করোনার ক্ষতি থেকে অর্থনীতির দ্রুত পুনরুদ্ধারে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। শোভন কর্মপরিবেশ এবং কাজের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ সমতা উন্নয়নেও কাজ করছে সরকার। সরকারের এসব লক্ষ্য অর্জনে সহযোগিতা দেবে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)। সরকার, নিয়োগকর্তা ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করবে সংস্থাটি। এ বিষয়ে একটি সমঝোতা চুক্তি সই হয়েছে গতকাল বৃহস্পতিবার। বাংলাদেশের জন্য প্রস্তুত চতুর্থ ডিসেন্ট ওয়ার্ক কান্ট্রি প্রোগ্রামের (ডিডব্লিউসিপি) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ চুক্তি সই হয়।
রাজধানীর র‌্যাডিসন হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ চুক্তিতে সই করেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. এহসান-ই-এলাহী, বাংলাদেশে আইএলওর কান্ট্রি ডিরেক্টর টুওমো পুটিয়াইনেন, ন্যাশনাল কোঅর্ডিনেশন কমিটি অন ওয়ার্কার্স এডুকেশনের (এনসিসিডব্লিউই) চেয়ারম্যান মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ এবং বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের (বিইএফ) সভাপতি আরদাশির কবির। শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন।
আইএলওর ঢাকা অফিসের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ডিসেন্ট ওয়ার্ক কান্ট্রি প্রোগ্রাম অনুযায়ী, বাংলাদেশ সরকারের লক্ষ্য অর্জন করতে কৌশলগত নীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক অবকাঠামোর উন্নতি প্রয়োজন। এ ছাড়া অন্তর্ভুক্তিমূলক, ন্যায্য ও টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নে এবং সবার জন্য শোভন কাজ ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে তার লক্ষ্যে পৌঁছতে হবে। এসব লক্ষ্য অর্জনে সব ধরনের সহযোগিতা দেবে আইএলও। আগামী ২০২৬ সাল পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলবে।
ডিসেন্ট ওয়ার্ক কান্ট্রি প্রোগ্রাম হচ্ছে কোনো দেশে আইএলওর স্বতন্ত্র বৈশ্বিক অবস্থানের ভিত্তিতে সে দেশের শ্রমবিষয়ক কার্যক্রমে সহযোগিতা দেওয়ার কৌশলগত কাঠামো। এর মাধ্যমে সবার জন্য শোভন কাজের প্রসারে নিজেদের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে উপযুক্ত কাজের পরিবেশ তৈরি হতে পারে।
অনুষ্ঠানে শ্রম প্রতিমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, করোনার প্রভাব ও চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের ফলে কর্মসংস্থানের পরিবর্তন হচ্ছে। এ কারণে অর্থনৈতিক এবং কর্মসংস্থানের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়েছে সরকার। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় টেকসই এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন অর্জনে আরও বেশি মনোনিবেশ করতে হবে। যাতে অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি সবার জন্য শোভন কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা যায়।
আইএলওর কান্ট্রি ডিরেক্টর বলেন, বাংলাদেশে কর্ম পরিবেশ আধুনিক করা কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক ভূমিকা রাখবে ডিসেন্ট ওয়ার্ক কান্ট্রি প্রোগ্রাম। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. কামাল হোসেন, এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) মহাপরিচালক মো. শহিদুল আলম প্রমুখ।