ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

রক্ষক পূর্ত সচিব যখন ভক্ষক

রক্ষক পূর্ত সচিব যখন ভক্ষক

.

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ | ২৩:৪৯ | আপডেট: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ | ০৭:৩২

রাজধানীর বেইলি রোডে অত্যাধুনিক সরকারি ডুপ্লেক্স বাড়িতে নামমাত্র ভাড়ায় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিবের বসবাসের বিষয়টি দেশে খোদ রক্ষকের ভক্ষক হইবার আরেক নজির সৃষ্টি করিল। যথায় সরকারি নিয়মমাফিক রাজধানীতে সরকারি আবাসনে বসবাসরত অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর মাসিক মূল বেতনের ৬০ শতাংশ বাড়ি ভাড়া বাবদ কর্তন করা হয়; তথায় রবিবার প্রকাশিত সমকালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, উক্ত সচিবকে ঐ অভিজাত বাড়ির ভাড়া বাবদ দিতে হইতেছে মূল বেতনের মাত্র সাড়ে ৭ শতাংশ যাহা অঙ্কে মাত্র ৫ সহস্র ৮৫০ টাকা। প্রকৃতপক্ষে ধার্য হইবার কথা ছিল মূল বেতন ৭৮ সহস্র টাকার ৬০ শতাংশ, ৪৬ সহস্র ৮০০ টাকা। মন্ত্রণালয়ের সর্বোচ্চ কর্মকর্তা বলিয়াই কি প্রতি মাসে তিনি বাসা ভাড়া বাবদ প্রায় ৪১ সহস্র টাকা রেয়াত পান! উল্লেখ্য, নিয়ম অনুসারে বাড়িটির তত্ত্বাবধায়ক উক্ত সচিবেরই অধীনস্ত গণপূর্ত অধিদপ্তর, ভাড়া নির্ধারণ করে তাঁহারই অধীনস্ত অপর এক সংস্থা। সেই হিসাবে বলা যায়, সরকারি বাসা ভাড়া বাবদ অর্থ যথাযথ পরিমাণ ও প্রক্রিয়ায় উসুল হইতেছে কিনা উহা তদারকির দায়িত্ব যাঁহার, তিনিই স্বীয় স্বার্থে সংশ্লিষ্ট নিয়মের ব্যত্যয় ঘটাইয়াছেন।

স্মরণযোগ্য, এলাকা, ভবনের ধরন ও ব্যবহারযোগ্য পরিসর বিবেচনায় বিলাসবহুল বাড়িটির মাসিক ভাড়া বর্তমান বাজারমূল্যে অন্তত ৪৬ সহস্র টাকার দ্বিগুণ হইবার কথা। কিন্তু প্রায় জলদরতুল্য সেই ৪৬ সহস্র টাকাও উক্ত সচিব দিতে অসম্মত। সমকালের নিকট তিনি স্বীকার করিয়াছেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদিগকে তিনি বাড়িটি ব্যবহার বাবদ প্রতি মাসে তাঁহার মূল বেতনের ১৫ শতাংশ কর্তনের পরামর্শ দিয়াছিলেন, যদিও কবিতার সেই ‘বাবু যত বলে পারিষদ-দলে বলে তার শতগুণ’ কথাটির সত্যতা প্রমাণপূর্বক উক্ত কর্মকর্তাগণ নির্ধারণ করিয়াছেন উহার অর্ধেক। তবে ১৫ শতাংশই বা তিনি প্রস্তাব করেন কোন আইনবলে– এই প্রশ্ন তোলা নিশ্চয় বাহুল্য হইবে না। পূর্ত সচিব যে প্রক্রিয়ায় বাড়িটি বরাদ্দ লইয়াছেন, উহাকেও স্বাভাবিক বলা যায় না। প্রতিবেদনমতে, সংশ্লিষ্ট এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে বাড়িটির নিচতলায় একটি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র ছিল। উহা তত্ত্বাবধানের স্বার্থে দোতলায় সপরিবার থাকিতেন গণপূর্তেরই একজন নির্বাহী প্রকৌশলী। কিন্তু সচিবের মনোবাঞ্ছা পূরণ করিতে তথা হইতে এক প্রকার জোরপূর্বক ঐ প্রকৌশলীকে শুধু সরানোই হয় নাই; সম্পূর্ণ উপকেন্দ্রটিই হাওয়া করিয়া দেওয়া হইয়াছে।

যেই দেশে প্রভাবশালী মহল কর্তৃক শত-সহস্র কোটি রাষ্ট্রীয় টাকা অপচয়ের ঘটনা আকছার ঘটে, সেই দেশে পূর্ত সচিবের এহেন অবাঞ্ছিত সুযোগ-সুবিধা গ্রহণের কারণে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতি হয়তো বিরাট কিছু নহে। তবে রাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদিগের এহেন অগ্রহণযোগ্য আচরণ সাধারণভাবে নাগরিকদের মধ্যে এবং বিশেষত মাঠপ্রশাসনে আদর্শ কোনো বার্তা দেয় না– ইহাও স্বীকার করিতে হইবে। তাই যথাযথ তদন্তপূর্বক উক্ত অনিয়ম বন্ধে দ্রুত পদক্ষেপ গৃহীত হইবে বলিয়া আমরা মনে করি।

আরও পড়ুন

×