ঢাকা শনিবার, ০২ মার্চ ২০২৪

জলবায়ুদুর্গতরা যাইবে কোথায়?

জলবায়ুদুর্গতরা যাইবে কোথায়?

সম্পাদকীয়

সম্পাদকীয়

প্রকাশ: ৩০ নভেম্বর ২০২৩ | ২৩:১৩

আরব আমিরাতের দুবাইয়ে জলবায়ুবিষয়ক অষ্টবিংশতিতম জাতিসংঘ শীর্ষ সম্মেলন তথা ‘কপ২৮’ এমন সময় অনুষ্ঠিত হইতেছে, যখন বৈশ্বিক এই অনুষ্ঠানের কার্যকারিতা ও উপযোগিতা লইয়াই প্রশ্ন উঠিতেছে। এইবারের সম্মেলনে যদিও ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ’ তথা জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত তহবিল গঠন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হইবার কথা রহিয়াছে; আশাবাদী হওয়া সহজ নহে। বিশেষত তেলসমৃদ্ধ দুবাইতে এইরূপ সম্মেলন আয়োজনের নেপথ্যে ঐ পণ্যের বাণিজ্যের প্রাধান্য পাইবার তথ্য বিবিসিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ফাঁস হইবার পর হতাশা আরও বাড়িয়া যাওয়াই স্বাভাবিক। ‘কপ’ আয়োজনের মূল আলোকপাত যে ক্রমেই সরিয়া যাইতেছে, উহা এইবারই প্রথম স্পষ্ট হয় নাই। আমরা গভীর উদ্বেগের সহিত দেখিয়া আসিতেছি, যত দিবস গড়াইতেছে, বৈশ্বিক মোড়লগণ ক্রমেই জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলার অঙ্গীকার হইতে সরিয়া যাইতেছেন। 

গুরুত্বপূর্ণ নানা বিষয়ে ছাড় দিয়া হইলেও ২০১৬ সালে প্যারিস চুক্তি স্বাক্ষরিত হইবার পর হইতেই বিশ্বজুড়ে যেই আশাবাদ দেখা গিয়াছিল, বাংলাদেশেও উহার রেশ পড়িয়াছিল। কিন্তু গত পাঁচ বৎসরে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ভারত, রাশিয়া, জাপান ও ব্রাজিল সেই অঙ্গীকারের প্রতি কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় সাড়া দিতে ব্যর্থ হইতেছে। অথচ এই দেশগুলিই বৈশ্বিকভাবে মোট কার্বনের ৬০ শতাংশের অধিক নিঃসরণের জন্য দায়ী। অথচ জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় এই দেশগুলির নির্লিপ্ততা বাংলাদেশের জন্য বিশেষভাবে হতাশা ও উদ্বেগের। কারণ বৈশ্বিক এই দুর্যোগে যেই সকল দেশ সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত হইবে, আমরা উহার প্রথম সারিতে। চলতি বৎসরও আমরা দেখিয়াছি, বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় ও নিম্নচাপের পরম্পরা বাড়িয়া গিয়াছে। দুবাইতে যখন কপ২৮ অনুষ্ঠিত হইতে যাইতেছে, তখনও আরেকটি ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা দেখা দিয়াছে।

স্বীকার্য, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় যেই দেশগুলি নীতিগত ও আর্থিক প্রস্তুতি সর্বাগ্রে গ্রহণ করিয়াছে, বাংলাদেশ উহার প্রথম সারিতে। জলবায়ু পরিবর্তনের অনুঘটনে অধর্তব্য ভূমিকা না থাকা সত্ত্বেও এই দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় স্থানীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি, জলবায়ুসহিষ্ণু প্রযুক্তি উদ্ভাবন, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন প্রভৃতি লক্ষ্য সম্মুখে রাখিয়া আমরা যেইভাবে নিজস্ব তহবিল গঠন করিয়াছিলাম, উহা বিশ্ববাসীকে বিলক্ষণ বিস্মিত করিয়াছিল। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় যেই বিপুল অর্থায়ন প্রয়োজন, সেই সহায়তা দিতে হইবে উন্নত বিশ্বকেই। খোদ জাতিসংঘ সম্মেলনই যদি ছিন্নসূত্র ঘুড়ির ন্যায় উদ্দেশ্যহীন উড়িতে থাকে, তাহা হইলে জলবায়ুদুর্গতরা যাইবে কোথায়?
 

আরও পড়ুন

×