজিসি তার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সমন্বিত পদ্ধতির ভর্তি প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করুক, যাতে যারা এ বছর আসছে না তারাও এ পদ্ধতির সফলতা ও শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে পরবর্তী সময়ে এটি গ্রহণ করতে পারে।

বিষয় : উচ্চশিক্ষা