ঢাকা মঙ্গলবার, ০৫ মার্চ ২০২৪

এমনিতেই ভীত, অস্ত্র প্রদর্শনও লাগিবে?

এমনিতেই ভীত, অস্ত্র প্রদর্শনও লাগিবে?

সম্পাদকীয়

সম্পাদকীয়

প্রকাশ: ০৫ ডিসেম্বর ২০২৩ | ২৩:০২

ঝালকাঠি-১ আসনের আওয়ামী লীগ প্রার্থী শাহজাহান ওমর বীরউত্তম যেইভাবে স্বীয় কটিদেশে পিস্তল ঝোলাইয়া এবং তাঁহার জনৈক অনুসারী বন্দুকধারীকে পার্শ্বে রাখিয়া সোমবার প্রকাশ্য সমাবেশে উপস্থিত হইয়াছিলেন, উহা অভিনব বটে। স্বীকার্য, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্মুখে রাখিয়া ক্ষমতাসীন দলের আরও কয়েকজন নেতা দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্য কর্মসূচিতে অস্ত্র প্রদর্শন করিয়া আলোচনায় আসিয়াছেন। যেমন গত ২৯ নভেম্বর অস্ত্রধারী লইয়া মনোনয়নপত্র দাখিল করিয়াছিলেন নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বীরপ্রতীক। ১২ নভেম্বর ময়মনসিংহের নান্দাইলে প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র লইয়া ‘নৈরাজ্য ও সন্ত্রাসবিরোধী’ মিছিল করিয়াছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আব্দুস সালাম। কিন্তু শাহজাহান ওমরের ন্যায় ‘ডাবল অস্ত্র’ প্রদর্শন করিতে কে পারিয়াছে! তাঁহার বর্তমান ও সদ্য সাবেক দল বিএনপি নেতাকর্মীর মধ্যে ‘পরিচয়’ সমাবেশের চাহিতে উপযুক্ত উপলক্ষই বা কোথায় মিলিবে? প্রথম রাত্রিতে মার্জার মারিবার ন্যায় প্রথম পরিচয়েই অস্ত্র প্রদর্শন উত্তম নহে কি?

কেবল নির্বাচনকালে ‘নিরাপত্তাজনিত’ কারণে নহে; উপলক্ষ-অনুপলক্ষেই সাম্প্রতিক সময়ে অস্ত্র প্রদর্শন যেই হারে বাড়িয়াছে; আমাদের আশঙ্কা ইহা নূতন রাজনৈতিক ‘স্টাইল’ হইয়া পড়ে কিনা! ক্ষমতাসীন কিংবা বিরোধীদের দলীয় কিংবা উপদলীয় সংঘাত কিংবা কোন্দলে দেশীয় কিংবা বিদেশি অস্ত্র প্রদর্শন এই দেশে নূতন নহে– স্বীকার করিতে হইবে। কিন্তু বর্তমানে সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি ব্যতীতও ‘শান্তিপূর্ণ’ সময়ে যেইভাবে বৈধ বা অবৈধ অস্ত্র প্রদর্শন করা হইতেছে, তাহা পূর্বে কখনও দেখা গিয়াছে বলিয়া আমাদের জানা নাই। স্মরণে রহিয়াছে, গত বৎসর জুলাই মাসে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ‘বেলজিয়াম জুয়েল’ যুবলীগের প্রতিপক্ষের উপর হামলার পরিশ্রম শেষে আগ্নেয়াস্ত্র হস্তে শ্রান্তি-বিনোদন করিতে গিয়া ‘ভাইরাল’ হইয়াছিলেন। জুয়েলের আলোকচিত্র তবুও অজান্তে অন্য কেহ তুলিয়া সামাজিক মাধ্যমে দিয়াছিল। কিন্তু গত বৎসরই মে মাসে পাবনার সুজানগর উপজেলায় জনৈক ছাত্রলীগ নেতা রাতুল অস্ত্রের ছবি তুলিয়া নিজেই যেইভাবে ফেসবুকে পোস্ট করিয়াছিলেন, উহার তুলনা কোথায় পাওয়া যাইবে? কেবল অবিমৃষ্যকারী পাতিনেতারা নহেন; বগুড়া-৭ আসনের ‘আইন প্রণেতা’ রেজাউল করিম বাবলু অস্ত্র হস্তে ছবি ফেসবুকে দিয়াছিলেন কী কারণে?

আমরা জানি, সাম্প্রতিক সমাজে ‘প্রদর্শন বাতিক’ বাড়িয়া চলিয়াছে। মানুষ স্বীয় অর্থ ও বিত্তের প্রদর্শন যদি করিতে পারে; অস্ত্র থাকিলে উহা প্রদর্শন করিবে না কেন? কিন্তু ইহা বুঝিতে বিশেষজ্ঞ হইবার প্রয়োজন নাই যে, রাজনৈতিক কর্মসূচি বা সমাবেশে অস্ত্র প্রদর্শনের নিহিতার্থ হইতেছে ভীতি প্রদর্শন। আমাদের প্রশ্ন, রাজনৈতিক নেতাকর্মীদিগের দাপটে জনসাধারণ এমনিতেই ভীত ও সন্ত্রস্ত। নূতন করিয়া অস্ত্র প্রদর্শনের প্রয়োজন কী? এইভাবে বৈধ বা অবৈধ অস্ত্র প্রদর্শনের ব্যাপারে বেরসিক পুলিশ ও প্রশাসন যদি আইনের দোহাই লইয়া আসে; তাহাদের সহিত বোঝাপড়া জনান্তিকে সারিয়া ফেলাই উত্তম। সংবাদমাধ্যমকে জানাইয়া কৈফিয়ত তলব কিংবা প্রদানের প্রয়োজন কী?

আরও পড়ুন

×