প্রশাসন

আত্মপ্রচার নয় আত্মশুদ্ধি

প্রকাশ: ০৬ এপ্রিল ২০২০       প্রিন্ট সংস্করণ

--

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হিসেবে ফেসবুকের ক্রম উৎকর্ষ আমাদের সামনে যেমন অনেক কিছুই উন্মোচিত করেছে, তেমনি হরেদরে বাড়িয়ে দিয়েছে আত্মপ্রচারও। কখনও কখনও এই আত্মপ্রচার ভুলিয়ে দেয় নিজের দায়বোধটুকুও। এমনই চিত্র উঠে এসেছে 'ডিসি-ইউএনওদের প্রচারবিলাস' শিরোনামে সোমবার সমকালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে। করোনাভাইরাস পরিস্থিতি থেকে সৃষ্ট সংকট মোকাবিলা সরকার মানবিক সহায়তার জন্য ত্রাণ বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারের এই ত্রাণ কার্যক্রম নির্দেশিকা মেনে বিতরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, কোনো কোনো ডিসি-ইউএনও সরকারের নির্দেশনা যথাযথভাবে পালন না করে ত্রাণ বিতরণের চেয়ে ফেসবুকে আত্মপ্রচারেই বেশি ব্যস্ত। রাষ্ট্রীয় ত্রাণ কার্যক্রমকে এভাবে ব্যক্তিগত সাফল্য হিসেবে চিত্রিত করা মেনে নেওয়া যায় না। আমরা মনে করি, জনগণের সেবক হিসেবে তাদের আত্মপ্রচার কিংবা আত্মতুষ্টির অবকাশ নেই। তারা তাদের ওপর দায়দায়িত্ব পালনে কতটা নিষ্ঠ বরং সেটাই বিবেচ্য। আমরা জানি, লাইনে দাঁড়িয়ে অনেকেই ত্রাণ নিতে সংকোচবোধ করেন। তাদের অগ্রাধিকার তালিকা প্রস্তুত করে বাসাবাড়িতে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার সরকারি নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু দায়িত্বশীলরা এভাবে ত্রাণ বিতরণের ছবি জেলা-উপজেলা প্রশাসনের ফেসবুকে আপলোড করে শুধু সরকারি নির্দেশনাই যে অমান্য করছেন তাই নয়, সমাজের একাংশের আত্মমর্যাদায়ও আঘাত করছেন। আমরা তাদের বলতে চাই, এমন কাজ কতটা সঙ্গত তা নিজেরাই ভাবুন। আত্মশুদ্ধির প্রয়োজনে আত্মসমালোচনা দরকার। আমরা সরকার ও প্রশাসনের দায়িত্বশীলদের এমন নিম্নমানের আত্মপ্রচারমূলক প্রতিযোগিতা দেখতে চাই না। কীর্তিমান তার কাজের জন্যই আবিস্কৃত হন, মানুষের কাছে পৌঁছান। প্রচার তার পেছনে ছোটে। তাকে আলোকিত করে। কতটুকু তথ্য প্রকাশ-প্রচারযোগ্য তা একজন প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তার না জানার কথা নয়।

বিষয় : প্রশাসন