ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

আত্মঘাতী জলাধার দখল প্রতিযোগিতা

আত্মঘাতী জলাধার দখল প্রতিযোগিতা

.

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ | ০০:১২ | আপডেট: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ | ০৭:৪২

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের জলাশয় দখলে ব্যক্তি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, তৎসহিত সরকারি প্রতিষ্ঠানের যে ফিরিস্তি শুক্রবার সমকালের শীর্ষ প্রতিবেদনে উঠিয়া আসিয়াছে, উহা উদ্বেগজনক। প্রতিবেদন অনুযায়ী, খোদ রাজধানীতে সরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অন্তত পাঁচটি জলাধার ভরাটের সত্যতা মিলিয়াছে, যেগুলির সহিত নাম জড়াইয়াছে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি), বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে কর্তৃপক্ষ ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) ন্যায় সরকারি প্রতিষ্ঠানের। ঢাকার বাহিরেও জলাধার ভরাটের অভিযোগ আছে সরকারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। বরিশাল সিটি করপোরেশনের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের হাসপাতাল সড়কে মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্র, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব পপুলেশন রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার (নিপোর্ট) ১৯ জানুয়ারি হইতে পুকুর ভরাট কার্যক্রম চালাইতেছে। বেসরকারি এক সংস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ৪০ বৎসরে প্রায় ২৪ সহস্র পুকুর-দিঘি ভরাট হইয়াছে চট্টগ্রামে, যেগুলির একটা অংশ গিয়াছে সরকারি সংস্থার দখলে। 

যাহা বিস্ময়কর, এই সকল জলাধার এমন সময়ে ভরাট হইয়াছে যখন জলাধারের অবাধ প্রবাহে বাধা না দিতে প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং বারংবার নির্দেশনা দিয়া যাইতেছেন। পক্ষান্তরে স্বীয় সহযোগী সংস্থাসমূহের এহেন আইন ভঙ্গের মুখে নৈতিক বল হারাইয়া জলাধার রক্ষায় নিয়োজিত সরকারি সংস্থাসমষ্টি বেসরকারি সংস্থাসমূহের জলাধার দখলকাণ্ডে শক্ত প্রতিরোধ দিতে অপারগ। ফলে রাজধানীসহ সারাদেশে ধুঁকিতেছে জলাধার; ধীরে ধীরে হারাইয়া যাইতেছে জলাশয়। পরিসংখ্যানও এহেন জলাশয়শূন্য হওয়ার প্রমাণ দিতেছে। ২৮ বৎসরের মধ্যে রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় জলাধারের পরিমাণ কমিয়া দাঁড়াইয়াছে ৭ ভাগের ১ ভাগে। গত ১৪ ডিসেম্বর প্রকাশিত বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) এক গবেষণায় বলা হইয়াছে, ১৯৯৫ সালে রাজধানী ঢাকায় জলাভূমি ছিল ২০ শতাংশের অধিক। ২০২৩ সালে উহা ৩ শতাংশের নিম্নে নামিয়াছে। হাওর এলাকায় গত তিন দশকে ৮৭ শতাংশ জলাভূমি হ্রাস পাইয়া হইয়াছে ৪০০ বর্গকিলোমিটার। 

সামান্য বৃষ্টিতেই ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন নগর ও শহরে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা ইতোমধ্যে সাধারণ দৃশ্যে পরিণত। জলাধার ভরাটই যে উহার মূল কারণ– তাহা বিলক্ষণ আমরা জানি। একই কারণে হাওর এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে বন্যার ব্যাপকতা প্রসারমান বলিয়া মত দিতেছেন বিশেষজ্ঞরা। দুঃখজনক হইল, এতৎসত্ত্বেও জলাশয় দখল ও ভরাটে ক্ষান্তি নাই। ফলস্বরূপ পরিবেশ-প্রতিবেশের বিপর্যয় ঘটিয়া একসময় ঢাকাসহ দেশের অনেক শহরই বসবাসের অনুপযোগী হইতে পারে। তাই অনতিবিলম্বে জলাশয় ভরাট বন্ধ নহে, বরং ইতোপূর্বে দখলকৃত জলাশয়সমূহও পুনরুদ্ধার করিয়া পূর্বাবস্থায় ফিরাইয়া লইতে হইবে। আমরা জানি, এই বিষয়ে উচ্চ আদালতের বহু নির্দেশনা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহের টনক নড়িতেছে না। তাই সচেতন নাগরিক, বিশেষত পরিবেশ অধিকার লইয়া কর্মরত বেসরকারি সংস্থাসমূহকে জলাধার ভরাটের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই এবং রাজপথে সোচ্চার থাকিতে হইবে।

আরও পড়ুন

×