ঢাকা সোমবার, ০৪ মার্চ ২০২৪

বিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ বিল শিক্ষার্থীর ঘাড়ে!

বিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ বিল শিক্ষার্থীর ঘাড়ে!

সম্পাদকীয়

প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৩ | ১৮:০০ | আপডেট: ১৮ অক্টোবর ২০২৩ | ০৭:৪৫

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে শিক্ষার্থীদের নিকট হইতে চারটি বিদ্যালয় বিদ্যুৎ বিল বাবদ অতিরিক্ত অর্থ আদায় করিতেছে বলিয়া মঙ্গলবার সমকালে এক প্রতিবেদন প্রকাশ পাইয়াছে। প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ বিল কোন যুক্তিতে কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের উপর চাপাইতে পারে? বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হিসাবে মাসিক বেতন বহন করাই কোনো কোনো পরিবারের জন্য কষ্টকর। ইহার সহিত বিদ্যুৎ বিল বাবদ অতিরিক্ত ২০ হইতে ৫০ টাকা যোগ হইলে তাহা আরও বোঝা হইয়া যাইবে। উহা অপেক্ষা বড় প্রশ্ন প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের মানসিকতা লইয়া। জেলা প্রশাসনের তরফ হইতে বলা হইয়াছে, এইরূপে বিদ্যুৎ বিল আদায়ের নিয়ম নাই।


বস্তুত কিশোরগঞ্জেই শুধু নহে; দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের ইতোপূর্বে শিক্ষার্থীদের নিকট হইতে বিদ্যুৎ বিল আদায়ের খবর সংবাদমাধ্যমে আসিয়াছে। ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থীরা এই অর্থ দিতে বাধ্য হইতেছে বলিয়া বিদ্যালয় প্রশাসন নিজেদের দায় এড়াইতে চাহিতেছে। কিন্তু কোনো পক্ষই ইহার দায় এড়াইতে পারে না। বেসরকারি বলিয়া প্রতিষ্ঠান পরিচালনার সকল ব্যয় শিক্ষার্থীদের উপর চাপানোর এই প্রবণতা কেন? প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় আয় বর্ধনমূলক কাজ বিদ্যালয়ের প্রধান এবং ইহার কমিটির অন্যতম দায়িত্ব। উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যেহেতু বেসরকারি, তজ্জন্য শিক্ষার্থীর স্বার্থেই তাহাদের এই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করিয়া প্রতিষ্ঠানকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করা উচিত। ইহার বিপরীতে শিক্ষার্থীদের নিকট হইতে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের ঘটনা দুঃখজনক। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার সময় ফরম পূরণের ক্ষেত্রেও প্রতি বৎসর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উত্থাপিত হয়। সম্প্রতি আমরা দেখিয়াছি, দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী নির্বাচনী পরীক্ষার ফি দিতে না পারায় শিক্ষকদের অপমানে আত্মহত্যা পর্যন্ত করিয়াছে। এই ঘটনা বিচ্ছিন্ন নহে। শিক্ষার্থীর আর্থিক বিষয়ে বিদ্যালয় প্রশাসনের উদারতা প্রদর্শন জরুরি।

আমরা চাই, কিশোরগঞ্জসহ যেইখানেই বিদ্যুতের বিলসহ শিক্ষার্থীদের নিকট হইতে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের ঘটনা ঘটিতেছে, তাহা বন্ধ করিতে অবিলম্বে শিক্ষা প্রশাসন তৎপর হইবে।

আরও পড়ুন

×