মধ্যপ্রাচ্যে আটকা অভিবাসী

আমরা দায় এড়াতে পারি না

প্রকাশ: ০৬ এপ্রিল ২০২০       প্রিন্ট সংস্করণ

--

করোনাভাইরাস সংক্রমণের সংকট নানা দিকে প্রতিভাত হচ্ছে। রোববার সমকালে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনার প্রাদুর্ভাবে সৃষ্টি হওয়া সংকটজনক পরিস্থিতিতে সৌদি আরব, কুয়েতসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের কমবেশি দেড় লাখ অভিবাসী আটকা পড়েছেন। আমরা জানি, প্রবাসে আমাদের অবৈধ অভিবাসীর সংখ্যা কম নয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তারাই পড়েছেন গভীর সংকটে। কর্মসংকটের কারণে আয়-রোজগার না থাকায় খুব অমানবিক জীবনযাপন করছেন তারা। শরণার্থী ও অভিবাসী বিষয়ক গবেষণা সংস্থা রামরু শনিবার অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে এই চিত্র তুলে ধরেছে। এখন পর্যন্ত বিদেশের মাটিতে করোনা আক্রান্ত হয়ে ৬০ জন বাংলাদেশির প্রাণহানি হয়েছে। সংকটে পড়া অভিবাসীদের ব্যাপারে সরকারের বিশেষ উদ্যোগ জরুরি। এই দুঃসময়ে মানবিকতা-সংবেদনশীলতার পরিচয় দিতেই হবে।

দেশে করোনা সংক্রমণের জন্য শুধু তাদেরকে দায়ী করাটা সংবেদনশীলতার ব্যত্যয় ঘটায়। বিদেশফেরত অভিবাসীদের সঙ্গে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মানবিক আচরণ করার পাশাপাশি আপৎকালীন কিছু পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। যারা প্রবাসে কর্ম ও অর্থ সংকটে পড়েছেন, তাদের পাশে দাঁড়াতেই হবে। বিশেষত মধ্যপ্রাচ্যে যেসব বাংলাদেশি শ্রমিক আটকা পড়েছে, তাদের দিকে সাহায্য-সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিক সংশ্নিষ্ট দূতাবাসগুলো। মনে রাখতে হবে, অভিবাসীরা আমাদের 'রেমিট্যান্স যোদ্ধা'। দেশের অর্থনীতিতে তাদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। যারা অবৈধ পন্থায় জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে প্রবাসে পাড়ি জমিয়েছেন, তারাও আমাদেরই নাগরিক। আটকেপড়া মানুষদের আশ্বাস-প্রতিশ্রুতি কিংবা সান্ত্বনার বাণী শুনিয়ে লাভ নেই। বিষয়টি দেখতে হবে যৌক্তিক দৃষ্টিকোণ থেকে ও মানবিকতার দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে।

সরকার নানা ক্ষেত্রে এই সংকটকালে যে প্রণোদনা ঘোষণা করেছে, তা সাধুবাদযোগ্য। বিপদাপন্ন অভিবাসীদের ব্যাপারেও বিশেষ তহবিল গঠন করে সংকটে তাদের পাশে দাঁড়ানো মানবিক দায় বলেই আমরা মনে করি।