ঢাকা বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

সড়কে মৃত্যুর উপেক্ষিত এক কারণ

সড়কে মৃত্যুর উপেক্ষিত এক কারণ

সম্পাদকীয়

প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৩ | ১৯:৫০ | আপডেট: ১৮ অক্টোবর ২০২৩ | ১৯:৫০

রাজধানীর গাড়িচালকের ৮১ শতাংশই চক্ষু সমস্যায় ভুগিতেছেন বলিয়া এক উদ্বেগজনক তথ্য দিয়াছেন খোদ সড়ক পরিবহন খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান।

বুধবার প্রকাশিত সমকালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার সংস্থাটির বনানী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ২৮৯ চালকের চক্ষু পরীক্ষা করিয়া চালকদের দৃষ্টি সমস্যার এই চিত্র পাওয়া গিয়াছে। বিআরটিএ চেয়ারম্যান আরও বলিয়াছেন, বাস টার্মিনাল ও বিআরটিএর পেশাদার চালকদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে চক্ষুসহ ২৪৯ চালকের প্রাথমিক স্বাস্থ্যও পরীক্ষা করা হয়, যাহাদের মধ্যে ৪৭ জন রক্তচাপ, ৬৯ জন ডায়াবেটিস এবং ১০৯ জন ধূমপানজনিত সমস্যায় আক্রান্ত। চক্ষুর পাশাপাশি স্বাস্থ্যগত এহেন সমস্যা লইয়া অতি দক্ষ চালকের পক্ষেও দুর্ঘটনা এড়ানো কঠিন। ফলে অন্তত এই প্রেক্ষাপটে প্রতিদিন যে রাজধানীসহ বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়কে দুর্ঘটনায় এক ডজনের অধিক মানুষের মৃত্যু ঘটিতেছে, উহাতে বিস্ময়ের কিছু নাই।

প্রকৃতপক্ষে গাড়িচালকদের চক্ষু বা স্বাস্থ্য সমস্যা লইয়া কর্মরত থাকা অনেক পুরাতন বিষয়। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম হইতে জানা যায়, ২০১৯ সালের সূচনায় রাজধানীর বাস ও ট্রাকচালকদের মধ্যে মানবিক সাহায্য সংস্থা নামক একটা বেসরকারি সংস্থা পরিচালিত এক জরিপে দেখা গিয়াছিল, গণপরিবহনের ৭০ শতাংশ চালক চক্ষু সমস্যায় আক্রান্ত। কিন্তু ইতোমধ্যে চার বছর অতিক্রান্ত হইলেও সমস্যাটি যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের খুব একটা টনক নড়াইতে পারে নাই, আলোচ্য প্রতিবেদন উহারই সাক্ষ্য দেয়।

প্রচলিত ট্রাফিক আইন যদ্রূপ সড়কে ফিটনেসহীন কোনো যানবাহনের চলাচল অনুমোদন করে না, তদ্রূপ শারীরিক-মানসিকভাবে অসুস্থ কাহাকেও গাড়িচালকের আসনে বসিতে দেয় না। অথচ বৎসরের পর বৎসর ইহার ব্যত্যয় ঘটিয়া চলিয়াছে।

অনস্বীকার্য, বিআরটিএর জনবল সংকট এই ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখিতেছে। তবে সমস্যাটি সমাধানে বিআরটিএ কতটুকু আন্তরিক, সেই প্রশ্নও রহিয়াছে। আমাদের প্রত্যাশা, অবিলম্বে তাহারা এই বিষয়ে সক্রিয় হইবে এবং সমস্যাটি যেহেতু মানবিকও; উহার কার্যকর সমাধানে পরিবহন মালিকদের সহানুভূতিশীল করিয়া তুলিতে উদ্যোগী হইবে। 

আরও পড়ুন

×