ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

জনশক্তি রপ্তানি খাতে জবাবদিহি চাই

জনশক্তি রপ্তানি খাতে জবাবদিহি চাই

.

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৩ | ২৩:১২

বাংলাদেশ হইতে বিভিন্ন দেশে জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে হয়রানি ও দুর্নীতির অভিযোগ এবং উহার ফাঁদে পড়িয়া কাহারও কাহারও নিঃস্ব হইবার চিত্র নূতন নহে। সাম্প্রতিক বৎসরগুলিতে দেশেই যদিও সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হইয়াছে, এখনও অনেক কর্মক্ষম তরুণ নিজেকে প্রমাণের সুযোগ হইতে বঞ্চিত হইয়া ক্ষেত্রবিশেষে ভিটেমাটি বিক্রি করিয়া হইলেও ভিসা সংগ্রহে উৎসাহী। কিন্তু তাহাদের অনেকে জনশক্তি রপ্তানির কথিত এজেন্টদের হস্তে সর্বস্ব তুলিয়া দিয়া বৎসরের পর বৎসর ঘুরিতে থাকেন। বিদেশ গমনের স্বপ্ন বাস্তবায়ন দূরে থাকুক, হস্তান্তরিত অর্থ এমনকি পাসপোর্ট ফিরিয়া পাইবার আশাও ফিকে হইতে থাকে। যাহারা অনেক কাঠখড় পোড়াইয়া বিদেশ যাইতে পারেন, তাহাদেরও সকলের ভাগ্যে ‘সুবর্ণ মৃগ’ মিলে না। শনিবার সমকালে প্রকাশিত শীর্ষ প্রতিবেদনে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান রামরুর প্রতিবেদন উদ্ধৃত করিয়া বলা হইয়াছে, বিদেশ হইতে অন্তত ৩৫ শতাংশ কর্মী দেশে ফিরিয়া আসিতে বাধ্য হন। 

দেশে প্রথমবারের ন্যায় উদযাপিত ‘জাতীয় প্রবাসী দিবস’ উপলক্ষে প্রকাশিত আলোচ্য প্রতিবেদনে বলা হইয়াছে, নির্ধারিত খরচের কয়েক গুণ অধিক ব্যয় করিয়া বিদেশে গিয়াও অনেকের কর্মসংস্থান হইতেছে না। জনশক্তি নিয়োগ এজেন্সিগুলি আগ্রহী কর্মীকে বিমানে উঠাইয়াই দায়িত্ব সমাপ্ত করিতেছে। প্রবাসে মানবেতর জীবনযাপন শেষে অনেককে দেশে ফিরিতে হইতেছে শূন্য হস্তে। বিশেষত মধ্যপ্রাচ্যে গৃহকর্মী হিসাবে যাওয়া আমাদের নারী শ্রমিকরা যেইভাবে প্রতারণা এবং শারীরিক, মানসিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার হইয়া থাকেন, উহা অবর্ণনীয়। স্বাবলম্বী হইবার স্বপ্ন লইয়া পরিবার-পরিজন ফেলিয়া পরদেশে গিয়া দুঃসহ পরিস্থিতির সম্মুখীন হইয়া অনেকে মানসিক ভারসাম্যও হারাইয়া ফেলেন। অথচ কর্মসংস্থান নিশ্চিত হইলেও কেবল বিদেশে কর্মী পাঠাইবার সরকারি অনুমতি মিলিবার কথা। কত টাকা ব্যয়ে, বিদেশের কোন প্রতিষ্ঠানে, কত বেতনে, কী কী সুবিধা ও শর্তে বাংলাদেশি কর্মী চাকরি করিতে যাইতেছেন– প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অনুমতিপত্রেই তাহা স্পষ্ট লিখিত থাকিবার কথা। দেশীয় এজেন্সি ও বিদেশি নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানের সহিত মন্ত্রণালয়েরও অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীগণের যোগসাজশ ব্যতীত এই পরিস্থিতির কোনো কারণ থাকিতে পারে না।

অনেক সমালোচনা ও আলোচনার পর জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে যখন নিবন্ধন বাধ্যতামূলক হইয়াছিল, যখন ফিসমূহ নির্ধারিত হইয়াছিল; আমরা প্রত্যাশা করিয়াছিলাম এই খাতে ‘ধ্রুপদি’ দুর্নীতি কমিয়া আসিবে। কিন্তু এখন দেখা যাইতেছে, সকলই গরল ভেল! আমরা মনে করি, জনশক্তি রপ্তানি খাতটিতে দুর্নীতি, অনিয়ম ও হয়রানি দূর করিতে হইলে এজেন্সিগুলিতে নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি বৃদ্ধির বিকল্প নাই। জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করিতে হইবে জনশক্তি রপ্তানিসংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলিতেও। পাশাপাশি জনশক্তি হিসাবে বিদেশ যাইতে আগ্রহীদের ভিসা আবেদনের পূর্বেই সুষ্ঠু বাছাই প্রক্রিয়া ও উপযুক্ত প্রশিক্ষণও পরিস্থিতি উন্নয়নে ভূমিকা রাখিতে পারে। তাহা হইলে বাড়তি অর্থ আদায়, হয়রানি, অনিয়ম, প্রতারণার সুযোগও কমিয়া আসিবে। কে না জানে, সচেতন ও সতর্ক নাগরিকই উত্তম প্রহরী! বাস্তবসম্মত ও কার্যকর ব্যবস্থার পরিবর্তে কেবল দিবস নির্ধারণ ও পালনে পরিস্থিতির উন্নতি হইবার নিশ্চয়তা কেহ দিতে পারিবে না।

আরও পড়ুন

×