ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

চাউলের বাজার বাগে আনুন

চাউলের বাজার বাগে আনুন

ছবি-সংগৃহীত

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ | ০০:১১ | আপডেট: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ | ০৭:৪৬

ভরা মৌসুমেও চাউলের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে আমরা জানুয়ারির মাঝামাঝিতে এই সম্পাদকীয় স্তম্ভেই উদ্বেগ জানাইয়াছিলাম। ঐ সময় প্রশাসন দেশের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান পরিচালনাসহ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করিয়াছিল। উহাতে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হইলেও স্থায়ী হয় নাই। হতাশাজনকভাবে, বর্তমানে চাউলের বাজারে প্রায় একই চিত্র দেখা যাইতেছে। শুক্রবার সমকালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি খোদ খাদ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে কুষ্টিয়াসহ কতিপয় চাউলের মোকামে অভিযান পরিচালনার পরিপ্রেক্ষিতে কেজিপ্রতি ২-৩ টাকা দাম হ্রাস পাইলেও বর্তমানে প্রধান খাদ্যপণ্যের দাম খুচরা পর্যায়ে বরং উহার অধিক বৃদ্ধি পাইয়াছে। স্বাভাবিকভাবেই চাউলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব দেশের অর্থনীতিতে পড়িতেছে। নূতন করিয়া বহু মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিম্নে চলিয়া যাইতেছে। 

উদ্বেগের বিষয়, সরকারের খাদ্য মজুত পরিস্থিতি স্পষ্টত ভালো হইবার পরও এ অবস্থা দেখা যাইতেছে। সরকারি কর্মকর্তারা দাবি করিয়াছেন, সকলের সহিত আলোচনার ভিত্তিতে পণ্যটির দাম নির্ধারণ করা হইয়াছে, কিন্তু কেহই ঐ দাম মানিতেছে না। খাদ্যমন্ত্রী হুমকি দিয়াছেন, চাউলের দাম কমাইতে প্রয়োজনে সরকার কিছু নীতিগত উদ্যোগ গ্রহণ করিবে, যাহার মধ্যে শূন্য শুল্কে চাউল আমদানির অনুমতিদানের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত। তবে এ পদক্ষেপ পরিস্থিতি সামাল দিতে কতটুকু সক্ষম হইবে উহা নিশ্চিত নহে। কারণ বিগত বছর শুল্ক কমানো হইতে শুরু করিয়া বেসরকারি খাতে আমদানির সুযোগ দেওয়া হইয়াছিল। কিন্তু উহাতে চাউলের বাজার খুব একটা শান্ত হয় নাই। 

আমরা মনে করি, আমদানির অনুমতি বর্তমান মূল্যবৃদ্ধির জন্য প্রধানত দায়ী করপোরেট সংস্থাগুলির হাতে থাকিলে পরিস্থিতির কোনো ইতরবিশেষ ঘটিবে না। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চাউলের মজুত ও সরবরাহ, উভয় দিকেই নজরদারি জরুরি। বর্তমান বাস্তবতায় এখনই যে বিষয়ে সবচেয়ে গুরুত্ব দিতে হইবে, তাহা হইল সীমিত ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ন্যায্যমূল্যে চাউল বিক্রয় করার সরকারি কর্মসূচি ব্যাপক ও জোরদার এবং বাজারে পণ্যটির পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা। 

আরও পড়ুন

×