হামের মতো সংক্রামক অনেক রোগের প্রতিষেধক আবিস্কার হয়েছে। সমাজে সচেতনতাও বেড়েছে। প্রতিষেধক নেওয়ার প্রবণতাও বেড়েছে। 'বাদ যাবে না একটি শিশুও'- এই স্লোগান নিয়ে বাংলাদেশেও টিকাদান কর্মসূচি এখন অনেক বিস্তৃত। আবার এও সত্য, দেশের কোনো কোনো এলাকায়, বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে টিকাদান কর্মসূচির ছোঁয়া লাগেনি। পার্বত্য চট্টগ্রাম অর্থাৎ পাহাড়ি জনপদে শিশু সুরক্ষার কর্মসূচি কতটা পিছিয়ে আছে, খাগড়াছড়ি সদর ও দীঘিনালা উপজেলার চিত্র এরই দৃষ্টান্ত। সোমবার সমকালের একটি প্রতিবেদনে প্রকাশ, খাগড়াছড়ি ও দীঘিনালা উপজেলায় হামে আক্রান্ত হয়েছে ৩০ শিশু। ইতোপূর্বে রাঙামাটি, বান্দরবান ও সীতাকুণ্ডে হাম আক্রান্ত শিশুদের উদ্বেগজনক চিত্র সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে। এ মৌসুমে পার্বত্য বিভিন্ন এলাকায় অন্তত আট শিশুর মৃত্যু আমাদের উদ্বিগ্ন না করে পারে না। প্রশ্ন হচ্ছে- কেন পাহাড়ি জনপদের শিশুদের আরও আগেই টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনা হয়নি?

আক্রান্ত পাহাড়ি জনপদে প্রতিষেধক কর্মসূচি যদি আগেই যথাযথভাবে শুরু করা যেত, তাহলে হয়তো এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতো না। রাঙামাটির মর্মন্তুদ অভিজ্ঞতা সামনে থাকা সত্ত্বেও বিশেষ ব্যবস্থায় পার্বত্যাঞ্চলে টিকাদান কর্মসূচি সম্প্রসারিত কেন করা হয়নি- এ প্রশ্নের জবাব দেওয়ার দায় সংশ্নিষ্ট দায়িত্বশীলরা এড়াতে পারেন না। পাহাড়ি এলাকায় শিশুদের সংখ্যা তুলনামূলক কম। আমরা জানি, সরকারের কাছে পর্যাপ্ত টিকা রয়েছে।

এর পরও পার্বত্যাঞ্চলে কেন শিশুরা প্রাণঘাতী রোগে আক্রান্ত হলো- এর কারণ অনুসন্ধান করে প্রতিকার জরুরি। শুধু সময়মতো প্রতিষেধক পায়নি বলে পাহাড়ি জনপদের শিশুদের এমন পরিণতি মেনে নেওয়া যায় না। দেশে পোলিও নির্মূল অভিযান সফল হয়েছে। টিকাদান কর্মসূচি লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী আপাতদৃষ্টিতে সফলতার মুখ দেখলেও এখনও যে এর পরিপূর্ণতা অর্জন সম্ভব হয়নি, পার্বত্যাঞ্চল এরই দৃষ্টান্ত। হাম উপদ্রুত পাহাড়ে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হোক। স্বাস্থ্যসেবাপ্রাপ্তি মানুষের মৌলিক অধিকার। পাহাড়ি জনপদের মানুষ তথা শিশুরা এর বাইরে থাকতে পারে না। 

বিষয় : হামের প্রাদুর্ভাব পার্বত্যাঞ্চল

মন্তব্য করুন