ঢাকা বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

সংঘাত নহে, সংলাপ কাম্য

সংঘাত নহে, সংলাপ কাম্য

সম্পাদকীয়

প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৩ | ১৯:৫১ | আপডেট: ১৮ অক্টোবর ২০২৩ | ১৯:৫১

সরকার পতনের এক দফা আন্দোলনের চলমান কর্মসূচির অংশ হিসাবে বিএনপি ও সমমনা জোটের জনসমাবেশ এবং একই দিনে আওয়ামী লীগের শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশ আর যাহাই হউক, সংলাপের পরিবেশ সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখিবে না।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকালে সরকার পদ্ধতি লইয়া স্পষ্টত দুই মেরুতে অবস্থানকারী ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও প্রধান বিরোধী দল বিএনপির মধ্যে সংলাপের প্রয়োজনীয়তা কেহই অস্বীকার করিতেছেন না। এমনকি যুযুধান দুই রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দও অনানুষ্ঠানিক আলাপচারিতায় উহার গুরুত্ব স্বীকার করিয়া থাকেন। কিন্তু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের নানা আলোচনা ও তৎপরতার পর সংলাপের আকাশে যেই রুপালি রেখা দেখা গিয়াছিল; পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির কালো মেঘে উহা কি ঢাকিয়া যাইতেছে? বুধবারের সমাবেশ হইতে বিএনপি ঘোষিত কর্মসূচির পাল্টা আওয়ামী লীগেরও কর্মসূচি পরিস্থিতি সংঘাতমুখরই করিয়া তুলিতে পারে। এইরূপ সংঘাত কাম্য নহে। আমরা সংলাপই দেখিতে চাহি।

বস্তুত বুধবারের কর্মসূচির পূর্বেও আমরা আশান্বিত হইয়াছিলাম, সংলাপের সম্ভাবনা সৃষ্টি হইতে যাইতেছে। কারণ চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে ঢাকা সফর শেষে ওয়াশিংটন ফিরিয়া গিয়া মার্কিন প্রতিনিধি দল সংলাপের আহ্বান জানাইলে প্রধান দুই দলই প্রাথমিকভাবে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানাইয়াছিল। গত সোমবার সমকালে প্রকাশিত শীর্ষ প্রতিবেদনে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিগণও ব্যক্ত করিয়াছিলেন অভিন্ন আশাবাদ। গত আগস্ট মাসে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পক্ষ হইতে চায়ের আড্ডায় বসিবার তাগিদও প্রধান দুই রাজনৈতিক দল পত্রপাঠ নাকচ করিয়া দেন নাই। স্বীকার্য, দুই পক্ষই ঐ দুই ক্ষেত্রে সংলাপের জন্য কার্যত পূর্বশর্ত দিয়াছিল। কিন্তু আমরা প্রত্যাশা করিয়াছিলাম, সংলাপের সূর্যোদয় ঘটিতে শুরু করিলেই পূর্বশর্তের কুয়াশা কাটিয়া যাইবে। কিন্তু এখন দেখা যাইতেছে পরিস্থিতি যেন ‘ইউটার্ন’ লইতেছে। আমরা বিশ্বাস করি, রাজপথের সংঘাতে না গিয়া আলোচনা ও সংলাপের পথ বাছিয়া লইলে সমাধানসূত্র বাহির হইবেই। 

স্মরণ রাখিতে হইবে, জুলাই মাস ধরিয়া অন্তত চার দফা পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে দৃশ্যত কোনো পক্ষেরই লাভ হয় নাই। বরং আসন্ন জাতীয় সংসদ অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক করিতে দুই পক্ষের মধ্যে শান্তিপূর্ণ আলোচনার মূল্যবান সময় অপচয় হইয়াছে। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে পরবর্তী মাসের প্রথম দিকেই যেহেতু নির্বাচনী তপশিল ঘোষণা করিতে হইবে; এই সময়ে আসিয়া রাজপথের কর্মসূচির তাৎপর্য সামান্যই। আমরা প্রত্যাশা করিব, ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দল বাস্তবতা অনুধাবনে সক্ষম হইবে এবং সংলাপের পরিবেশ সৃষ্টিতে অধিক মনোযোগী হইবে। সংলাপ যতই বিলম্বিত হউক; রাজপথে সংঘাত যে ‘বিকল্প’ নহে– উভয় দল নিশ্চয় তাহা অনুধাবনে সক্ষম হইয়াছে।

রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে সংঘাতমুখর পরিস্থিতি কীভাবে তৃতীয় পক্ষের সুযোগসন্ধানীদিগের সুবিধা করিয়া দেয়, কথিত ওয়ান-ইলেভেন পরিস্থিতিতে আমরা সকলেই দেখিয়াছি। আর ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দল নির্বিশেষে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ঐ পরিস্থিতির সর্ববৃহৎ ভুক্তভোগী।

আরও পড়ুন

×