ঢাকা শনিবার, ০২ মার্চ ২০২৪

নির্বাচনী আচরণবিধি কি ফেলনা?

নির্বাচনী আচরণবিধি কি ফেলনা?

সম্পাদকীয়

সম্পাদকীয়

প্রকাশ: ৩০ নভেম্বর ২০২৩ | ২৩:১৩

বাংলাদেশ সত্যই এক বিচিত্র দেশ। এই দেশে ফৌজদারি মামলা ছাড়া বড় নেতা নাকি হওয়া যায় না, ঋণখেলাপের তকমা ছাড়া বড় ধনীর স্বীকৃতি আসে না, বদনাম ছাড়া বিখ্যাত হওয়া কঠিন। সেই দেশে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করাই হইয়া পড়িয়াছে সংসদ সদস্য হইবার প্রথম যোগ্যতা। মনোনয়নপত্র জমা দিবার সময় আইনে যেইখানে প্রার্থীর সঙ্গে পাঁচজন পর্যন্ত নেতাকর্মী থাকিবার অনুমতি রহিয়াছে, সেইখানে প্রায় সকল প্রার্থীই গাড়িবহরসমেত শত শত মানুষ নিয়া ‘শোডাউন’ দিতেছেন। প্রার্থিতা নিশ্চিত না হইতেই অনেকে পোস্টার ছাপাইয়া জনপদের দেওয়াল ঢাকিয়া ফেলিতেছেন। এমনকি বর্তমান সংসদের হুইপ সরকারি প্রটোকলসমেত জাতীয় পতাকাবাহী গাড়িতে আসিয়া মনোনয়নপত্র জমা দিয়াছেন। মনোনয়ন পর্বেই যদি এত মহাসমারোহ হয়, তাহা হইলে নির্বাচনী প্রচারের বেলায় আরও কত আতিশয্য যে ঘটিবে, কত অনিয়ম যে দেখা যাইবে, তাহার ইয়ত্তা নাই।

বৃহস্পতিবারের সমকাল জানাইতেছে, বড় ধরনের নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের নজির স্থাপন করিয়াছেন জাতীয় ক্রিকেট দলের ক্যাপ্টেন এবং তারকা খেলোয়াড় সাকিব আল হাসান। তিনি মাগুরা-১ আসনে নৌকা প্রতীক লইয়া প্রার্থী হইয়াছেন। যেইখানে তরুণদের আইকন, জাতীয় ক্রিকেটের দূত হিসাবে তাঁহার নিয়ম মানার দৃষ্টান্ত স্থাপন করিবার দরকার ছিল, সেইখানে তিনি নিজ শহরে মঞ্চে উঠিয়া সংবর্ধনা নিয়াছেন। বিরাট শোভাযাত্রা করিয়াছেন। ইহা ছাড়া যশোর, নারায়ণগঞ্জ এবং গাজীপুরেও অনুরূপ আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটিয়াছে। আচরণবিধি লঙ্ঘিত হইয়াছে কিনা প্রশ্ন করায় এক সাংবাদিককে নির্যাতন করিয়াছেন স্বয়ং প্রার্থী। 

স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠিতে পারে যে, নির্বাচন কমিশন কি তাহার দায়িত্ব পালন করিতেছে? সাকিব আল হাসানকে মৃদু সতর্ক করিয়াই দায় খালাস? প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল যতটা গর্জান ততটা বর্ষান না। যতটা বাক্যবীর ততটা কর্মবীর বলিয়া মনে হয় না। না হইলে মনোনয়নপত্র জমা দিবার দিনেই আচরণবিধি লঙ্ঘনের জন্য পদক্ষেপ নিয়া তিনি দৃষ্টান্ত স্থাপন করিতে পারিতেন। যাতে করিয়া অন্য প্রার্থীরাও সতর্ক হইয়া যান। বলা হয়, “মর্নিং শো’জ দ্য ডে”– প্রভাতেই বাকি দিনের ইশারা মেলে। মনোনয়ন পর্বেই যদি এত জাঁকজমক, অর্থ খরচের বহর চলিতে থাকে, তাহা হইলে মূল পর্বে আরও কত আতিশয্য যে দেখিতে হইবে তাহা কে জানে!

এমনিতেই বাংলাদেশের আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন লইয়া ঘরে-বাহিরে প্রশ্ন ও বিতর্ক রহিয়াছে। প্রধান বিরোধী দল বিএনপি নির্বাচন কমিশনের প্রতি অনাস্থা জানাইয়া এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করিবার সিদ্ধান্ত নিয়া ফেলিয়াছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইইউ এবং জাতিসংঘও নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়া প্রশ্ন তুলিয়াছে। এখন আচরণবিধি লঙ্ঘন বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের ঔদাসীন্য বিএনপিসহ সমালোচকদের আশঙ্কাকে সত্য এবং অভিযোগকে বাস্তব করিয়া তুলিতেছে। আমাদের আশা, নির্বাচন কমিশন নিন্দুকদের সমালোচনা মিথ্যা প্রমাণে 
আগাইয়া আসিবে এবং প্রতিটি আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনার আইন মোতাবেক বিহিত করিবে। 

আরও পড়ুন

×